দৈনিক সমাচার ডিজিটাল ডেস্ক : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আবারও সক্রিয় হয়েছে সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল। বুধবার সংস্থার কয়েকজন আধিকারিক হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সূত্রের দাবি, তাঁরা হাসপাতালের কয়েকজন নার্সের সঙ্গে কথা বলেন এবং অধ্যক্ষের দপ্তরও পরিদর্শন করেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সিবিআইয়ের নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছিল। সেই দলে নেতৃত্বে ছিলেন সিবিআইয়ের যুগ্ম ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার। তদন্তের বিভিন্ন দিক পুনরায় খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানির সময় বিচারপতিরা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তদন্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এরপরই সিবিআইয়ের নতুন দলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে।
আগামী ২৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার আগে তদন্তের বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দিতে হতে পারে। সেই কারণেও তদন্তকারীরা নতুন করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে শিয়ালদহ আদালতে সিবিআই জানায় যে মামলার তদন্তভার নতুন তদন্তকারী অফিসারের হাতে দেওয়া হয়েছে। পুরনো কেস ডায়েরি, নথি ও অন্যান্য প্রমাণপত্র পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংস্থা আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময়ও চেয়েছিল।
মামলার শুরুতে তদন্ত করেছিল কলকাতা পুলিশ। তাদের গ্রেফতার করা মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় পরবর্তীতে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সিবিআই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ঘটনার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়নি। আদালতেও এ বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা তদন্তকারী সংস্থাকে পুরনো অনুসন্ধানের প্রভাবমুক্ত থেকে নতুন করে পুরো ঘটনাক্রম যাচাই করার পরামর্শ দেন।
সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, তারা প্রতিটি অভিযোগ ও সম্ভাব্য সূত্র সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছে। সংস্থার দাবি, দক্ষ আধিকারিকদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং কোনও দিকই উপেক্ষা করা হবে না। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি আদালতের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতিও চলছে।