দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: তীব্র জল সংকটে দিনযাপন করছে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুলাওয়াইয়োর বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাধ্য হয়ে দূষিত কর্দমাক্ত ময়লা জলই পান করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে শহরজুড়েই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জানা যায়, গত বছর থেকে কয়েক দফা খরার মুখে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। এতে করে জলের উৎসগুলোতে পানির পরিমাণ কমে গেছে। চলতি বছর তেমন বৃষ্টিও হয়নি দেশটিতে। পর্যাপ্ত জল না থাকায় ৩ মাস আগে বাসাবাড়িতে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শহরের লোকজন জলের জন্য ছোটাছুটি করেন।
বুলাওয়াইয়ো শহর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, জুন মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসেই ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। ময়লা জল পানের কারণেই এই রোগের উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা করছে হাসপাতালগুলো।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে শহরের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত জল রাখার পাত্র নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবার একটিই লক্ষ্য, পানির উৎস খুঁজে বের করা। শহরের রেল লাইনের কাছে দেখা গেলো বিশাল এক জটলা। ভাঙ্গা একটি পানির পাইপ থেকে বের হওয়া কর্দমাক্ত জল সংগ্রহ করতে ব্যস্ত স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই এই জল পানকরতে বাধ্য হচ্ছে শহরের মানুষ। এ প্রসঙ্গে বুলাওয়াইয়ো রেলের শ্রমিক সিবুসিসিউই ময়ো বলেন, শহরে তিনমাস ধরে কোনো পানি নেই। শুনতে পারছি, অন্যান্য এলাকায় জল সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। কিন্তু এখানে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এই ভাঙ্গা পাইপ থেকে বের হওয়া ময়লা পানিই এখন আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আমাদের কাছে কোনো উপায় নেই।
























