দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করি হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে প্রতিনিয়ত উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ। ফলে মৃতের সংখ্যা দ্রুত লাফিয়ে বাড়ছে, আর নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে।
উদ্ধার অভিযান ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান
মৃত ও নিখোঁজ: নেপালের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা (NDRRMA) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৫০ জনে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত ১২,০০০ জন বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র: দেশের অন্তত ৮টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে চিত্রওয়ানে সর্বাধিক ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পূর্ব নওয়ালপারসিতে ২১৬, পশ্চিম নওয়ালপারসিতে ১৭০, নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬৫, ধাডিংয়ে ৫৭, রাসুয়ায় ৪১ এবং তানাহুন জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলেও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
‘প্রতীকী দাহ’ ও শোকাকুল স্বজনেরা: স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে বহু পরিবার কুশপুতুল তৈরি করে ধর্মীয় আচার মেনে শেষকৃত্য বা ‘প্রতীকী দাহ’ সম্পন্ন করছেন, যাতে নিহত প্রিয়জনের আত্মা শান্তি পায়।
সতর্কবার্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এই বিপর্যয়ের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে এ ধরণের হিমবাহ ধস ও হড়পা বানের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নেপাল, ভারত ও চিনের প্রায় ৪৭টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভারতীয়দের লাশ শনাক্ত ও হস্তান্তরে দূতাবাসের ৯ দফা নির্দেশ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঠমান্ডুস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। কোনো ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে থাকলে, লাশ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া পর্যন্ত মোট ৯টি নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হবে:
১. মৃতদেহের আনুষ্ঠানিক নথিভুক্তকরণ।
২. ছবি তুলে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বিশদ তথ্য সংরক্ষণ।
৩. বাধ্যতামূলক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা।
৪. মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা।
৫. শনাক্তকরণের সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল।
৬. ডিএনএ (DNA) ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা।
৭. দূতাবাসের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাগজপত্র ও ছাড়পত্র প্রস্তুত করা।
৮. মেমোরেন্ডামসহ আনুষ্ঠানিকভাবে লাশ হস্তান্তর করা।
৯. নেপাল সরকারের নিয়ম মেনে মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।