Wednesday, February 11, 2026
Latest Newsদেশফিচার নিউজ

সামাজিক দূরত্ব শিকেয়! নেতার বাড়িতে পরপর দু’দিন জন্মদিনের জমজমাট পার্টি

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : করোনাকে ঘিরে কত কড়া নিয়ম, কত অনুশাসন। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সবকিছুই যেন হয়ে যাচ্ছে ফস্কা গেরাে। কিছু ক্ষমতাবান সাহেবজাদা, রইসজাদারা সবকিছুকে বুড়াে আঙুল দেখিয়ে কাজকারবার চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের গতানুগতিক ঢংয়েই। পরিস্থিতি যতই ভয়ঙ্কর হােক তার নিজেদের স্বার্থ ও শখ-আহ্লাদে বিন্দুমাত্র কাটছাট করতে নারাজ।

রবিবার রাতে অসমের শিলচরের সেন্ট্রাল রোডে হােটেল সেন্টার প্যালেস-এ স্বপন
নায়ক নামে করােনা রােগীকে ঘিরে যখন চলছিল স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতামূলক
দৌড়ঝাঁপ, ঠিক তখনই লকডাউন ও কার্ফু চলাকালীন সব সরকারি বিধিনিয়ম
ভেঙে কাছেই এক প্রাসাদোপম বাড়িতে জন্মদিনের পার্টি চলছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, খানাপিনা ও রােশনাই-এর মাঝে জমজমাট পার্টিতে জড়াে হয়েছিলেন প্রায় পাঁচশত লােক। বাহিরে ছিল বহু গাড়ি। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে কোনও বালাই ছিল না তা বােধহয় বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

ওই বাড়ির কর্তা দোর্দণ্ডপ্রতাপ এক প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি। বিগত দিনেও নিজের
নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জেরে অনেকবারই তিনি এসেছেন খবরের শিরােনামে। জন্মদিন ছিল এই নেতারই। খবরের সূত্র অনুযায়ী, পার্টিতে সামিল হয়েছিলেন বরাক উপত্যকার অন্য এক জেলা থেকে আসা কিছু লােকও। ওই জেলার সঙ্গে নেতাবাবুর রয়েছে এক বিশেষ সম্পর্ক। নিমন্ত্রিতদের অনেকেই এসময় এতাটাই উশৃঙ্খল হয়ে ওঠেন যে, বেসামাল হয়ে জড়াজড়ি করে নাচানাচিও বাদ যায়নি। এতে সামিল হয়েছিলেন গৃহকর্তা নেতাবাবুও।

অবশ্য ওই নেতার বাড়িতে পার্টি যে শুধু রবিবার রাতেই হয়েছে এমন নয়। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এর আগের দিন শনিবার ছিল নেতার শিশুপুত্রের জন্মদিন। ওইদিনও বাড়িতে বসেছিল একই মাপের জমজমাট আসর। করােনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যেখানে এতােসব নিয়ম-নীতি বেঁধে দিয়েছে সেখানে নেতাবাবু কীভাবে একেবারে শহরের প্রাণকেন্দ্রে নিজের
বাড়িতে লাগাতার দু’দিন এতাে লােকের সমাগম ঘটিয়ে ছেলের ও নিজের
জন্মদিনের জমজমাট পার্টির আয়ােজন করতে পারলেন এনিয়ে বর্তমানে
এলাকায় চলছে জোর ফিসফিসানি।

জানা গেছে, কেউ কেউ এ নিয়ে নেতাবাবুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় বুড়াে আঙুল দেখিয়ে জবাব দিয়েছেন—তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাধ্য নেই কারােই।

অবশ্য শুধু যে ওই নেতাই সবকিছুকে বুড়াে আঙুল দেখিয়ে চলেছেন এমন নয়, শহরে রয়েছেন এমন আরও অনেকেই। বিশেষত কিছু বড় বড় কাপড়ের দোকানে বর্তমানে যেভাবে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন এতে চোখ কপালে উঠেছে অনেকেরই। কিভাবে এরা দোকান খােলার অনুমতি পেলেন, কিভাবেই বা এত লােক একসঙ্গে দোকানে ঢুকে কেনাকাটা করছেন এর জবাব খুঁজে পাচ্ছেন না কেউই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, করােনা ছড়ালে তাে ছড়িয়ে পড়তে পারে ওইসব দোকান বা নেতার বাড়িতে আয়ােজিত পার্টি থেকেই। তবে আর এতাে বাধানিষেধের কি প্রয়ােজন।

 

আরও খবরাখবর পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপে

Leave a Reply

error: Content is protected !!