Sunday, April 21, 2024
দেশফিচার নিউজরাজ্য

৩ বছর পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি নাজিব আহমেদের, জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি

ছবি : সংগৃহিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, কলকাতা : জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বিজ্ঞান শাখার স্নাতকোত্তর মেধাবী ছাত্র নাজিব আহমেদ ২০১৬ সালের ১৫ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে সন্দেহজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগের দিন রাতে নাজিবকে এবিভিপি-র কর্মীরা সম্মিলিত ভাবে আক্রমণ করে। নিখোঁজ হওয়ার দিনই নাজিব আহমদের মা ফাতিমা নাফিসের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ অপহরণ এবং জোরপূর্বক নির্বাসিত করার এফআইআর গ্রহণ করে। এই ঘটনার একমাসের বেশি সময় পরেও যখন পুলিশ নাজিব আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার তদন্তে আশানুরূপ অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয় তখন ২৫ নভেম্বর ফতেমা নাফিস দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু নাজিব আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর হয়ে গেলেও দিল্লি পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা সিট, দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই পর্যন্ত এই ঘটনার কোন সুরাহা করতে পারেনি। দেশের এই তিনটি তদন্তকারী সংস্থাকে তাদের এই ব্যর্থতার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে।

ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানইজেশন (এসআইও) দেশের অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে নাজিবকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে ধর্মতলা ওয়াই চ্যানেলে একটি মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এই প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি পূরণের আওয়াজ তোলা হয়। প্রথমত, নাজিব আহমেদকে যে কোন মূল্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, নাজিবের নিখোঁজ হওয়ার আগে তার উপর আক্রমণকারী এবিভিপি কর্মীদের গ্রেফতার করে তদন্ত চালাতে হবে। তৃতীয়ত, ফতেমা নাফিসকে হেনস্থার দ্রুত সুবিচার করতে হবে। চতুর্থত, সারা দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের সুরক্ষা এবং সুবিচার সুনিশ্চিত করতে হবে।

ছবি : নিজস্ব

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মহঃ ইমরান আলি এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন নাজিব আহমেদের অপহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানী দিল্লির বুকে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রের নিখোঁজ হওয়া এবং এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ না করা অনেক ভয়ঙ্কর সংকেত বহন করে।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে মুসলিম ও পিছিয়ে পড়া দলিত সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যাতে করে তারা উচ্চশিক্ষা অর্জনে ভয় পায়।” এই প্রতিবাদ সভায় জামায়াতে ইসলামি হিন্দের রাজ্য সম্পাদক মসিউর রহমান বলেন, “আপামর ছাত্র সমাজের উচিত নাজিবকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সোচ্চার হওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও সুবিচার নিশ্চিত করতে তৎপরতা গ্রহন করা। এছাড়া এই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য সাদাব মাসুম, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সাবির আহমেদ, ইমরান হোসেন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সাল থেকেই এসআইও নাজিব আহমেদের মা ফাতেমা নাফিসকে সঙ্গে নিয়ে সুবিচারের জন্য সোচ্চার হয়েছে। এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখা আয়োজিত নন্দন চত্বরে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে একটি সান্ধ্যকালীন আলোচনায় ফতেমা নাফিসের উপস্থিতিতেই নাজিবের জন্য সুবিচারের দাবি জোরদার করা হয়। আজ ১৫ই অক্টোবর সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরগুলোতে “নাজিব কোথায়?” শিরোনামে প্রতিবাদ দিবস পালন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!