Tuesday, March 3, 2026
Latest Newsআন্তর্জাতিকফিচার নিউজ

কাফিল, সারজিল, সফুরাদের মুক্তি দিন! অমিত শাহকে কড়া চিঠি ইউরোপীয় সংসদের

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : আনন্দ তেলতুম্বেড ও গৌতম নাভালখার মতো মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখল ইউরোপীয় সংসদের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিটি। এই চিঠিতে দিল্লি পুলিশ দ্বারা বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতার গ্রেফতারের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার কমিটি বিশ্বব্যাপী মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে এবং যেখানেই তা লঙ্ঘিত হয় সেদিকে তাঁরা খেয়াল রাখে।

ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটির অধ্যক্ষ মেরি অ্যারেনা লিখেছেন, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দ্বারা আনন্দ তেলতুম্বেড ও গৌতম নাভালখার মতো নেতাকর্মীদের গ্রেফতার একটি গুরুতর বিষয়। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, মানবাধিকারকর্মীদের শোষণ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে যার কারণে তারা প্রান্তিক শ্রেণীর লোকদের পক্ষে কথা বলতে পারছেন না। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‛এই নেতাকর্মীদের নীরব করতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এবং ইউএপিএ-এর মতো আইন ব্যবহার করা হচ্ছে।’

২০১৪ সাল থেকে ইউরোপীয় সংসদের সদস্য, বেলজিয়ামের মেরি অ্যারেনা চিঠিতে বলেছেন, ইউরোপীয় সংসদ বুঝতে পেরেছে যে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মতো মোদী সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মানুষদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অমিত শাহকে লেখা এই চিঠিতে অ্যারেনা বলেন, ‛সফুরা জারগার, গুলশিফা ফাতিমা, খালিদ সাইফি, মিরান হায়দার, শিফাউর রহমান, ডাঃ কাফিল খান, আসিফ ইকবাল এবং সারজিল ইমামের মতো অনেক লোককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।’ চিঠিতে লেখা হয়েছে, এসব দেখে মনে হচ্ছে যে কিছু আইন সরকারকে স্বেচ্ছাচারিতার অধিকার দিয়েছে, যা সরকারী সংস্থাগুলি অপব্যবহার করছে। ইউএপিএ-র অপব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে অ্যারেনা বলেছেন যে, ইউএপিএ-র বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সরকারী সংস্থাগুলিকে সীমাবদ্ধ ক্ষমতা দিয়েছে যা নির্বিচারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

চিঠিতে অ্যারেনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে মানবাধিকার কর্মীদের কাজকে অপরাধীকরণের প্ৰচেষ্টা বন্ধ করা যায় এবং তাদের স্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান করা যায়। সরকারী নীতিমালার দিকে আঙ্গুল তুলে ধরে অ্যারেনা বলেন, ‛ভারতের উচিত নাগরিক সমাজের কাজের মূল্য দেওয়া এবং এমন আইন করা যাতে এই লোকদের সাথে কাজ করা সহজ হয়। পাশাপাশি তাঁদের সুরক্ষা প্রদান করাও জরুরি।’

করোনার সঙ্কটে লোকেরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তার দিকে ইঙ্গিত করে অ্যারেনা বলেন, অমিত শাহকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, মহামারী রোধে যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তার অংশ হিসাবে রাষ্ট্রসংঘও বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলছে। চিঠিতে অ্যারেনা লিখেছেন, ‛ভারতে বৈষম্য ছাড়াই মানবাধিকার রক্ষা করা এবং সুপ্রিমকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে আটককৃতদের মুক্তি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

 

আরও খবরাখবর পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপে

Leave a Reply

error: Content is protected !!