দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশ নেপালে সাম্প্রতিক দুর্যোগে পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। টানা বৃষ্টিপাত ও আচমকা নেমে আসা প্রবল হড়পা বানের তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। ধস ও কাদামাটির স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ লোকালয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চললেও জীবিত উদ্ধারের আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।
উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান চিত্র
হতাহতের সংখ্যা: দুর্যোগের পর থেকে উদ্ধার অভিযান টানা ষষ্ঠ দিনে পা দিয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে নয়শোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হাজার হাজার মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: দুর্যোগের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চিতোয়ান, নওয়ালপারসি, গোর্খা, নুয়াকোট, ধাদিঙ ও তানাহুর মতো জেলাগুলোতে। ভোটেকোশী নদীর উপচে পড়া জল ও কাদার প্রবল তোড়ে জনপদ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে। বহু দেহ মূল অকুস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে।
শনাক্তকরণে সমস্যা: বেশিরভাগ দেহই পচেগলে বিকৃত হয়ে যাওয়ার কারণে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পুলিশ কেবল ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে রাখছে।
গণকবরের সিদ্ধান্ত: হাসপাতাল ও মর্গে মৃতদেহ রাখার মতো আর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তথ্য ও নমুনা সংরক্ষণ করে গণকবরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তে তাণ্ডব ও ভারতীয়দের পরিস্থিতি
হড়পা বানের এই প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। চিনের সীমানায় বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ।
তামিলনাড়ুর পর্যটকদল: কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে যাওয়া তামিলনাড়ুর প্রায় অর্ধশত পর্যটকের একটি দলের সাথে দুর্ঘটনার পর থেকে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা: কলকাতার ৩২ জন পর্যটকসহ পশ্চিমবঙ্গের অন্তত সাঁত্রিশ জন নাগরিক এই দুর্যোগে আটকে রয়েছেন বা নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মজীবী ও সুরক্ষাকর্মী: নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক। এ ছাড়া নেপাল সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন সদস্যেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য
প্রিয়জনদের খোঁজে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবেশী ভারত থেকে ইতোমধ্যেই বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা থেকে খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছে।