দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে নির্বাচন। ঠিক তার আগের দিন জমি আন্দোলনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিঙ্গুরে সভা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের সেই সভা থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য বেঁধে দিলেন দলনেত্রী। বললেন, “আমাদের ২২৫-২৩০টি আসনে জিততে হবে। নয়তো ওরা লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা ছড়িয়ে গদ্দার-মীরজাফরদের কিনে নেবে। তাই অনেক বেশি ভোটে, বেশি আসনে তৃণমূলকে জেতাতে হবে।”
এদিনের নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। টাকা ছড়িয়ে ভোট প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকী, অভিযোগ জানানোর পরও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও সরব হয়েছেন মমতা। সিঙ্গুরের সভা থেকে তাঁর অভিযোগ, “ঘোড়া কেনাবেচা হচ্ছে। লক্ষ-লক্ষ টাকা নিয়ে হোটেলে বসে রয়েছেন বিজেপির নেতারা। কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।” এর পর সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার আবেদন জানান নির্বাচন কমিশনের কাছে। এদিনের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশন কেন কোনও চেকিং করছে না। কোথায় আপনাদের নাকা চেকিং?” শেষে মমতার আবেদন, “আপনাদের কাছে একান্ত অনুরোধ, স্বচ্ছ নির্বাচন করুন।”
অন্য দলের নেতা ভাঙিয়ে বিজেপি প্রার্থী করছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী। বললেন, “সব ধার করা প্রার্থী। আমাদের দলের কিছু গদ্দার-মীরজাফরদের নিয়ে গিয়ে প্রার্থী করেছে। কাদের নিয়ে বাংলা দখল করবে? গদ্দার-মীরজাফরদের নিয়ে?” এর পরই গেরুয়া শিবিরকে তৃণমূল নেত্রীর ব্যঙ্গ, “দয়া করে আর ধার চাহিয়া লজ্জা দেবেন না। ” এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী সিঙ্গুরের বিজেপি প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ওরফে মাস্টারমশাইয়ের কথা তুলে আনেন। পরিচয় দিলেন অসাধারণ রাজনৈতিক সৌজন্যের। মমতার কথায়, “আমাদের ৯২ বছরের মাস্টারমশাইকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দিল। গরমে কষ্ট হচ্ছে না লোকটার? কোথায় তাঁর সেবা করবেন, তা নয়। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামিয়ে দিলেন।” উল্লেখ করলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কথাও। মমতার কটাক্ষ, “ছিলেন সাংসদ, তাঁকে নির্বাচন লড়তে পাঠিয়ে দিল। ছিল বাঘ হয়ে গেল বিড়াল।” শেষে মমতার কটাক্ষ, “যাঁরা পুরনো দিন থেকে বিজেপি করছে, তাঁরা কেঁদে মরছে।”


























