দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: যোগীরাজ্যের উন্নাওয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ধর্ষণ কাণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনেগারের স্ত্রীকে ভোটের টিকিট দিল বিজেপি। আর তাতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যজুরে। প্রশ্ন উঠছে তবে কি ধর্ষকরাই কি বিজেপির সম্পদ? কিছুদিন পরে যোগীরাজ্যের জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাঁচটি জেলায় ভোট। তার আগে বিতর্কিত কুলদীপের স্ত্রী পেলেন নির্বাচনে লড়ার অনুমোদন। প্রসঙ্গত, কুলদীপের স্ত্রী সঙ্গীতা ২০১৬ সালে জেলা পঞ্চায়েতের সভাপতি হয়েছিলেন। সেই সময়, বিধায়ক ছিলেন কুলদীপ।
প্রসঙ্গত, কুলদীপ সেনেগারকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে তিসহাজারি আদালত। ২০১৭ সালে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। কেবল তাই নয়, উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাবাকে খুনের দায়েও দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক। এই মামলার দোষী সাব্যস্ত কুলদীপের ভাই অতুল সেনেগার ও বাকি ছ’জনকেও একই সাজা শোনানো হয়েছিল। বর্তমানে কুলদীপ তিহার জেলে সাজা খাটছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেয় বিজেপি। তার আগে তার উত্তরপ্রদেশের বিধানসভার সদস্যপদও খারিজ করা হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কুলদীপকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও তার স্ত্রীকে কেন দল টিকিট দিল? দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্বতন্ত্র দেব সিং ও সচিব সুনীল বনশলই অনুমোদন দিয়েছেন সঙ্গীতার ভোটে দাঁড়ানোকে। আসলে কুলদীপ ও তার ভাই জেলে থাকলেও তাদের পরিবারের প্রভাব এখনও রয়েছে এলাকায়। ২০১৮ সালে কুলদীপের গ্রেপ্তারির পর থেকে এলাকায় তাদের পরিবারের উপরে অনেকেরই একটা সহানুভূতিও লক্ষ করা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেইসব ফ্যাক্টর বিচার করেই সঙ্গীতাকে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
প্রসঙ্গত, গোটা দেশে তোলপাড় ফেলে দেওয়া উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল বিজেপিকে। পরে তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটে সঙ্গীতাকে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া থেকে পরিষ্কার, স্থানীয় রাজনীতিতে কুলদীপের পরিবারের প্রভাবশালী থাকার সুযোগকে হাতছাড়া করতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির।

























