Latest Newsদেশফিচার নিউজ

হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য শুধুমাত্র মুহাম্মদ সাঃ–কে বেছে নেওয়া হয় কেন? জবাব আলমগীর সরদারের

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বে এতো মহাপুরুষ থাকতে শুধুমাত্র মুহাম্মদ সাঃ–কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বেছে নেওয়া হয় কেন? দুনিয়া জুড়ে নবী সাঃ–কে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ছবি ও চলমান প্রতিবাদী আন্দোলন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার। এক বিবৃতিতে আলমগীর সরদার জানান, “আসলে এই বিষয়ে যারা পক্ষে বিপক্ষে প্রতিবাদ করছে তাদের অধিকাংশেরই ইসলাম সম্পর্কে ধারণা খুব বেশি স্বচ্ছ নয় বলে আমার মনে হয়েছে।”

কিন্তু কেন তিনি এমনটা বলছেন? আহলে হাদিসের সম্পাদকের জবাব, “আমরা প্রত্যেকেই জানি কিছুদিন আগে ফ্রান্সে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে মুন্ডু কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী একজন চেচেন যুবক। এবং সে একজন ছাত্র। খবরে প্রকাশ ঐ শিক্ষক নাকি প্রতিনিয়ত তাঁর ক্লাসে নবী সাঃ সম্পর্কে ব্যাঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশ করতেন। সেজন্য সে তার শিক্ষককে হত্যা করেছে। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। কিন্তু এই ঘটনাকে সে দেশের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছেন।

তাঁর ভাষ্যমতে ইসলাম একটি অসহিষ্ণু ধর্ম এবং ইসলাম নাকি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় বা মুক্তমনের চর্চার সুযোগ দেয়না। সেই সঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন ইসলাম তার দেশ সহ গোটা বিশ্বের জন্য নাকি হুমকি স্বরূপ। সে জন্য তিনি ইতিমধ্যে তাঁর দেশে বহু মসজিদ বন্ধ করেছেন এবং নির্বিচারে নিরীহ মুসলিমদের ধরপাকড় করছেন। সাথে সাথে মুহাম্মদ সাঃ–এর ব্যাঙ্গাত্মক ছবি সারাদেশে প্রদর্শন করেছেন। ফলে বিশ্বের বহু দেশ ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করেছে। এমনকি ব্যক্তি উদ্যোগেও তাদের পণ্য বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনার মূল সূত্রপাত একটি ছবি। শুধু ছবি নয় ব্যাঙ্গাত্মক একটি ছবি এবং সে ছবি যার তার ছবি নয়, লক্ষ কোটি মানুষের পরমপ্রিয় একজন মহামানবের ছবি।

আলমগীরের আরও মন্তব্য, “আচ্ছা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কি এটাই যে কেউ কারোর মায়ের কিংবা কারোর নিকটাত্মীয়র নগ্ন ছবি এঁকে তা প্রকাশ করবে? আর এটাকে কি মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে হবে? সাধারণভাবে কেউ চায়না যে তাঁর নিকটাত্মীয়র নোংরা ছবি কেউ প্রকাশ করুক। এটা যেমন কেউ মেনে নিতে পারে না, মুসলিমরা ঠিক তদ্রুপ নয়, তার চেয়ে শতগুনে বেশি প্রাণাধিক প্রিয় মনে করে নবী সাঃ–কে। সুতরাং তাঁর ব্যাঙ্গাত্মক ছবি মুসলিমরা মেনে নেবে না এটাই স্বাভাবিক। আচ্ছা বলুন তো, বিশ্বে এতো মহাপুরুষ থাকতে শুধুমাত্র মুহাম্মদ সাঃ–কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বেছে নেওয়া হয় কেন? একদিকে তারা আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে, আবার ধৈর্য হারা হলেই আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে ইসলামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও জানান, “সাথে সাথে বলতে হয় চেচনিয়ার ছেলেটি যে কাজ করেছে সেটাও সমর্থন যোগ্য নয়। কারণ, ইসলাম এমন ঠুনকো ধর্ম নয় যে, কেউ একটা ছবি এঁকে দিলো আর ইসলাম ধর্ম খারাপ হয়ে গেলো, তা কিন্তু নয়। তবে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেড়ে চলা অত্যাচারে আমি আশ্চর্যবোধ করিনা। কারণ, ইসলামের প্রতি এই অত্যাচার আগামী দিনের সোনালী সূর্যের আগমনী বার্তা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ, বর্তমান বিশ্বে বহু রাষ্ট্রনেতা তার বিরোধী দলকে যত না আক্রমণ করেন তারচেয়ে শতগুনে বেশি আক্রমণ করে ইসলামের প্রতি।”

আলমগীর বলছেন, “রাজনীতিতে চিরাচরিত নিয়ম হলো বিরোধীদের আক্রমণ করা। কিন্তু তারা তা ভুলে গিয়ে ইসলামের প্রতি আক্রমণ শুরু করেছে। এ থেকে সহজেই অনুমিত হয় যে আগামী দিনের সূর্য ইসলামেরই সূর্য। এতো অত্যাচারের পরও দিনে দিনে বেড়ে চলা ধর্মের নাম ইসলাম। যতই অপপ্রচার করা হোক না কেন, আদর্শের ক্ষেত্রে ইসলামের নাগপাশে কোনোও আদর্শ নেই। সে জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে বহু শাসক তা সহ্য করতে পারছে না। তারই একটি অংশ আজকের ফ্রান্স। তাই মুসলিমদের বলবো ধৈর্য ধারণ করতে এবং তাদের দ্বারা এমন কোনো আচরণ যেন না হয় যাতে অমুসলিমরা ইসলামের বদনাম করতে পারে।”

 

Leave a Reply

error: Content is protected !!