Sunday, March 3, 2024
Latest Newsদেশফিচার নিউজ

ছবি এঁকে কাশ্মীরিদের ভোগান্তি তুলে ধরেন জামির

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো একবার বলেছিলেন, ‛চিত্রশিল্প হচ্ছে এমন এক মিথ্যা যা আমাদের সত্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।’ বিশ্বের যেখানেই একজন চিত্রশিল্পী জন্মান না কেন এমন কি কোনও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জন্মালেও, তিনি তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবাহারের চেষ্টা করেন। নিঃসন্দেহে যুদ্ধ মানুষের মনে গভীর এবং স্থায়ী প্রভাব ফেলে। তবে যুদ্ধের আর একটি দিক হল, তা শিল্পীর সামনে মানবিক সংকট এবং উত্তরহীন বড় কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করে।

 

এমন যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি অঞ্চল কাশ্মীর। ১৯৮৯ সাল থেকে রক্তপাতের কেন্দ্র অঞ্চলটি। তবে প্রজাপতি হয়ে ওঠার জন্য শুঁয়োপোকাকে যেমন নীরবে কষ্ট সহ্য করতে হয়, তেমনই যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে কাশ্মীর উপত্যকার অনেকে হয়ে উঠেছেন শিল্পী। তারা তাঁদের ভোগান্তির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন গল্প, কবিতা বা চিত্রশিল্পে।

উত্তর কাশ্মীরের বারমুল্লা জেলার বাসিন্দা জামির আহমাদ শেখ এমনই একজন শিল্পী। নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) কাছে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা ঐ অঞ্চলটি বেশ বিখ্যাত, এর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঝিলাম নদী। ৪০ বছর বয়সী জামির স্কুলজীবন থেকেই কালো ক্যনভাসে তার স্মৃতি তুলে ধরা শুরু করেন। চিত্রকর্মে তিনি কাশ্মীরের মানুষের জীবন-যাপন তুলে ধরেন। জামিরের বয়স যখন ২৮, তখন বাড়ির পাশে ক্রসফায়ারের সময় বুলেটের আঘাতে তার বাবা মারা যান। ১৯৯২ সালের ৯ জুলাই জামিরের সাথে ঝিলাম নদীর তীর দিয়ে হেঁটে আসার সময় ক্রসফায়ারে মারা যান উত্তর কাশ্মীরের বারমুল্লা জেলার বিখ্যাত শিল্পী হামিদ আহমাদ শেখ।

গত কয়েক দশকের সব রক্তপাতের সাক্ষী এই ঝিলাম নদী। পাকিস্তান ও ভারত সীমান্তের গুলি বিনিময়ের ঘটনাগুলো বেশিরভাগই এই অঞ্চলে ঘটেছে। শিল্পী জামির দুঃখের সাথে স্মরণ করে বলেন, এই নদীটি যে কারও হৃদয়কে কাঁপানোর ক্ষমতা রাখে। বছরের পর বছর ধরে মানুষ এবং নদী একটি সংবেদনশীল মন্থন গতিতে বয়ে চলেছে। নদীটি গত কয়েক দশক ধরে সংঘটিত সমস্ত রক্তক্ষয়, হতাশাগ্রস্ততা এবং উদ্বেগজনক ঘটনার নীরব সাক্ষী।

বাবার মৃত্যু শিল্পী জামিরের জীবনে একরাশ হতাশা নিয়ে আসে। হতাশার সাগরে ভাসতে থাকে পরিবার। তবে এই কঠিন সময়টাই জামিরকে শিল্পী হয়ে উঠতে অনুপ্রেরণা যোগায়। বাবার মৃত্যুর পর হতাশাগ্রস্ত জামির রঙতুলি নিয়ে আঁকিবুকি শুরু করেন। রঙের সাথে কাজ করতে করতে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে থাকে। অবিশ্বাস্যভাবে বাবার স্মৃতি নিয়ে জামিরের একটি আঁকা তার জীবনের গতিপথই বদলে দেয়। শিল্পককর্মটি ছিলো, একটি ছোটছেলেকে তার বাবা কাঁদে তুলে নিয়ে একটি কাঁটাতারের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। আসলে এটি জামিরেরই আত্মজীবনী ছিলো।

নিজের আঁকা নিয়ে জামির বলেন, শিল্পী হিসেবে আমি যখন অনুপ্রেরণার জন্য চারপাশে তাকাই, এ ভুস্বর্গ (কাশ্মীর) তখন অনুপ্রেরণার সাথে সহিংসতাও যোগায়।

 

Leave a Reply

error: Content is protected !!