Latest Newsফিচার নিউজরাজ্য

ভদ্রেশ্বরে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা, পরিদর্শনে গিয়ে আক্রমণের শিকার জামাআত প্রতিনিধিরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, ভদ্রেশ্বর : হুগলির ভদ্রেশ্বর, তেলিনী পাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামাআতে ইসলামি হিন্দ। জামাআতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন, দেশ যখন করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার চেষ্টা করছে তখন একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টায় সদা তৎপর এবং দাঙ্গা সৃষ্টি করে বাংলার পরিবেশকে বিষাক্ত করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর থানার তেলিনী পাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ধরনের ঘৃণ্য তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত উস্কানি সৃষ্টি করে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি পরিকল্পিত ভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের উপরে বিভিন্ন ভাবে হামলা চালিয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তিনি বলেন, একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি পরিকল্পনা করেই করোনার আবহে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষ সমাজে ছড়াতে চাইছে।

আজকে জামাআতে ইসলামি হিন্দের পক্ষ থেকে রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য সাদাব মাসুমের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শন ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারের সাথে সাক্ষাত করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে ডেপুটেশন প্রদানে গেলে প্রতিনিধি দলের গাড়িতে আক্রমন চালায় ওই উস্কানি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। যদিও অল্পের জন্য রক্ষা পায় জামাআত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কেউ জখম বা আহত হননি।

এই আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জামাআতের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক। তিনি এই ঘটনাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া ভাবে সম্প্রদায়িক শক্তি ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সাদাব মাসুম জানান, চন্দননগর পুলিশ কমিশনার হুমায়ূন কবিরকে লিখিতভাবে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত দাঙ্গা কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। সাদাব মাসুম সাহেব আরো জানান – ভদ্রেশ্বর থানায় একইভাবে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন রাজ্য জনসংযোগ বিভাগের সহকারী সুজাউদ্দিন আহমেদ, কলকাতা জামাআতের সহ সভাপতি জাভেদ খান, হুগলি জামাআতের অন্যতম সদস্য মাওলানা রিয়াজউদ্দিন ফালাহি, এসআইওর জেলা সভাপতি মুহাম্মদ ইরশাদ প্রমুখ।

 

Support Free & Independent Journalism

Leave a Reply

error: Content is protected !!