দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরে কোনও সামরিক জোটে যোগ দেয়নি ঢাকা। কিন্তু সেই অলিখিত নীতি ভেঙে এ বার কি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা তথাকথিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে শামিল হতে চলেছে বাংলাদেশ? লন্ডনপ্রবাসী শীর্ষ নেতা তথা সম্প্রতি তারেক রহমান সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী পদে আসা বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের প্রকাশ্য বার্তায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামিক দেশগুলির যৌথ আত্মরক্ষার এই মঞ্চে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
গত ৭ অগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক চুক্তি। ন্যাটোর ধারা অনুকরণে তৈরি এই চুক্তির মূল শর্তই হল—তিন দেশের কোনও একটি আক্রান্ত হলে, তা সব দেশের ওপর আক্রমণ বলে ধরে নেওয়া হবে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান, সামরিক শক্তিশালী তুরস্ক এবং প্রভূত অর্থ ও তেলসম্পদের মালিক সৌদি আরবের এই অক্ষ এমনিতেই ভারতের চিন্তার কারণ। তার ওপর প্রতিবেশী বাংলাদেশ যদি এতে যোগ দেয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্য চিরতরে বদলে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের তরফে পূর্ব প্রান্ত থেকে ভারতকে আক্রমণের যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, ঢাকা এই চুক্তিতে সই করলে ইসলামাবাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার পথ প্রশস্ত হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে যেমন দুই সীমান্তেই সরাসরি বৈরী অক্ষ তৈরির আশঙ্কা থাকছে, তেমনই বাংলাদেশের ভূখণ্ডও ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে যেতে পারে পাকিস্তান।
তবে এই পদক্ষেপে ঢাকার জন্যও মারাত্মক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি লুকিয়ে রয়েছে।
পোশাক রফতানিতে ধাক্কা: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক শিল্প। সামরিক জোটে যোগ দিলে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কড়া অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ বা শুল্ক আরোপ করতে পারে
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন: জাতিসংঘের পিসকিপিং ফোর্সে বাংলাদেশ সেনার বড় ভূমিকা রয়েছে। নিরপেক্ষ সামরিক অবস্থান হারালে এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
প্রবাসী আয় ও অনুদান: মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি-বিরোধী দেশগুলিতে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলির অনুদানও থমকে যেতে পারে।
বাংলাদেশকে যৌথ সামরিক বলয়ে আনার চেষ্টা চিনেরও বহু পুরনো। গত বছর বেজিংয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ত্রিদেশীয় সামরিক অক্ষের সলতে পাকানো হলেও তৎকালীন ইউনুস সরকার তাতে রাজি হয়নি। এ বার মক্কা চুক্তির মাধ্যমে কি পরোক্ষে বেজিংয়ের সেই পরিকল্পনাই নতুন মাত্রা পাচ্ছে? প্রশ্ন উঠেছে কূটনৈতিক মহলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষপে’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্য দিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পরিস্থিতি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। দিল্লির সংক্ষিপ্ত ও কড়া বার্তা—দেশবাসীকে সুরক্ষা দিতে এবং যে কোনও সীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সার্বভৌম প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই যথেষ্ট।