Latest Newsদেশফিচার নিউজ

ক্ষমতা বেড়েছে উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির! তাদের নিশানায় মুসলিম মাংস ব্যবসায়ীরা

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বিভিন্ন ভাবে মুসলিমদের হেনস্থা করছে। গো-রক্ষার নামে মানুষ পিটিয়ে মারার ঘটনা যেন নিত্য শোনা যায়। ‛আপনি নিজে মতামত রাখতে পারবেন না। তাহলেই আপনাকে হেনস্থা হতে হবে দেশপ্রেমী তথা উগ্ৰ হিন্দুত্ববাদীদের হাতে। হরিয়ানার গুরগ্ৰাম ও তার আশেপাশের জেলাগুলির বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম মাংস সরবরাহকারী এবং প্রাণীসম্পদ ব্যবসায়ীদের উপর হামলার ঘটনা বেড়ে চলেছে।’ – এমনই অভিযোগ করেছেন মুসলিম একতা মঞ্চের নেতা হাজী শাহজাদ আহমেদ।

গুরুগ্ৰাম জেলায় গত দুই সপ্তাহে মাংস সরবরাহকারী এবং প্রাণীসম্পদ ব্যবসায়ীদের উপর হামলার দুটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ কেবল অভিযুক্তদের জবানবন্দি দিয়ে একটি মামলায় এফআইআর নথিভুক্ত করেছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। একটি ঘটনা খাতোলা গ্ৰামে সংঘটিত হওয়ার পরে, আরেকটি ঘটনা গুরুগ্ৰাম শহরে ঘটেছে। কয়েক মাস আগে গুরুগাঁওয়ের একটি আবাসিক কলোনিতে আরও একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে মুসলিম পরিবারের সদস্যদের বাড়ির ভিতরে ঢুকে স্বঘোষিত পাহারাদাররা লাঠিপেটা করে। এই বর্বোরোচিত ঘটনার পরে, বেশ কয়েকটি মুসলমান পরিবার ‌সংখ্যলঘু অধ্যুষিত এলাকা গুরুগ্ৰাম ত্যাগ করেছিলেন। ‌

খাতোলা গ্ৰামের চার হিন্দু যুবক তাদের মহিষ বিক্রি করার জন্য ঘাসেরা গ্ৰামের বাসিন্দা মুরসালীন ও নাসিরকে ডেকেছিলেন। তারা তিন-চার দিন ধরে ডাকছিল। বুধবার (১২ আগস্ট) মুরসালীন ও নাসির খাতোলা গিয়েছিলেন, সেখানে তাদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়। তারা পশুপাখির ব্যবসায়ী। গুরুতর আহত নাসির ‌গুরুগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নাসির ও মুরসালীনকে আক্রমণ করার অভিযোগে পুলিশ দিলবাগ সিং ও আদেশ কুমারকে গ্ৰেফতার করেছে। অপর দুই অজ্ঞাত আসামী পলাতক রয়েছে। পুলিশ পলাতকদের নাম প্রকাশ এড়িয়ে চলেছে। মুরসালিনের আত্মীয় এবং মুসলিম একতা মঞ্চের নেতা হাজী শাহজাদ বলেছেন, ‛যথেষ্ট হয়েছে যথেষ্ট। আমরা আগামীতে গুরুগাঁও পুলিশ কমিশনার অফিসের কাছে মুসলিম যুবকদের উপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করছি।’

অন্যদিকে, ঈদের দিন সকালে পেটানো হল লুকমান নামে এক ট্রাকচালককে। গো-মাংস নিয়ে যাওয়ার অপরাধে তাকে হাতুড়িপেটা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। সেদিন সকাল ৯টার দিকে হরিয়ানার গুরুগ্ৰামে মাংস ভর্তি একটি পিকআপকে তাড়া করে ধরে দুর্বৃত্তরা। ট্রাকচালকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে হাজির থাকলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ, আহত লুকমানকে ওই ট্রাকে তুলেই গুরুগ্ৰামের বাদশাপুর গ্ৰামে নিয়ে ফের মারধর করা হয়। পরে তাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গেছে, এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি পুলিশ। তবে ট্রাকের মালিক জানিয়েছেন, তিনি ৫০ বছর ধরে মাংসের ব্যবসা করছেন। ওই ট্রাকে মহিষের মাংস ছিল। উল্লেখ্য, তথাকথিত গো-রক্ষকদের হামলা ছাড়াও নানা কারণে গণপিটুনির ঘটনা মোদী জামানায় বেড়েছে বলে দাবি নানা শিবিরের। ২০১৮ সালে গণপিটুনিতে খুনকে ‛ঘৃণ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে তা রুখতে নির্দেশিকা জারি করে সুপ্রিমকোর্ট। তাতে যে কাজ বিশেষ হয়নি তা দেখিয়ে দিল গুরুগ্ৰাম।

Leave a Reply

error: Content is protected !!