দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি স্কুলের বেহাল দশা ক্যামেরাবন্দী করে তা প্রকাশ্যে আনার মাশুল গুনতে হলো বাঁকুড়ার এক যুবককে। বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে সরব হয়েছিলেন। স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আনার জন্য তিনি স্কুলের বেহাল দশার ছবি ও ভিডিও তুলে রেখেছিলেন। আর এই ছবি-ভিডিয়ো তোলার অপরাধেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আক্রান্ত যুবক শেখ আবদুল হাফিজ ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) একজন সক্রিয় সদস্য। এর আগে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি দিল্লিও গিয়েছিলেন। গত ১৯ জুলাই দিল্লির কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর, ২৭ জুলাই গ্রামে ফেরার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। অভিযোগ, ভিডিও তোলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এক রাতে হাফিজের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে সমস্ত ভিডিয়ো মুছে দেওয়া হয়। এই হামলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিন। গত ১৪ অগাস্টও তাঁদের বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে রাতে মাফিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি সহায়তায় তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন সকালে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার পেছনে বিরোধী দলের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও, মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “এখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সক্রিয় সদস্য হাফিজের ওপর এমন নক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে CJP। CJP-র সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক মাধ্যমে হাফিজের পরিবারের পাশে থাকার জোর বার্তা দিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শীঘ্র একটি প্রতিনিধি দল বাঁকুড়ায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করবে এবং পূর্ণ ন্যায়বিচারের দাবি তুলবে। CJP-র দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে হাফিজের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, CJP-র চলমান ‘School Thik Karo’ প্রচার অভিযানের সঙ্গেই এখন হাফিজের স্কুল-সংক্রান্ত উদ্যোগকে যুক্ত করা হচ্ছে।