Thursday, October 1, 2026
Latest Newsফিচার নিউজরাজ্য

করোনাকালে বেকারত্ব বৃদ্ধি সরকারি উদাসীনতা ও ভুল কর্মনীতির ফল : এসআইও

ছবি : সংগৃহিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, দৈনিক সমাচার, কলকাতা : বর্তমানে ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে। কোভিড-১৯ এর আবর্তে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে বেকারত্বের পারদ ব্যাপক ভাবে চড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে করোনা আবহেই জাতীয় শিক্ষা নীতি পাশ করা হয়েছে। স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (এসআইও), পশ্চিমবঙ্গ শাখা বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শিক্ষা অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ‛উদ্ভূত বিশ্ব পরিস্থিতি | শিক্ষায় নতুন মাত্রা | কর্মক্ষেত্রের উদ্ভব’ শিরোনামে ২৫ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সারা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠন মনে করে যে, স্কুল ও কলেজ বন্ধ থাকায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে পড়াশোনা কখনই সুষ্ঠ সমাধান নয়। যেখানে দেশের ৭৬.২ শতাংশ (NSSO অনুযায়ী) মানুষের কাছে ইন্টারনেটের ছোঁয়া নেই, সেখানে অনলাইনে পড়াশোনার স্বপ্ন তাদের কাছে সোনার হরিন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ এর মাধ্যমে শিক্ষার গৈরিকীকরণের অপ্রচেষ্টা করছে। সেই সাথে করোনা আবহাওয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধি সরকারি উদাসীনতা ও ভুল কর্মনীতির ফল।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি প্রেস মিটে বলেন, “বর্তমানে সরকারকে বিকল্প শিক্ষন পদ্ধতি হিসাবে কমিউনিটি টিউটর ও এলাকা ভিত্তিক পাঠদানের পদ্ধতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে স্কুলছুটের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। তাই স্কুলছুট রুখতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন।”

এছাড়া জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০ নিয়েও সরব হন তিনি। তিনি বলেন, “নয়া শিক্ষা নীতিতে এক বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতিকে দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।” রাজ্যের বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি জানান, “বেকার যুবকদের চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভর করে তুলতে সরকার উদাসীন।”

শিক্ষা আন্দোলন উপলক্ষ্যে রাজ্য ও সমস্ত জেলার শিক্ষা দফতরে দাবিপত্র জমা করার কথাও জানান তিনি। ওসমান গনি আপামর ছাত্রসমাজকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষা অভিযানকে সফল করার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির দাবী সমূহ –

১) জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
২) বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিকল্প শিক্ষণ পদ্ধতির প্রচলন করতে হবে।
৩) স্কুলছুট নিয়ন্ত্রনে গঠনমূলক পরিকল্পনা ও প্রকল্প তৈরি করতে হবে।
৪) মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫) স্কুল ও কলেজের লাগামহীন ফী নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬) SSC ও প্রাইমারিসহ অন্যান্য চাকরির পরীক্ষাগুলিতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
৭) মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের (MSC) নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতিমুক্ত ও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
৮) ঐতিহাসিক হুগলি মাদ্রাসাকে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় কলেজ হিসাবে ঘোষণা করতে হবে।
৯) মিল্লি আল-আমীন কলেজের মাইনোরিটি স্ট্যাটাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
১০) কলকাতা ইউনানি মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপিটালকে আইন মেনে সরকারি আওতাভুক্ত করতে হবে।
১১) পূর্ব ভারতে ইসলামী শিক্ষার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষার প্রস্তাবিত পাঠক্রমগুলির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
১২) চাকরির ক্ষেত্রে শূন্যপদ পূরণের জন্য নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে যোগ্যতানুযায়ী উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

Leave a Reply

error: Content is protected !!
WordPress Workshop Bikeway – Sport Shop WooCommerce Theme Bili – Creative Agency WordPress Theme Bilis – Agency Landing Page Elementor Block Kit Billey - Creative Portfolio & Agency WordPress Theme Bimber – Viral Magazine WordPress Theme Binace – Fashion Shop WooCommerce WordPress Theme (Mobile Layout Ready) Binance Pay Payment Gateway for WooCommerce Binduz – Blog Magazine Newspaper WordPress Theme Bingo – Multi-Purpose Newspaper & Magazine Theme Biolife - Organic Food WordPress Theme