দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে ২০২২-এর শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জেতাটা বিজেপির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশই এখন পাখির চোখ বিজেপির। সাধারণ ভাবে রাজনৈতিক মহলের একটি ধারণা হল, উত্তরপ্রদেশ যে দলের দখলে থাকবে, সেই দলই সাউথ ব্লক দখল করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর সাংসদ হওয়ার ফলে এই রাজ্যটির গুরুত্ব বিজেপির কাছে আরও বেশি।
আরএসএসের ঘরের ঘরের লোক অজয় বিশোয়াত ওরফে স্বঘোষিত ‘যোগী’ আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ওই রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে মুসলমান খুন হওয়া উত্তরপ্রদেশের নিত্যদিনের ঘটনা। কোভিড মোকাবিলায় যোগী সরকার এতটাই ব্যর্থ যে, শ্মশান, গোরস্থান পর্যন্ত খালি নেই মৃতদেহ সৎকারের জন্য। গঙ্গা নদীতে কোভিডে মৃত মানুষের লাশ ভেসে যাওয়াটাও এখন উত্তরপ্রদেশের একটা দৈনন্দিন চিত্র।
এই অবস্থায় সামনের বছরের শুরুতে যে বিধানসভার ভোট উত্তরপ্রদেশে হতে চলেছে, সেই ভোটে বিজেপির ভবিষ্যত ভেবে গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক অবস্থার জন্যে আরএসএস-বিজেপির মধ্যে তাদের সাংগঠনিক স্তরে পারস্পরিক দোষারোপও শুরু হয়ে গেছে। আদিত্যনাথ সঙ্ঘের নিয়ন্ত্রণ অপেক্ষা মোদির বেশি নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ার ফলে আরএসএস শিবিরে একটা বিরক্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অপরপক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক ব্যর্থতা জনিত পরিস্থিতির সুযোগে সঙ্ঘের ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় মোদি-শাহ জুটিও ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভের রেশ কেরলে সঙ্ঘ এবং বিজেপির সম্পর্কে ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে।
সঙ্ঘের যিনি নিজের লোক, সেই কৃষ্ণগোপাল এতদিন উত্তরপ্রদেশে আরএসএস এবং তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির ভিতরে সমন্বয়ের কাজ করছিল। তাঁর কাজ ঘিরে নাগপুরের কেশব ভবনে বেশ বিরক্তি তৈরি হয়েছিল। মোদি-শাহ-যোগী এতদিন সঙ্ঘের সেই বিরক্তিকে পাত্তা না দিলেও বিধানসভার নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন সঙ্ঘকে পুরোপুরি অস্বীকার করার ঝুঁকি মোদির নিয়ন্ত্রণাধীন বিজেপি নিতে চাইছে না। এর আগে দুই একজন পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে এমনকী সঙ্ঘের নিজের লোককে উপমুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব তুলেও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। তাই আরএসএসের সহ সরকার্যবাহ অরুণ কুমারকে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি এবং সঙ্ঘের ভিতর সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে দুই শিবিরই আপাতত মানরক্ষার পথে হাঁটল।
অনেকটা আধুনিক ম্যানেজমেন্টের কায়দায় অরুণ কুমার গত ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অবলুপ্তির পক্ষে গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবিরের প্রচার কর্মসূচি পরিচালনা করেছিলেন। ফলে অরুণ কুমারের দক্ষতা ঘিরে সঙ্ঘ এবং মোদি-শাহ জুটির একটা বড় রকমের আস্থা আছে। এই অরুণ কুমারকে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ও সঙ্ঘের ভিতরে সমন্বয়কারী বানিয়ে কতখানি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারে হিন্দুত্ববাদী শিবির, এখন সেটাই দেখার।



























