নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে তিনি একে “ভোটচুরি ও সরকারচুরির পর দলচুরি” বলে আখ্যা দেন।
শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় রাহুল অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি-র ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক নকশা প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা-ই এবার তৃণমূলের ওপর প্রয়োগ করা হলো। তিনি লেখেন, “প্রথমে শিবসেনা, তার পর এনসিপি, এখন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যেক বার একই ভাবে বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন যৌথ ভাবে একটি দলকে টুকরো করে। তার পর তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিনিয়ে নেয়।”
গণতন্ত্রের অধোগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা লেখেন, “যখন গোটা একটি দলকেই হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ভোটও যে চুরি হতে পারে, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে!” কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও জানান, জনগণের রায় নস্যাৎকারী শক্তিগুলোকে সাহায্য না করে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— কোনো শিবিরের জন্যই বরাদ্দ থাকছে না। ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই নতুন নাম ও কমিশন নির্ধারিত নিরপেক্ষ তালিকা থেকে নতুন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ঐক্য পরিলক্ষিত হয়। রাহুল গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলনেত্রীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।