নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, লখনউ : ফের জেল থেকে চিঠি লিখলেন সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া গোরক্ষপুরের বরখাস্ত শিশু চিকিৎসক কাফিল খান। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে প্রশ্ন তুলেছেন – “আমি কি অপরাধী?” চিঠিতে তিনি এও জানিয়েছেন, মুক্তি পেলে বরং বন্যাদুর্গত কেরল, অসম ও বিহার সফর করতেন তিনি।
জেলবন্দি শিশু চিকিৎসক দু’পাতার ওই চিঠিতে লিখেছেন, “প্রিয় দেশবাসী। সরকার বলছে, আমাকে মুক্তি দেওয়া হলে নাকি রাজ্যের আইনি ব্যবস্থা বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কেন আমি আইন ভাঙব? আমি কি অপরাধী? আরে, জেল থেকে ছাড়া পেলে আমি কেরল, অসম ও বিহারে ছুটে যেতাম। কেননা বন্যার পরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারপর যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তা একজন ডাক্তার প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে রোধ করার চেষ্টা করে। করোনা ওয়ারিয়র হয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতাম। রিসার্চ করতাম, হয়তো কোনও নতুন ওষুধ, নতুন চিকিৎসা খুঁজতে সরকারের সাহায্য করতাম।”
ডাঃ কাফিল খান আরও লেখেন, “বিআরডি মেডিকেল কলেজে অক্সিজেন কাণ্ড এই আগস্টে ৩ বছর পূর্ন করল। বাচ্চাদের প্রাণ বাঁচাতে যে জীবন আমি লাগিয়েছিলাম, সরকারের রোষানলে পড়ে আমি নিজের বাচ্চাদের থেকেই দূরে হয়ে গিয়েছি। জেলের নিশ্চুপ দেওয়ালের পিছনে আমার মন স্ত্রী, মা, বাচ্চাদের জন্য ছটফট করে। না ঠিকমতো খেতে পারি, না কাঁদতে পারি। শুধু মনে হয়, তাঁদের বুকে জড়িয়ে খুব কাঁদি। মনে হয় মেয়ে, ছেলেদের ধরে ডুকরে ডুকরে কান্নাকাটি করি। শুনেছি, ছেলে কথা বলতে শিখে গেছে, চলতে শিখে গেছে। মনে হয়, মায়ের কোলে একটু আরামের ঘুম ঘুমায়। মনে হয় ভাই-বোনদের বুকে জড়িয়ে ধরে থাকি।”

তিনি লেখেন, “আমার বিয়ে ৫ বছর হয়েছে। তারমধ্যে আড়াই বছর আমি আমার স্ত্রীর থেকে দূরে জেলে কাটিয়েছি। কিন্তু সে খুবই স্ট্রং। আর আমার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। আমার পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভাইয়ের উপর হামলা হয়েছে। বড় ভাইয়ের ব্যবসা বরবাদ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিম্ন কোর্ট থেকে হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে ঘোরানো হচ্ছে। কেন? কিসের ভয় এই সরকারের? সরকারের কি এমন করেছি আমি যে আমার উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন চাপানো হয়েছে? তবে আপনাদের সবার ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। আশা করি মুক্তি মিলবে, আবার দেশের সেবা করতে পারব। আশা করি, এবার নিজের বাচ্চার জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে পারব। জয় হিন্দ, জয় ভারত। – ডাঃ কাফিল খান।”

























