দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : নিজের হাতে তিলে তিলে তৈরি করছেন জেলখানা, তাও আবার নিজেরই জন্য! তাই পরম মমতায় কখনও ভিতে, কখনও বা নিজের ঘাম ঝরিয়ে তৈরি দেওয়ালে হাত বোলান সরোজিনী। কখনও লাথি মারেন আক্রোশে। এ কষ্ট সইতে পারা কি মুখের কথা?
গোয়ালপাড়ার মাটিয়ায় দলগোমা গ্রামে ২০ বিঘা জমি জুড়ে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম অ-নাগরিক আটক কেন্দ্র (ডিটেনশন ক্যাম্প)। কাজ চলছে জোরকদমে। আর কাজ করছেন যারা, গোয়ালপাড়া, ধুবুড়ি, বরপেটা থেকে আসা সেই ৪৫০ জন শ্রমিকের মধ্যে এনআরসি-ছুট অনেকে। অধিকাংশই নারী।
২ নম্বর রেফিউজি গ্রামের বাসিন্দা নয়নতারা হাজং বলেন, এখানে সবাই মজা করে মেয়েদের নিয়ে। বলে, ‘নিজেদের জেল নিজেরাই বানাচ্ছিস। ভাল করে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিস।’ গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। আমি তো এনআরসিতে নাম এসেছে কিনা, দেখিইনি। পাত্তা দিই না আর। যা হবে হোক।
সরোজিনী হাজং। বাড়িতে এক ছেলে, এক মেয়ে। স্বামী গৌরাঙ্গের মানসিক সমস্যা। বাড়িতে পাঁচটা পেট চলছে জেল তৈরির দিন-হাজিরা বাবদ পাওয়া ২৫০ টাকায়। বৃষ্টিভেজা সরোজিনী মাথা থেকে বালি ভরা ডোঙা নামিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এখানে দিন হাজিরা বাদ দিয়ে আমার পক্ষে একা ফরেনার্স ট্রাইবুনালে যাওয়া, মামলা করা, উকিল ধরা সম্ভব?



















