নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, কলকাতা : অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিমকোর্ট যে রায় প্রদান করেছে তা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে দেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া। সংগঠনটির মতে, এই রায় ন্যায়বিচারপূর্ণ নয় বরং রাজনৈতিক। এই রায় প্রদান করতে গিয়ে সুপ্রিমকোর্টের যুক্তি উপস্থাপন আমাদেরকে হতভম্ভ করেছে বলেও জানিয়েছে এসআইও।
শীর্ষ আদালতের যুক্তি –
বাবরি মসজিদ কখনই মসজিদ হিসাবে বন্ধ হয়নি, এটা কখনই পরিত্যক্ত ছিল না এবং মসজিদ ধ্বংস করা আইনের লঙ্ঘন, কিন্তু মুসলিমরা দাবি করতে পারে না যে এই জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মসজিদ কোনও ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ করা হয়নি এবং তার আগের কাঠামো ইসলামিক ছিল না, কিন্তু কোও প্রমান পাওয়া যায়নি যে সেখানে মন্দির ছিল।
বিশ্বাস নয় বরং প্রমানের ভিত্তিতেই বিচার করা হবে, কিন্তু হিন্দুদের অনস্বীকার্য বিশ্বাস ‘সেটাই ছিল রামের জন্মস্থান’ এই কথাকে সুপ্রিমকোর্ট পুনরাবৃত্তি করেছে।
ইংরেজদের ভারতে আসার পূর্বেও মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করা হত এবং মসজিদের বাইরের প্রাঙ্গনে পূজা করা হত। কিন্তু দুই পক্ষের দাবির ‘ভারসাম্য’ রাখতে পুরো জমিটাই এখন হিন্দুদের দিয়ে দিতে হবে।
এসআইও নিজেদের প্রেস রিলিজে জানিয়েছে, ‛‛বাবরি মসজিদের দাবি ২.৭ একর বা ৫ একর জমির জন্য নয়। এই দাবির মূল প্রশ্ন হল যে বাবরি মসজিদ কোনও মন্দির ভেঙে নির্মিত হয়েছে কি না। মুসলিম পক্ষের দাবি একটাই যে কোনও মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করা হয়নি এবং যদি মন্দির ভেঙেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়ে থাকে তবে তারা সমস্ত দাবি পরিত্যাগ করবে। যেহেতু এটা প্রমাণিত নয় যে ওই জায়গায় পূর্বে কোন মন্দির বর্তমান ছিল। এবং প্রকৃত পক্ষে স্বীকার করা হয়েছে যে মসজিদ ধ্বংস করা আইনের লঙ্ঘন। তারপরেও পুরো জমিটা মন্দির নির্মাণের জন্য প্রদান করা কখনই সুবিচার নয়। মসজিদ ধ্বংস করার অপরাধ ৫ একর কেন ৫০ একর জমি দিয়েও ভারসাম্য করা যাবেনা এবং আমরা এই রূপ ভারসাম্য করার অর্থ খুঁজতে ব্যর্থ।’’

এসআইও’র অভিযোগ, বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা আইনের লঙ্ঘন মেনে নেওয়ার পরও অপরাধীদের কোন শাস্তি দেওয়া হয়নি অথবা সেই মামলা দ্রুত সম্পন্ন করার কোন নির্দেশও প্রদান করা হয়নি। এসআইও দাবি জানায় যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসকাণ্ডে জড়িত সমস্ত অপরাধী, ব্যক্তি এবং সংগঠনকে মসজিদ ধ্বংস, দাঙ্গা লাগানো এবং রক্তপাতের জন্য বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

এসআইও’র কথায়, ‛‛আমরা মনে করি যে, সত্যিকারের অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠা সুবিচার কায়েম ছাড়া সম্ভব নয় এবং সেই সুবিচার সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সত্যের ভিত্তিতে রায় প্রদান করতে ব্যর্থ। আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমরা এই রায় মেনে নিচ্ছি, কিন্তু এটা কখনই সুবিচার নয়। স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া সমস্ত মানুষের কাছে আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে অনুরোধ করছে এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে আহবান জানাচ্ছে।’’
সব খবর পড়তে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন – এখানে ক্লিক করুন



















