নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, থানারপাড়া : করোনার আতঙ্কের মাঝেই মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছে নদিয়ার একদল যুবক। থানারপাড়ার গমাখালীর ওই যুবকরা ‛থানারপাড়া রিলিফ ওয়ার্ক’ নামে একটি তহবিল গঠন করে শুরু করেছে ত্রাণের কাজ। গত ১১ই এপ্রিল থেকে আজ অব্দি টানা ৬০দিন চলছে তাদের খাবার বন্টন কর্মসূচি।

লকডাউনের শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চিন্তিত করে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে চাল, ডাল, আলু, তেল, সয়াবিন, সার্ফ, সাবান, চিনি সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী। রোজার মাসে দরিদ্রদের দেওয়া হয়েছে ফলও। যুবকদের উদ্যোগে খুশি হয়ে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এলাকার হৃদয়বানরা। কেউ কিনে দিচ্ছেন চাল, আলু, কেউবা দিচ্ছেন জমির পিঁয়াজ।

আর সেই সব দ্রব্যগুলি এক জায়গায় করে প্রান্তিক পরিবারগুলির বাড়িতে দিয়ে আসছে সফিকুল, বজলু, শান্তনু, জুয়েল, মনিরুল, সৌরভ, তমেশ, মুন্না, রোমিও, ওয়াসিমরা। কিন্তু তারা কোন ভুক্তভোগীর ছবি তুলতে চায়নি। তাদের বক্তব্য, এটা তাদের প্রাপ্য অধিকার, কোন করুণা নয়।
খুরশেদ সেখ নামে এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ত্রাণের কাজ করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে অনেক দরিদ্র মানুষ জীবনদায়ী ঔষধের সংকটে ভুগছিলেন। প্রশাসনকে পাশে নিয়ে আমরা তাদের ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সেই সাথে পথচলতি মানুষদের সচেতন করতে আমরা তাদের হাত স্যানিটাইজ করে পরিয়ে দিয়েছি মাস্কও।

রিলিফের কনভেনর আব্দুল মজিদ মন্ডল জানিয়েছেন, ধর্ম-জাতপাত-রাজনীতি ভুলে প্রায় ১৫ কিমি এলাকা জুড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। রোজার মাসে দেওয়া হয়েছে ফলও। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে নিজেদের শ্রম-অর্থ দিয়েই ফান্ডটি গঠন করে। পরে এলাকার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একাজে আজ অব্দি তারা কোন সরকারি সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি।

রিলিফের স্বেচ্ছাসেবকদের অন্যতম আজিজ মন্ডল বলেন, টানা দু’মাস ধরে চলছে আমাদের ত্রাণের কাজ। যারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ, প্রয়োজন কিন্তু চাইতে পারছেন না তাদেরকেই প্রথমে অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমরা। আমাদের কেউ সাইকেল, টোটো, বাইক ও রিকশা ভ্যানে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে দ্রব্যগুলি। এপর্যন্ত প্রায় ৫১০টি পরিবারকে খাবার দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও চলবে।

আর এই যুবকদের কাজে মুগ্ধ হয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেন নি থানারপাড়া থানার ওসি সুমিত কুমার ঘোষ। পাশে থাকার বার্তা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের নিজ হাতে পরিয়ে দিয়েছেন মাস্ক।

‛থানারপাড়া রিলিফ ওয়ার্ক’ নামে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে তাদের কাজের ভিডিও ছবি পোস্ট করা হয় নিয়মিত। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি কোন গ্রহীতার ছবি। যা দেখে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার যুবকরা উজ্জীবিত হয়ে নিজ নিজ এলাকায় শুরু করেন ত্রাণের কাজ। এলাকাবাসীরা বলছেন, গমাখালীর যুবকদের এই উদ্যোগে রাজনীতি-ধর্ম-ভেদাভেদ ভুলে একত্রে মিলিত হয়েছে সব শ্রেণীর মানুষ। যা নিঃসন্দেহে প্রেরণা যোগাবে আগামী প্রজন্মদের মাঝে।




















