দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল ইস্যুতে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এইবার এই ইস্যুতে এককাট্টা হয়েছে দেশের বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক উদ্দেশ্যগুলো উপেক্ষা করে শান্তি স্থাপন বা জোরপূর্বক আনুগত্য কেনা যায় না। নয়াদিল্লীতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে গত বুধবার ওই মন্তব্য করা হয়।
মুসলিম সংগঠনগুলোর ওই বৈঠকে বলা হয়, আমাদের উচিত কাশ্মীরি জনগণের মৌলিক অধিকারকে সমর্থন করা এবং সেখানে শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও স্বাভাবিক জনজীবন পুনরুদ্ধারের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাশ্মীরে কারফিউ প্রত্যাহার করা, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যসেবা পুনরুদ্ধার ও অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে সাংবিধানিকভাবে ৩৭০ ধারা কার্যকর করা হয়েছিল এবং তাঁকে সাংবিধানিক উপায়ে অপসারণ করা যেত। কিন্তু যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে ও বিরোধিতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের সামনে বিচারাধীন রয়েছে। শীর্ষ আদালতের উপরে আমাদের বিশ্বাস রাখা এবং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। দেশের একতা ও অখণ্ডতা রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের প্রথম কর্তব্য। কোনও অবস্থাতেই এনিয়ে আপস করা যাবে না। সংবিধানে সকলের জন্য সমানাধিকার, সকলের সঙ্গে সুবিচার ও মানবাধিকারের উদ্দেশ্যও দেশের অখণ্ডতা রক্ষা। সাংবিধানিক উদ্দেশ্যগুলো উপেক্ষা করে আমরা সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি না, বা জোর করে আনুগত্য কিনতে পারি না।
গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ওসমান মনসুরপুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রধান (আমীর) সাদাতুল্লাহ হুসাইনী, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানী, জমিয়তে আহলে হাদীস হিন্দের প্রধান মাওলানা আসগর আলী ইমাম মাহদী সালাফী, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকী, দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের প্রধান জাফরুল ইসলাম খান, অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশ মুশাওয়ারাতের মহাসচিব মুজতবা ফারুক ও অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



















