Sunday, April 21, 2024
Latest Newsদেশ

রাত পোহালেই এনআরসি, উদ্বিগ্ন অসমের লাখো মানুষ

ছবি : প্রতিকী

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : বিজেপিশাসিত অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে আগামীকাল (শনিবার)। এর আগে প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয়েছে রাজ্যের প্রায় দুই লক্ষ মানুষকে। তবে আরও অনেকের নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন অসমের লাখো মানুষ।

কথা হচ্ছিল অসমের লঙ্কা থানা এলাকার ২ নম্বর শামবেড়িয়ার মহাদেব দাসের সঙ্গে। তিনি ফরেনার্স ডিটেকশন ট্রাইবুনালের নির্দেশে ডিটেনশন ক্যাম্পে ছিলেন তিন বছর। বিদেশি বলে অভিযুক্ত হওয়ায় ২০১৫ থেকে ক্যাম্পে কাটাতে হয় তাকে। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সেখান থেকে মুক্তি পেলেও এখন তার কপালে দুশ্চিন্তার গভীর ভাঁজ।

অপদিকে ভোটার তালিকায় হোজাইয়ের কৃষ্ণনগরের রেখা রাণীদের নামের আগে যুক্ত হয়েছে ‘ডি’। অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার। হোজাইয়েরই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রমোদরঞ্জন দাসের নাম জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসির প্রাথমিক তালিকায় ছিল না। দ্বিতীয় তালিকায় নাম উঠলেও উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। সবারই দুশ্চিন্তা কাল কী হবে?

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ মেনে অসমে যে এনআরসি তৈরি হচ্ছে, তার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা শনিবার, ৩১ অগস্ট। চূড়ান্ত তালিকায় কাদের নাম থাকবে, নাম না-থাকলে তাদের কোথায় ঠাঁই হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে।

এনআরসিতে নাম তোলার জন্য প্রায় তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ আবেদন করেছিলেন। তিন দফায় এনআরসির খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরেও ৪০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তারা যাতে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেন, সেই জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল প্রশাসন। সেই সব নথি খতিয়ে দেখেই শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। তবে চূড়ান্ত তালিকা থেকেও বেশ কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রমোদরঞ্জন দাস যেমন বলছিলেন, যারা ‘ডি’ ভোটার বলে ঘোষিত, যাদের ইতিমধ্যেই ‘বিদেশি’ বলে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল জানিয়েছে ও ট্রাইবুনালে যাদের মামলা চলছে, তাদের নাম তালিকায় আসবে না। তা ছাড়া, আরও বেশ কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা।’

যাদের নাম বাদ যাবে, তাদের ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। সেখানে যাবতীয় নথি দিয়ে তিনি যে ১৯৭১-এর ২৪ মার্চের আগে থেকে অসমের বাসিন্দা, তার প্রমাণ দিতে হবে। আর ট্রাইবুনাল যদি কাউকে ‘বিদেশি’ বলে জানিয়ে দেয়, তাকে প্রশাসন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে পারে বা তিনি যে দেশ থেকে এসেছেন, সেখানে তাকে ফেরত পাঠানো হতে পারে। ট্রাইবুনালের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে। তবে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াই কতজন চালিয়ে যেতে পারবেন, কতজনের সেই সামর্থ্য আছে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই।

Leave a Reply

error: Content is protected !!