Wednesday, February 11, 2026
Latest Newsফিচার নিউজরাজ্য

‘রক্তের ধর্ম হয় না’ – রোজা ভেঙে হিন্দু পৌঢ়াকে বাঁচালেন মুসলিম গৃহবধূ

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : রোজা ভেঙে হিন্দু ঘরের এক পৌঢ়াকে রক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ রূম্পা খন্দকার। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাটে। জোৎস্না রায়, ৬০ বছর বয়স। কয়েক মাস ধরে তিনি কিডনির রোগে আক্রান্ত। মাসে তিন বার জোৎস্নাদেবীর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ইদানিং জোৎস্নাদেবীর শরীরের অবস্থা যথেষ্টই সংকটজনক হতে শুরু করে। রানাঘাটের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।

নার্সিংহোমে ভর্তি করার পরই চিকিৎসকরা জানান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জোৎস্না রায়কে রক্ত দিতে হবে। তাঁর রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। করোনার জেরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের সংকট। মায়ের রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় জোৎস্নাদেবীর বিবাহিত মেয়ে বিশাখা পান্ডেকে। এই অবস্থায় একটি সংগঠনের সন্ধান পান জোৎস্নাদেবীর মেয়ে। রানাঘাটে এই সংগঠনটি তৈরি হয়েছে করোনা মোকাবিলার জন্য।

এই সংগঠনের কাজ হল করোনার সময় চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা। কোনও জায়গায় রক্ত না পেয়ে ওই সংগঠনটির কাছে মায়ের ও পজিটিভ রক্তের জন্য লিখিত আবেদন করেন জোৎস্নাদেবীর মেয়ে। সেই সংগঠনের এক সদস্যা রুম্পা খন্দকার। বাড়ি রানাঘাট থানার কামারপাড়ায়। রক্তের জন্য মায়ের মত এক বৃদ্ধার প্রাণ সংশয়। এটা জানতে পেরেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রুম্পা খন্দকার।

চলছে মুসলিমদের পবিত্র মাস মাহে রমজান। এমতাবস্থায় রোজা করেছেন রূম্পা খন্দকার। কিন্তু সব ভুলে রোজা ভেঙে সংকটজনক জোৎস্না রায়কে রক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ রুম্পা। রানাঘাট হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই রক্ত দিতে দিতে রুম্পা জানান, ‛রক্তের রং একটাই লাল। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হিন্দু বা মুসলিম এই ভেদাভেদ করা উচিত নয়। রোজা আগামী বছরও করতে পারব। কিন্তু এক বোতল রক্ত দিয়ে এক মুহূর্ষ রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে অনেক বেশি পূণ্য অর্জন করেছি।’

 

Support Free & Independent Journalism

Leave a Reply

error: Content is protected !!