দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই নাগরিকত্ব ইস্যুতে উঠেছিল কতগুলি প্রশ্ন। অসমে ইতিমধ্যেই করা হয়েছে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি। তাতে বাদ পড়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম। ফলে স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি যাদের ভোটে সরকার তাঁদেরই কেন অনাগরিক করা হচ্ছে? তা নিয়েও বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাগরিকত্ব ইস্যু ও এনআরসি নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনও হয়েছে। এখন করোনা আবহে ধরনা বা মিটিং – মিছিল নেই ঠিকই, তবে বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা চুপ নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক’দিন আগেই একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভা থেকেই সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করবার উপায় কী? ভোটার কার্ড কি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এ প্রশ্নই করেছিলেন একজন সমাজকর্মী। তাতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার কার্ড শুধু মাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পেয়ে থাকেন। আর তাঁরা সার্বিক ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারী হন।
উল্লেখ্য, সমাজকর্মী প্রণজিৎ দে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ভোটার কার্ড কি একমাত্র নাগরিকরাই পেতে পারে? তথ্য জানার আইন-২০০৫ মোতাবেক করা প্রশ্নের জবাবে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে একজন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করার সঙ্গে এপিক বা সচিত্র নির্বাচক পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি তখনই ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়ে থাকেন, যখন তাঁর নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হয়। একইসঙ্গে আরও জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী একমাত্র নাগরিক হলে তবেই ভোটার কার্ড পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ভারতের নাগরিকরাই পান ভোটার কার্ড। সহজ করে বলতে গেলে, ভোটার কার্ডই নাগরিকত্বের প্রমাণ। অন্তত আরটিআইয়ের জবাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যই এ কথা বলে।
এ বিষয়ে আরটিআইয়ের আবেদনকারী বলেন, যাদের ভোটার কার্ড দেওয়া হয়েছে তাঁরা সকলেই ভারতের নাগরিক। তিনি বলেন, বিজেপি নেতারা আমাদের যখন-তখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এনআরসি’র ভয় দেখাচ্ছেন। যদি নাগরিকত্ব মিথ্যে হয়, তবে আমাদের ভোটে নির্বাচিত সরকারেরও বৈধতা থাকে না।




















