দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের নিয়ে সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আদি -নব্যের এই দ্বন্দ্বের জেরে নাজেহাল রাজ্য বিজেপি। মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে তৃণমূল নেতাদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে বিজেপিতে। বিজেপি আদতে হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের পার্টি। সম্প্রতি এমনই দুই নেতার যোগদান নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ল আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মুকুল রায় বিরোধী স্লোগানও তুলে দিলেন। প্রয়োজনে বিজেপির দফতরে গিয়েও তাঁরা বিক্ষোভ দেখাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেন।
সম্প্রতি মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের দুই নেতা। জঙ্গলমহলের দুই দাপুটে নেতা জয়ন্ত মিত্র ও বিদ্যুৎ দাসের বিরুদ্দে বিজেপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ। কোনওভাবেই তাঁদেরকে মানা যাবে না দলে। অনতিবিলম্বে তাঁদের দল থকে বরখাস্ত করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।
মুকুল রায়ের হাত ধরে জয়ন্ত মিত্র ও বিদ্যুৎ দাস বিজেপিতে যোগদানের পর বাঁকুড়া রানিবাঁধ বিধানসভা এলাকায় বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। সেই ক্ষোভ এতটাই তীব্র আকার নেয় যে, দুই নেতার বহিষ্কারের দাবিতে কর্মীরা মিছিল পর্যন্ত করেন। অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে।
শুধু বিজেপির সাধারণ কর্মীরাই নন, এই বিক্ষোভ অবস্থানে সামিল হন বিজেপির বুথ সভাপতি অজিত মুর্মুর স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বুথ সভাপতিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে পিটিয়ে খুন করেছিল তৃণমূল। সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ দাসের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের স্মৃতি এখনও টাটটা। তা সত্ত্বেও মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বিদ্যুৎ দাস। তাঁর যোগদানের পর থেকেই চাপানউচোর চলছিল বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। বিজেপিতে যোগ দেওয়া জয়ন্ত মিত্রের বিরুদ্ধেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিজেপিতে এই দুজনকে মেনে নিতে পারছেন না কর্মীরা।
বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন, এই আন্দোলনে কোনও সুরাহা না হলে, তাঁরা বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে আন্দোলন করবেন। মুকুল রায় বিরোধী স্লোগান তুলে বিক্ষোভ চলে দীর্ঘক্ষণ। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তৃণমূলের মতো বিজেপিতেও গোষ্ঠীকোন্দন বাড়ছে। নব্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আদিরা।


























