নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, কলকাতা: করোনার মহামারীর প্রতিরোধের জন্য বাজারে নানা রকম ভ্যাক্সিন বার হয়েছে। সরকারী ও বেসরকারি উভয় ভাবেই ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাক্সিন নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাবে তাগাদাও দেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বিষয়ে মুসলিম জনসাধারণের নিকট থেকে প্রশ্ন আসছে ভ্যাক্সিন নেওয়া যায়েজ হবে কিনা ? তাই বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর জামাআতে ইসলামি হিন্দের কেন্দ্রীয় শরীয়া কাউন্সিল নিম্ন বর্ণিত পরামর্শ প্রদান করছে :
১) করোনার থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে ভ্যাক্সিন বের হয়েছে তা রোগের মূল ঔষধ নয়। বরং রোগ প্রতিরোধের একটি উপায় মাত্র। টীকা নেওয়ার কিংবা না নেওয়ার বিষয়টি ব্যাক্তির ইচ্ছা ও অনিচ্ছার উপরনির্ভরকরে।
২) রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষার মূল কথা হলো, মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা যথাযথ থাকলে ভ্যাক্সিন না নিয়েও রোগ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
৩) ভ্যাক্সিন নিলে রোগ থেকে নিরাপদ থাকার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেই জন্য টীকা নিয়ে নেওয়াই উত্তম , বিশেষ করে যারা মধ্য বয়ষ্ক বা বৃদ্ধ মানুষ।
৪) ভ্যাক্সিনে সামান্য কিছু হারাম জিনিস মিশ্রিত থাকলেও ফেকাহবীদদের দৃষ্টিতে তা নেওয়া যাবে। কারন হারাম জিনিসের চরিত্র বদল হয়ে গেলে তার উপর হারামের নিষেধাজ্ঞা আর থাকে না। দ্বিতীয়ত: প্রয়োজনের বাধ্য-বাধকতায় হারাম জিনিস ব্যবহার করা যায়।
৫) মহামারী পরিস্থিতি বা রোগাক্রান্ত হওয়ার আশংকা প্রবল হলে আত্মরক্ষা মূলক প্রস্তুতি নেওয়া ও অগ্রিম সতর্কতা অবলম্বন করা ততটাই জরুরী যতটা অসুখ হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।
৬) যারা ভ্যাক্সিন নেয়নি, তাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে তারা নিজেরা সুস্থ থাকেন এবং তিনি নিজে রোগ ছড়াবার কারণ হয়ে না উঠেন।



























