দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: শুধুমাত্র হাথরসের গণধর্ষিতার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন এক মহিলা ডাক্তার। আর তার পরে কি না তাকেই বানিয়ে দেওয়া হল মাওবাদী। হ্যাঁ শুনতে আশ্চর্যজনক হলেও এটাই সত্যি। যে মহিলাকে সোশ্যাল মিডিয়া রাতরাতি ‘মাওবাদী বৌদি’ সাজিয়েছে, তিনি ডাক্তার রাজকুমারী বনশল। বয়স ৪১। থাকেন জবলপুরে। এই পোস্টের পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ওই লেডি ডাক্তার। শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই মনে করছেন পরিকল্পিত ভাবে রাজকুমারীকে মাওবাদী সাজানো হয়েছে।
শনিবার এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টও হয়েছে। দলিত তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই মহিলা ডাক্তারের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, একজন ‘নকশাল’ মহিলা হাথরসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন। উনি দলিত পরিবারটিকে ‘প্ররোচিত’ করছেন। হ্যাশট্যাগ দেওয়া হয়েছে #নকশালভাভী (#NaxaliteBhabhi)। পোস্টের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল সেই ভিডিয়ো। দুটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, নির্যাতিতার বাড়িতে বসে ওই মহিলা সিপিএম ও সিপিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
এই চিকিত্সকের কথায়, ‘শুধুমাত্র সমবেদনা জানাতেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। পরদিনই ফিরে আসছিলাম। কিন্তু, পরিবারটির আর্জিতে আমায় আর একদিন থাকতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আমি ছবি দেখে শকড। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কোনওরকম প্রমাণ ছাড়া ওরা কী করে একজনকে মাওবাদী বলে?’
ডাক্তার রাজকুমারী বনসল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের লেকচারার। টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে তিনি জানান, ৪ অক্টোবর তিনি হাথরসের ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ৬ অক্টোবর তিনি জবলপুরে ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনের মধ্যে কেরালার সাংবাদিক, উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে দেশদ্রোহিতার মামলা দিয়েছে যোগীর পুলিশ। হাথরসের ন্যায়বিচার চেয়ে ধৃতরা গলা চড়িয়েছিলেন। দেশদ্রোহিতার পাশাপাশি কয়েক জনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ মামলাও জুড়ে দেওয়া হয়। তা থেকেই সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে, জবলপুরের এই ডাক্তারকেও না মাওবাদী সাজিয়ে যোগী পুলিশ শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করে।
























