Sunday, March 3, 2024
Latest Newsদেশফিচার নিউজ

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস! ‛অখুশি মানুষের দেশ’ ভারত, প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ৩৮১ জন

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: সুশান্ত-মৃত্যু রহস্য নাড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশকে। কামরূপ থেকে কচ্ছ, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী-আসমুদ্র হিমাচল গত কয়েকমাস ধরে টেলিভিশন, খবরের কাগজ আর ইন্টারনেটে হন্যে হয়ে খুঁজছে কেবল একটি প্রশ্নের উত্তর। সুশান্ত সিং রাজপুত কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন? আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন যদি করে থাকেন তাহলে কেন করলেন? কিন্তু সুশান্তের ঘটনার বাইরেও এই দেশে অহরহ হয়ে চলেছে আত্মহত্যার ঘটনা। ঋণে-ভারাক্রান্ত কৃষক আত্মহত্যার খবর তো প্রায়ই শোনা যায়।

রেজিষ্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে ১,৩৯,১২৩টি আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে ভারতে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৩৮১ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি বছর আট লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করেন এই গ্ৰহে। আর আত্মহত্যার প্রায়াস চালান প্রায় দু’কোটি মানুষ। মানে প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে পৃথিবীতে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন আত্মহত্যার ফলে। আর প্রত্যেক দেড় সেকেন্ডে একজন চেষ্টা করেন তাঁর জীবন শেষ করার।

মনোবিদ ডঃ কমল নাথের কথায়, নিজের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার চরম পথ বেছে নেওয়ার আগে মানুষ অনেক সময় নিজেকে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক কষ্ট দেয়। অনেকেই দেহের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষত তৈরি করেন। কেউ ধারালো কিছু দিয়ে হাত কাটেন, কেউ আবার সিগারেটের ছেঁকা লাগিয়ে দেয় নিজের দেহে। আবার কেউ দেওয়াল বা কাচের উপর আঘাত করে নিজেকে যন্ত্রণা দেয়। এই ধরনের আচারণ সাধারণত যুবক – যুবতীর মধ্যে অধিক দেখা যায়।

একটি গবেষণায় প্রকাশ বিশ্বে ১৫ জনের মধ্যে একজন এমন মানসিক অবস্থার শিকার। মহিলাদের মধ্যে এই প্রকার প্রবণতা পুরুষদের থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কেন এমন আচারণ করেন মানসিক অবসাদের শিকার ব্যক্তিরা। কমল নাথের যুক্তি, হতাশাব্যঞ্জক বা কষ্টদায়ক বিষয়গুলি তাদের মধ্যে একপ্রকার মানসিক আঘাতের সৃষ্টি করে। ওইরকম আচরণের মাধ্যমে তারা নিজের অনুভূতির উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার এক মরিয়া প্রয়াস চালান।

 

Leave a Reply

error: Content is protected !!