দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি আরও অস্বস্তিতে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়ানোয় আরও ৭ জন নেতাকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করল বিজেপি। টিকিট না পেয়ে নেতা কর্মীদের অসন্তোষের আগুনে যাতে দলের মুখ না পোড়ে, তার জন্য কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দল। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও প্রার্থীপদ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল বিজেপির অন্দরে। তবে এভাবে এতজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হয়নি।
এর আগে গত মাসে অসমে বিজেপি ১৫ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিদ্রোহের ফল স্পরূপ। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার দিলীপ কুমার পালও। এরপর ফের ভোটের মাঝে ৭ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা করলেন অসম বিজেপির সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস।
এদিকে দলের টিকিট না পাওয়ায় দল ছেড়েছিলেন বিদায়ি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। পরবর্তীতে বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁকে বুঝিয়ে দলে ফেরান। পরে শিলাদিত্য ঘোষণা করেন যে তিনি দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবেন। উল্লেখ্য, শিলাদিত্য নিজে আরএসএস থেকে বিজেপিতে আসেন। তবে বাকি বিদ্রোহী নেতাদের বোঝাতে কালঘাম ছুটেছে দলের। আর তাই এবার কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
উল্লেখ্য, চলতি নির্বাচনে অসমের ১০ জন বিদায়ি বিধায়ককে টিকিট দেয়নি দল। এর মধ্যে অন্যতম হলেন মন্ত্রী সুম রোংহ্যাং। তিনি পড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। অসমের মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি লড়ছে ৯২টিতে। ২৬টি আসনে লড়ছে অসম গণ পরিষদ। এছাড়া ৮টি আসনে লড়ছে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবেরাল।
ইতিমধ্যেই ২৭ মার্চ প্রথম অধ্যায়ে সেরাজ্যের ১২টি জেলার ৪৭টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও দুই দফা ভোটগ্রহণ। অসমে দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল ১৩টি জেলার ৩৯টি বিধানসভা আসনে হবে ভোটগ্রহণ৷ আর ৬ এপ্রিল হবে ১২টি জেলার ৪০টি বিধানসভা আসনে৷ ফলপ্রকাশ ২ মে৷
কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের পর ২০১৬ সালে ইতিহাস রচনা করে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি৷ বিজেপি ও তাদের শরিক অগপ এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট অসমের ১২৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৮৬টিতে জয়লাভ করে৷ বিজেপি জেতে ৬০টি, অগপ ১৪টি এবং বিপিএফ জেতে ১২টি আসনে৷ তরুণ গগৈয়ের নেতৃত্বে টানা তিনবার সরকার চালানো কংগ্রেস জেতে মাত্র ২৬টি আসনে৷


























