Thursday, February 12, 2026
Latest Newsদেশফিচার নিউজ

লকডাউনে মুসলিমদের অবদানের ঢালাও প্রশংসা বিজেপি নেতার মুখে!

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতের পার্লামেন্টে শাসকদল বিজেপির মাত্র একজনই মুসলিম সংসদ সদস্য রয়েছেন। তিনি রাজ্যসভার সদস্য মুখতার আব্বাস নাকভি। তাঁকে বিজেপি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকে বসিয়েছে। তিনি অবশ্যই বিজেপি সরকারের ‛ডিফেন্ডার’ বা ‛রক্ষক’ হিসাবে যথেস্ট সুনাম কুড়িয়েছেন।

যখন মুসলমানদের একের পর এক লিঞ্চিং হচ্ছে, তাঁদের বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে, ‛করোনা ছড়াচ্ছ’ বলে পেটানো ছাড়াও গ্রেফতার করা হচ্ছে, মুসলিমদের কাছ থেকে সবজি বা ফল কিংবা দোকান থেকে কেনাকাটা না করার জন্য স্বয়ং বিজেপি বিধায়করা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে, তখন মুখতার আব্বাস নাকভি দেদার সার্টিফিকেট দিয়ে বসেছেন, ‛ভারতের মুসলমানরা জান্নাত বা স্বর্গে বসাবস করছে’।

সাচার কমিটির রিপোর্টের পর ভারতে মুসলমানদের চাকরি, রোজগার, শিক্ষা, বৈষম্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি পরিসংখানই তার প্রমান। সম্প্রতি দিল্লিতে তবলীগ জামাতের অনুষ্ঠান নিয়ে নকভি এই জমাতের সদস্যদের প্রতি প্রাণ খুলে নিন্দা মন্দ বাক্য উগরে দিয়েছেন।

যাই হোক, এই সংখ্যালঘু মুন্ত্রী নাকভি এবার লকডাউনের বাজারে এক ফিরিস্তি দিয়ে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলির ঢালাও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে হাজীদের আসা-যাওয়ার জন্য যে বড়ো বড়ো হজ ভবনগুলি রয়েছে, এমন ১৬টি হজ হাউস কোভিড-১৯ প্রভাবিত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশানে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এ কাজ অবশ্য শুরু হয়েছিল কলকাতার রাজারহাটে যে বিশাল হজভবন যা মদিনাতুল হুজ্জাজ নামে পরিচিত, তা সব থেকে আগে পশ্চিমবাংলার হাতে অর্পণ করা হয়।

নকভি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই হজ হাউসগুলিকে কোভিড-নাইনটিন নিয়ন্ত্রনে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলির রক্ষনাবেক্ষনের জন্য যে বোর্ডসমূহ রয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রী এবং মুখমন্ত্রীদের ত্রাণ তহবিলে এখনও পর্যন্ত ৫১কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।

এই অনুদান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও ত্রাণ কাজে ব্যবহৃত করা হবে। দেশের সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন ইসলামী, সামাজিক ও শিক্ষা সংগঠন ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান করছে। এগুলো ছাড়াও ধর্মীয় ওয়াকফ বোর্ডসমূহ অভাবগ্রস্থদের মধ্যে খাবার ও অত্যাবশ্যক সামগ্রী বিতরন করছে। আর ১,৫০০০রও বেশি ‛হেলথ কেয়ার এসিস্টেন্ট’ বা স্বাস্থ্য সহায়ক যাদেরকে সংখ্যালঘু দফতরে স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের দ্বারা ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল, তারা করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও তাদের নার্সিং-এ সহায়তা করছেন। এই হেলথ এসিস্টেন্টদের ৫০ শতাংশই হচ্ছে তরুনি।

এরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে কাজ করছে। আর এই বছর সংখ্যালঘু মন্ত্রক ২ হাজার হেলথ কেয়ার এসিস্টেন্টকে ট্রেনিং প্রদান করবে। মুখতার আব্বাস নকভি আরও জানান, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) ‛পিএম কেয়ার্স’ ফান্ডে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮০লক্ষ টাকা প্রদান করেছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কলেজ কোভিড-নাইনটিন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০০টি শয্যার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া এএমউ সম্ভাব্য আক্রান্তদের জন্য ৯হাজার কোভিড টেস্ট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

করোনা লকডাউনে মুসলিমদের কাজের আরও ফিরিস্তি দিয়ে সংখ্যালঘু মন্ত্রী নাকভি বলেন, আজমীর শরীফ দরগাহের খাজা মডেল স্কুল এবং কাইয়াদ বিস্রামস্থলীতে কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা করেছে। আজমীর শরীফ দরগাহের খাদিম বৃন্দ এবং সাজ্জাদনশিন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ৪ হাজার ৫০০ মানুষ যারা আটকে পড়েছিলেন, তাদের থাকা, খাওয়া এবং স্বাস্থ পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে। মানুষকে সাহায্য করতে দরগাহ কমিটি এজন্য ১ কোটিরও বেশি টাকা ব্যায় করেছে। সেখানে আটকে পড়া লোকেদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করাও দরগাহ শরীফের কাজের মধ্যে রয়েছে।

সংখ্যালঘু দফতর ‛শিখো অউর কমাও’ প্রকল্পের অধীনে ব্যাপক হারে মাস্ক তৈরি করছে। আর তা অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কেন্দ্র্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রী নাকভি আরও বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষই এই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাধ্যমত কাজ করে চলেছে। আর মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলিও এই লড়াইতে সমানভাবে নিজেদের অবদান রাখছে।

 

Support Free & Independent Journalism

Leave a Reply

error: Content is protected !!