দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: ‘সেন্ট্রাল ফোর্টেস অব ডেথ’ নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বপ্নের সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্পের শুনানিতে ঠিক এই উক্তিটিই করল দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবারের শুনানি ছিল একেবারে উত্তপ্ত। হিটলারের আউশভিৎজ় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সমতুল্য বলা হয়েছে এই ভিস্টাকে। অর্থাৎ বিচারকদের কথায় সেন্ট্রাল ভিস্টা নামের ‘মৃত্যুদুর্গ’ তৈরি হচ্ছে দিল্লিতে। তবে এখনও চূড়ান্ত রায়দান করেনি আদালত।
সোমবার প্রধান বিচারপতি ডি এন প্যাটেল এবং বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্প মামলার শুনানিতে তাঁদের রায় দিয়েছেন। আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন বরিষ্ঠ বিচারক সিদ্ধার্থ লুথ্রা। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা যিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, শাপুরজী পালনজি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিনিধি ছিলেন বিচারক মণিন্দর সিং।
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য, ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়ে একাংশ শুরু থেকেই আপত্তি করছে। এই কাজ বন্ধ হওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই কাজ চলছে। নানা অজুহাত টেনে এনে এই প্রকল্প বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্র ওই এলাকায় কোভিড বিধি পালনের সবরকম ব্যবস্থা করেছে। এমনকি তিনি বলেন, সরকারের কাজে বাঁধা দেওয়ার জন্য মামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। এই মামলাটি এখনই খারিজ করে দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, প্রকল্পের বরাত পাওয়া শাপুরজি পালনজি সংস্থাও জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতা করেছে।
মামলাকারীদের দাবি ছিল, কোভিড পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথ্রা বলেন, দিল্লির মানুষের জনস্বাস্থ্যের দিকটা ভাবতে হবে। শ্রমিকদের জন্য শুধু তাঁবু রাখা হয়েছে। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে। বিছানাপত্র কিছুই নেই সেখানে। চিকিৎসার পরিষেবা, কোভিড বিধি নিয়ে মিথ্যে বলছে কেন্দ্র। এই প্রসঙ্গেই নরেন্দ্রমোদীর সেন্ট্রাল ভিস্টাকে ‘সেন্ট্রাল ফোর্টেস অব ডেথ’ অর্থাৎ ‘কেন্দ্রীয় মৃত্যুদুর্গ’ বলেছেন। ইতিমধ্য, মোদী সরকার এই প্রকল্পকে ‘অত্যাবশ্যকীয় প্রকল্প’ বলে ঘোষণা করেছেন। তার জন্য ডেডলাইনও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, একাংশের মতে ২০২২-এ স্বাধীনতার ৭৫-তম বছরে কোটি কোটি টাকা ঢেলে সাজানো রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
সেন্ট্রাল ভিস্টা তৈরি করতে গিয়ে ভাঙা পড়বে দিল্লির ভারতীয় জাদুঘর, ইন্দিরা গাঁধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্টস ও ন্যাশনাল আর্কাইভের অ্যানেক্স ভবন। এই কারণে রোমিলা থাপার, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, ওরহান পামুক সহ অবসরপ্রাপ্ত ফৌজিরাও মোদী সরকারের কাছে এই প্রকল্প বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন।


























