Meritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot Oyunları, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve Kampanyalar, Mavibet Giriş AdresiMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahisleriMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Mobilden Giriş 2026Marsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor Bahisleri, Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir MiMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahislerikalitebetgrandpashabetholiganbetjojobetholiganbetholiganbetextrabetAntalya EscortAntalya Escort BayanAntalya Escort BayanMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarAntalya Escort BayanAntalya EscortAntalya EscortlarAntalya Escortceltabetceltabet girişbetsmovebetsmove girişholiganbetholiganbet girişmarsbahismarsbahis girişroketbetroketbet girişAlobetAlobet girişAlobetMeritkingMeritking girişMeritkingCasibomCasibom girişCasibomMaxwinMaxwin girişMaxwinromabetromabet girişbetplaybetplay girişbetkolikbetkolik girişCasibomCasibom girişCasibomJojobetJojobet girişJojobetBetsmoveBetsmove girişBetsmoveRestbetRestbet girişRestbetMavibetMavibet girişMavibetHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetMarsbahisMarsbahis girişMarsbahisMaxwinMaxwin girişMaxwinRomabetRomabet girişRomabetCeltabetCeltabet girişCeltabetBetplayBetplay girişBetplayBetkolikBetkolik girişBetkolikAlobetAlobet girişAlobetMeritkingMeritking girişMeritkingElitbahisElitbahis girişElitbahisHarbiwinHarbiwin girişHarbiwinCasinoroyalCasinoroyal girişCasinoroyalHilarionbetHilarionbet girişHilarionbetKalebetKalebet girişKalebetMaksibetMaksibet girişMaksibetMisliwinMisliwin girişMisliwinRekorbetRekorbet girişRekorbetSetrabetSetrabet girişSetrabetSüratbetSüratbet girişSüratbetTimebetTimebet girişTimebetKralbetKralbet girişKralbetHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetWinxbetWinxbet girişWinxbetAvvabetAvvabet girişAvvabetTurboslotTurboslot girişTurboslotAlobetAlobet girişAlobetJokerbetJokerbet girişJokerbetTeosbetTeosbet girişTeosbetRomabetRomabet girişRomabetRoketbetRoketbet girişRoketbetGalabetGalabet girişGalabetKulisbetKulisbet girişKulisbetBahiscasinoBahiscasino girişBahiscasinoGrandbettingGrandbetting girişGrandbettingPashagamingPashagaming girişPashagamingAresbetAresbet girişAresbetMasterbettingMasterbetting girişMasterbettingBetraBetra girişBetraAvrupabetAvrupabet girişAvrupabetUltrabetUltrabet girişUltrabetSonbahisSonbahis girişSonbahisDedebetDedebet girişDedebetBetkanyonBetkanyon girişBetkanyonEgebetEgebet girişEgebetAmgbahisAmgbahis girişAmgbahisRoyalbetRoyalbet girişRoyalbetArtemisbetArtemisbet girişArtemisbetEnbetEnbet girişEnbetVegabetVegabet girişVegabetPolobetPolobet girişPolobetBetwildBetwild girişBetwildMaxwinMaxwin girişMaxwinTarafbetTarafbet girişTarafbetBetpuanBetpuan girişBetpuanBetplayBetplay girişBetplayLunabetLunabet girişLunabetBetgarantiBetgaranti girişBetgarantiVaycasinoVaycasino girişVaycasinoTambetTambet girişTambetPusulabetPusulabet girişPusulabetikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmovebetsmovebetsmove girişbetsmovebetsmovebetsmove girişbetsmoverealbahisrealbahis girişrealbahisrealbahisrealbahis girişrealbahisrealbahisrealbahis girişrealbahislivebahislivebahis girişlivebahislivebahislivebahis girişlivebahislivebahislivebahis girişlivebahissmartbahissmartbahis girişsmartbahissmartbahissmartbahis girişsmartbahissmartbahissmartbahis girişsmartbahisikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmoveikimisliikimisli girişikimislitophillbettophillbet giriştophillbetmislibetmislibet girişmislibetikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmovebahislionbahislion girişbahislionbahislionbahislion girişbahisliontophillbettophillbet giriştophillbetmislibetmislibet girişmislibet
Tuesday, September 8, 2026
গল্পফিচার নিউজশিল্প-সাহিত্য

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ২০)

মুহসীন মোসাদ্দেক

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বসির ভাই বিচলিত হয়ে বলে, ‘কী হইলো! কোথায় শব্দ হইলো!’
কিবরিয়া বললো, ‘আমার তো মনে হয় এই ঘরের ভিতর থেইকা শব্দটা আসলো। সাথে কে যেন চিৎকারও তো কইরা উঠলো!’
মাসুম ভয় ভয় গলায় বললো, ‘আমরা ছাড়া তো এইখানে এখন কেউ থাকার কথা না বসির ভাই! সত্যিই ভূত-টুত না তো!’
বসির ভাই ধমকে উঠলো, ‘রাখ তোর ভূত! প্রায় পাঁচ বছর ধইরা এই বাড়িত এইরকম মাঝ রাইতে যাওয়া-আসা করতেছি, কোনোদিন একটা মশাও কামড়াইলো না আর আইজ ভূত আইসা বইসা থাকবো!’
কুদ্দুসকে অর্ডার করে বসির ভাই, ‘কুদ্দুস রাইফেল তাক কইরা ধরো। সামনে আগাও, দেখি ঘরের মইধ্যে কোন চেহারার ভূত বইসা আছে!’
ঘরের ভেতরে টর্চের আলো এসে পড়ে। লাবুদের বুকের ভেতর ধক ধক করতে শুরু করে। এই ঘরে কোনো জানালা নেই, পালানোর তাই কোনো রাস্তাও নেই। তারা ধরা পড়ে যাচ্ছে, বিশেষ কিছু আর করার নেই! রাইফেলের কথা স্পষ্ট শোনা গেছে। তাদের কাছে রাইফেলকে পরাস্ত করার মতো বলতে গেলে কিছু নেই। সুতরাং, তারা আতঙ্কভরা চেহারা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। একেবারে যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়!
কুদ্দুস রাইফেল তাক করে ভেতরে ঢোকে আর তার পাশ থেকে বসির ভাই টর্চ হাতে ঢোকে। বসির ভাইয়ের পেছনে থাকে মাসুম আর কিবরিয়া। ঘরের ভেতরে টর্চ ঘোরাতে ঘোরাতে যখন লাবুদের মুখের ওপর পড়ে তখন চমকে ওঠে বসির ভাই। ছিটকে পেছনে সরে যায়! মাসুম একেবারে জড়োসড়ো হয়ে বসির ভাইকে জাপটে ধরে। কিবরিয়াও ভয় পেয়ে পেছনে সরে যায়। আর কুদ্দুস দাঁত-মুখ শক্ত করে রাইফেল তাক করে রাখে লাবুদের দিকে।
বসির ভাই আতঙ্কভরা কণ্ঠে বলে, ‘কে-কে এরা! কই থেইকা আসলো!’
মাসুম বললো, ‘ভূত না তো ভাই! বাচ্চার বেশ ধইরা বইসা আছে!’ বসির ভাইকে আরো চেপে ধরে মাসুম!
বসির ভাই বিরক্ত হয়ে মাসুমকে একটা ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘ভূত ছাড়া তোর মুখে কোনো কথা নাই! দেখা যাইতিছে জলজ্যান্ত মানুষের বাচ্চা! আর গাধায় কয় ভূতের বাচ্চা!’
কিবরিয়া স্বাভাবিক হয়, কিছু একটা বুঝে ফেলেছে এইরকম ভাব করে বলে, ‘বসির ভাই, ভালো কইরা দেখেন তো, চিনতে পারেন কিনা!’
বসির ভাই ভালো করে দেখে, ‘এর আগে মনে হইতিছে কোথাও দেখছি!’
‘আরে! সেইদিন নৌকায় যখন বৈদেশিরে নিয়া যাইতেছিলাম তখন যে ত্যান্দর পোলাগুলা নদীতে নৌকা নিয়া ঘুরতিছিল—এইগুলা সেই পোলা!’
‘তাইতো! তাইতো!’ বসির ভাই টর্চ নিয়ে এগিয়ে এসে প্রত্যেকের মুখের ওপর আলো ফেলে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়, ‘হ্যাঁ, সেই পোলাগুলাই তো!’
টর্চের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায় লাবুদের। তবুও আর চিনতে কষ্ট হয় না। এইজন্যই কিবরিয়া আর বসির ভাইয়ের কণ্ঠ তাদের চেনা চেনা লাগছিল!
ভয়ে সবার বুকের ভেতর শ্যালো মেশিন চলতে থাকে। আতঙ্কভরা চেহারায় চোখ বড় বড় করে সেইভাবে চুপচাপ বসে থাকে সবাই। তাদের তো এছাড়া আর বিশেষ কিছু করারও নেই!
বসির ভাই বলে, ‘এইযে পোলাপাইন, ঘটনা কী? কী করতে আসছো এইখানে?’
‘এমনিই কাকু!’ লাবু কিছুটা স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে।
‘ইয়ারকি করো! এই বাড়ি সবার কাছে ভূতের বাড়ি। এই বাড়ির আশেপাশে কেউ আসে না ভয়ে! আর তোমরা নাদান পোলাপাইন এমনি এমনি এই মাঝ রাইতে এইখানে চইলা আসছো! এইটা কুতকুত খেলোনের জায়গা!’ কিবরিয়া দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে বলে। সেদিন এই কিবরিয়া নৌকা চালাচ্ছিল।
লাবু আবারো স্বাভাবিকভাবে জবাব দেয়, ‘সত্যিই আমরা এমনি এমনি এসেছি।’
‘দেখো পোলা, বেশি প্যাঁচাইও না! সত্যি কইরা কও ঘটনা কী? না হইলে কিন্তু মাথার খুলি উড়ায় দিবো!’ বসির ভাই একটা রিভলবার বের করে কোমড়ের কাছ থেকে।
‘সত্যি কথাই বলছি কাকু। আমরা এমনি এমনি এসেছি।’ লাবু তার কথাতে অটল থাকে। রিভলবারকে কেয়ার করে না।
কিবরিয়া বলে, ‘এই মালটা মনে হয় শহরের। নিশ্চয় পুলিশ কিংবা ডিবির গুপ্তচর!’
বসির ভাই হুংকার দিয়ে বলে, ‘দেখো পোলা, ঠিকঠাক সব কইয়া ফেলাও। না হইলে কিন্তু পুলিশ-ডিবি যে-ই আসুক, কেউ তোমাগোরে রক্ষা করতে পারবো না!’
এবার সুরুজ বলে, ‘আসলে হইছিল কী—’ বসির ভাই সুরুজের দিকে মনোযোগ দেয়, সুরুজ বলতে থাকে, ‘একজন আমাগোর সাহস নিয়া, বুকের পাটা নিয়া টিটকারি মারছিল। আর কইছিল আমরা যদি মাঝ রাইতে ভূতের বাড়িতে আসতে পারি তাইলে বুঝবো—হ্যাঁ, আসলেই আমরা সাহসী, আমাগো বুকের পাটা আছে। তার জন্যই—’
কথা শেষ করতে পারে না সুরুজ, বসির ভাই দাঁত খিঁচিয়ে বলে, ‘আমারে কি পোলাপাইন পাইছো, তোমার কি ধারণা আমি ফিডার খাই? পেট বানায়া একটা কথা কইয়া দিলা আর আমি বিশ্বাস কইরা তোমাগো ছাইড়া দিলাম! তারপর ডিবি-পুলিশ আইনা আমাগোরে ধরাই দিবা! অতই সস্তা!’
লাবু বসির ভাইয়ের মুখের ওপর বলে বসে, ‘বিশ্বাস করলে করলেন, না করলে নাই! যা করার করেন—’
বসির ভাই যেন পাগলের মতো হয়ে যায়, ‘কী কইলো! ওই, কী কইলো এই পোলা! আমারে এইরকম চ্যালেঞ্জ করে! ওই জানে বসির কেডা! বসির কী করবার পারে!’
কিবরিয়া বলে, ‘অত কথার দরকার নাই বসির ভাই। সবগুলারে আগে বাঁন্ধেন। তারপর দেখতেছি কী করা যায়।’
বসির ভাই অর্ডার করে, ‘ওই, দড়ি আন। সবকয়টারে বাঁইন্ধা ফেলা। তারপর পুব পাশের কোণার ঘরে নিয়া গিয়া ফালায়া রাখ। ওগোরে বুঝাইতিছি বসির কেডা!’
মাসুম আর কিবরিয়া দড়ি এনে সবাইকে বেঁধে ফেললো। কেউ টুঁ শব্দও করলো না। করবে কী করে! কুদ্দুস যে দাঁত-মুখ শক্ত করে রাইফেল তাক করে ছিল!
দুইজন দুইজন করে পেছন দিকে হাত বেঁধে সবাইকে পুব পাশের কোণার ঘরে নিয়ে এক কোণায় ফেলে রাখা হলো। তারপর ছয়জনকে একসাথে বসিয়ে আবার একটা দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো। এই ঘরেও কোনো জানালা নেই। ঘরের ভেতর সেই উৎকট গন্ধ, গরম আর জমাট অন্ধকার! লাবুরা চুপচাপ বসে থাকলো সেইভাবে। বাইরে রাইফেল হাতে পাহারায় থাকলো কুদ্দুস।
কিছু সময় পর রুবেল ফিসফিস করে বললো, ‘এখন কী করবি?’
‘আপাতত চুপচাপ বসে থাক।’ লাবু ফিসফিস করেই খুব নির্মোহ ভঙ্গিতে বললো।
ইলিয়াস কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, ‘যদি মাইরা ফেলায়!’
লাবু আশ্বস্ত করে, ‘বলা সহজ, করা সহজ না। ভয় করিস না। আপাতত চুপচাপ বসে থাক। দেখা যাক কী হয়।’
সুরুজ একটু ক্ষেপে ওঠে, ‘এত কিছু হইতো! সব এই বেকুব টিপুর জন্য!’ টিপু আর সুরুজকে একসাথে বেঁধেছে। কথাটা বলেই সুরুজ টিপুকে ধাক্কা দেয়।
টিপু প্রতিবাদ করে ওঠে, ‘আমি কী করবো! পায়ের উপুর দিয়া কী জানি হাঁইটা গেলো! ভয় পাইয়া গেলাম!’
‘এইটুকুতেই ভয় পাইয়া যাবি তো এইখানে আসছিস ক্যান!’ সুরুজ দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে বলে।
লাবু ফিসফিস করেই ধমকায়, ‘আহ! এখন ঝগড়া করার সময়! চুপচাপ বসে থাক। কোনো কথা বলার দরকার নাই।’
কেউ আর কোনো উত্তর দেয় না।
বসির ভাই, মাসুম আর কিবরিয়া ঘরে আসে। পিছে পিছে রাইফেল তাক করে আসে কুদ্দুস।
বসির ভাই লাবুদের মুখের ওপর টর্চ মেরে বলে, ‘কী পোলাপাইন, কেমন লাগতিছে?’
কেউ জবাব দেয়ার আগ্রহ দেখায় না।
বসির ভাই মাসুম আর কিবরিয়াকে উদ্দেশ করে বলে, ‘ম্যালা দেরি হইয়া গেলো। ওস্তাদ মনে হয় খেইপা উঠছে। চল, মালগুলা আগে দিয়া আসি। এরা এইখানেই থাকুক। কুদ্দুসরে রাইখা যাই।’
কিবরিয়া বলে, ‘এইগুলারে সাথে নিয়া গেলে হয় না!’
‘না, বৈদেশির সামনে এইগুলারে নিয়া যাওয়া ঠিক হইবো না। বৈদেশিরে মাল দিয়া বিদায় করি। তারপর ওস্তাদ যা করার করবো।’
‘কিন্তু যদি পালায় যায় কোনোভাবে! ওরা তো আমাগো সবকিছু শুইনা ফেলছে। পালাইলে কিন্তু গেছি!’
বসির ভাই খেঁকিয়ে ওঠে, ‘পালাইবো ক্যামনে! ভালো কইরা বাঁন্ধস নাই!’
‘বাঁন্ধি নাই মানে, একেবারে রাম গিঁট্টু দিয়া বাঁন্ধছি!’
‘তাইলে আবার কী, কুদ্দুস পাহারায় থাকতিছে—পালাইবো ক্যামনে!’
‘কুদ্দুসের কোনো ভরসা আছে! সুযোগ পাইলেই তো ঝিমায়!’
কুদ্দুস তেতে ওঠে, ‘তোরে কইছে আমি ঝিমাই! ওইটা গার্ড দেয়ার একটা টেকনিক।’
‘ওরে আমার টেকনিকওয়ালা আসছে! বৈদেশির লগে দুইদিন থাইকা ইংরাজি ফুটানি শিখছে!’
বসির ভাই কিবরিয়াকে ধমকায়, ‘আহ, থাম তো!’
তারপর কুদ্দুসকে উদ্দেশ করে বলে, ‘কুদ্দুস, ঠিকমতো খেয়াল রাখবি। যদি উল্টাপাল্টা কিছু হইছে তাইলে কিন্তু কইলাম তোরে নাই কইরা দিবো!’
‘আপনে টেনশন নিয়েন না ভাই, আমার হাতে ছাইড়া দিয়া নিশ্চিন্ত মনে যান।’
কিবরিয়া আবার হই হই করে ওঠে, ‘ওরে মোর আল্লাহ, কুদ্দুস তো দেখি ইংরাজির গাছ হইয়া যাইতেছে!’
কুদ্দুস আর লাগে না। বসির ভাই বলে, ‘চল যাই।’
ঘর থেকে সবাই বেরিয়ে যায়। খানিক এগিয়ে গিয়ে বসির ভাই চেঁচিয়ে বলে, ‘কুদ্দুস, ভালো কইরা খেয়াল রাখিস কইলাম!’
কুদ্দুসও চেঁচিয়ে জবার দেয়, ‘আইচ্ছা!’
কুদ্দুস টর্চ মেরে একবার ঘরের ভেতরটা দেখে নিয়ে বাইরে গিয়ে বসলো।
সবকিছু একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। জমাট অন্ধকার, উৎকট গন্ধ, গরমে ঘেমে পুরো শরীর ভিজে একাকার অবস্থা। সবাইকে একসাথে বাঁধা। এমনভাবে বাঁধা যে নড়াচড়ার কোনো বুদ্ধি নেই। কিছুক্ষণের ভেতরে শরীরে ঝিঁ ঝিঁ ধরে গেলো। খুব অস্বস্তি লাগতে থাকে। মনে হয় জান বেরিয়ে যাবে।
কী থেকে কী হয়ে গেলো! লাবু মনে মনে দুর্দান্ত একটা অ্যাডভেঞ্চারের ছক কষে নিয়েছিল! জীবনে অনেক দস্যিপনা করেছে, কিন্তু এমন অ্যাডভেঞ্চার কখনো করে নি! দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হতো। এর পরিবর্তে এখন বন্দিদশার অভিজ্ঞতা নিতে হচ্ছে। বিদেশিকে বিদায় করে ওস্তাদকে নিয়ে যখন বসিরেরা ফিরবে তখন কী হবে কে জানে!
এদিকে বিশেষ কোনো বুদ্ধিও মাথায় আসে না। ছাড়া পাবার বিশেষ কোনো সুযোগ-সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না! এটা তো আর কোনো গল্প-উপন্যাস নয় যে লেখক এইরকম পর্যায়ে তাদের উদ্ধারের জন্য কাউকে পাঠিয়ে দেবে! তারপর তারা দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটিয়ে এখান থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে! চোরাকারবারির দলটাকে ধরিয়ে দিয়ে দেশ-বিদেশে হইচই ফেলে দেবে! সুতরাং এখান থেকে উদ্ধারের আপাতত কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না। লাবুরাও আপাতত সে স্বপ্ন দেখার আর আগ্রহ পায় না! চরম অনিশ্চয়তা এবং উৎকণ্ঠার ভেতরে চুপচাপ বসে থাকে!

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বসমূহ:

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৮)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৯)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১০)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৮)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৯)

লেখক পরিচিতি
মুহসীন মোসাদ্দেক
জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী, বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন। বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি চললেও লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা কেবল এতটুকুই, কিছু উপযুক্ত পাঠক সঙ্গী হোক তার লেখার এ দুরন্ত জীবনে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
WordPress Workshop Webba Booking – WordPress Appointment & Reservation plugin WebHoster – Web Hosting Service Elementor Template Kit Webify – All-in-One Elementor WordPress Theme Webina – Business Agency & Startup Elementor Template Kit Webiso - Dark Digital Agency Elementor Template Kit Webly – WordPress Blog Theme Website Bounce Rate Control – Add-on Webster – Responsive Multi-purpose HTML5 Template WebViewGold for Android | Convert website to Android app | No Code, Push, URL Handling & much more! WebViewGold for iOS | Convert website to iOS app | No Code, Push, URL Handling & much more!