শাম্মী তুলতুল
সন্ধ্যাবেলা বন্ধুদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিল এক মশা। পথে এক হাতিকে দেখতে পেয়ে বলল, ওহে হাতি মশাই কেমন আছেন? হাতি তখন শুঁড় বাকা করে বলল, মোটামুটি। মশা বলল, কেন ভাই কি হয়েছে? হাতি বলল, কিছুই হয়নি। কথা বলতে ভাল লাগছে না। কথাটা শুনে খিক খিক করে হেসে ওঠল মশা। মশার হাসি দেখে গা জ্বলে গেলো হাতির। বলল, বড্ড বেয়াদবতো। যা ভাগ এখান থেকে। মশা বলল, আরে বাপু কোন সমস্যা হলে আমাকে বলতে পারো। আমি তোমায় সাহায্য করবো। কথাটা শোনা মাত্রই হাতি হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। মশা তা দেখে ভেংচি কেটে বাড়ি চলে গেলো।
পরদিন হাতি সবার কাছে বলে বেড়াল পুচকে মশা চড় মারলেই কাত। সে বলে আমায়, আমার সমস্যা সমাধান করবে। হাতির খোঁচা মারা কথাটা মশার কানে দ্রুত পৌঁছে গেল। মশা প্রতিবাদ করতে হাতির মুখোমুখি হল। বলল, তুমি কাজটা ভাল করছো না। তোমার কোন বিপদ হলো কিনা তা ভেবে সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইলাম। আর তুমি কিনা আমাকে নিয়ে এর কাছে ওর কাছে ঠাট্টা করছো। অতো বড়াই করোনা। অনেক সময় ছোটরাও কাজ দেয়। এ কথা মনে রেখো। বুদ্ধি না থাকলে বিশাল দেহ দিয়েও কাজ হয়না। হাতি মশার কথা শুনে আবারো উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো। হাসতে দেখে মশা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলল, দেখে নিবো তোকে। অনেক ভদ্রতা দেখিয়েছিস। হেসে নে যত পারিস।
জঙ্গলে কলা গাছে প্রায় কলা ধরে কিন্তু যত কলা ধরুকইনা কেন সব কলা খেয়ে সাবাড় করে হাতি আর তার সাথীরা। একদিন হাতি কলা গাছ থেকে কলা শুঁড় দিয়ে টেনে টেনে, চিড়ে মাটিতে রাখছিল । আর এক এক করে আস্ত কলা গিলছিলো। মশা তার সাঙ্গ পাঙ্গদের যেকোনো মুহূর্তে তৈরি থাকতে বলেছিল হাতিদের আক্রমণ করতে। সময়টা যখন এলো তা কি আর হাতছাড়া করা যায়? বুঝিয়ে দেয়ার পালা মশারা কম না। একদনি দুপুর বেলা কলা খাওয়ার মুর্হূতে মশা হাতির সামনে এসে দাঁড়াল। হাতি বলল, ওহে পুচকে এখানে কি? মশা বলল, কলা খাওয়া বন্ধ কর, নইলে কিন্তু খবর আছে। হাতি বলল, কত বড় সাহস আমাকে ধমক দিচ্ছিস? মশা রেগে লাল হয়ে বলল, সাহসের আর দেখলি কি। এইবার দেখ মজা। মশা দিলো হাতির ল্যাজে কামড়। কামড় দেওয়ার পর, হাতির কানের কাছে ভ্যা ভ্যা, ভু ভু শব্দ করা শুরু করলো। হাতি তার শুঁড় দিয়ে মশাকে তাড়াতে লাগলো। কিন্তু কোন লাভ হল না। যতই তাড়ায়, হাতি নিজের মার নিজেই খায়।
শেষ পর্যন্ত হাতি ও তার সাথীরা ভয়ে দৌড়াতে শুরু করলো। মশা হাতির নাকের কাছে কানের কাছে ভ্যা ভ্যা করতেই লাগলো। আর একটু পর পর কামড় দিয়ে হা- হা, হি – হি করে হাসতে লাগলো। মশা ছড়া কেটে বলে, এবার শয়তান হাতি বুঝবি আমার শক্তি। মশার ভ্যা -ভ্যা শব্দ হাতির কাছে মারের চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক মনে হল। আর কামড়ে মনে হল সূচ ফুটছে গায়ে। শেষ পর্যন্ত কাঁদতে লাগলো হাতি। বলল, দেখ আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার ভুল হয়েছে। আমি বুঝিনি। এই যে শুঁড় নিচু করে ক্ষমা চাইছি। আর কখনো তোমাদরে নিয়ে মশকারা করব না। আজ থেকে বুঝতে পেরেছি ছোটদের অবজ্ঞা করতে নেই। ছোটরাও কম না। সেই থেকে মশাদের বড্ড ভয় পায় হাতিরা।



















