নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, কলকাতা: সরকারি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অসম ভবন অভিযান করবে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন। আগামীকাল ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাবে সংগঠনটি। অসমের শিক্ষামন্ত্রী ও দাপুটে বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, মাদ্রাসা ও টোল বন্ধ হবে। কিন্তু মুসলিম নেতাদের প্রশ্ন, এদেশে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা-সংস্কৃতি সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ কেন?
সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,”কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের আবেগকে নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। ভোটের আগে অসমে মাদ্রাসা ইস্যু এনে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। বিজেপি শাসিত অসম সরকারের জানা উচিত, মাদ্রাসা তৈরি সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে,সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে, সরকার সেক্ষেত্রে আর্থিক বৈষম্য করতে পারবে না। তাই মাদ্রাসা বন্ধ যারা করতে চাইছে তারা সংবিধান মানছে না।
জানা গেছে, অসম ভবন অভিযানের দিন স্মারকলিপি দিয়ে অসম সরকারের কাছে মাদ্রাসা বন্ধের সাংবিধানিক কারণ জানতে চাওয়া হবে। মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, আন্দোলন ছাড়া অধিকার রক্ষিত হবেনা। আমাদের দেশের সংবিধানের ৩০ ধারায় যে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং যারা ভাষাগত সংখ্যালঘু তাদেরও নিজেস্ব সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য সংবিধান নিজেদের পছন্দমত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার স্বাধীনতা দিয়েছে।
এক্ষেত্রে স্পষ্ট বলা আছে যে, সরকার কোনোভাবেই বেসরকারি বা সংখ্যালঘুদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে পারবে না। তারপরেও বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে মুসলিম বিদ্বেষকে আরও বিস্তার ঘটানোর জন্য একের পর এক তারা এভাবে সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করার জন্য বঞ্চিত করার জন্য, অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। ইতিমধ্যেই আসামের শিক্ষাপ্রেমী মানুষ আন্দোলন করছে, তাদের পাশে আমরা আছি।
তিনি আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ ব্যস্ত রোগের বিরুদ্ধে লড়তে আর বিজেপি ব্যস্ত নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি করতে। এক্ষেত্রে দেশের জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না। জনগণ কিন্তু সব দেখছে।
























