Saturday, December 3, 2022
Latest Newsআন্তর্জাতিক

ইউরোপ, আমেরিকার ২০০ ব্যাঙ্ক লুট করে ফিলিস্তিনীদের কোটি টাকা দান! এখনও জীবিত ‘স্মাইলিং হ্যাকার’ হামজা

দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক : টাকা হাতাতে ব্যাঙ্কে যেতেন না। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে হাতিয়ে নিতেন ইউরোপ, আমেরিকার বহু ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা। নাম হামজা বেন্দেলাজ। যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘স্মাইলিং হ্যাকার’ নামে। অভিযোগ, ইউরোপ, আমেরিকার ২০০টি ব্যাঙ্ক থেকে টাকা লুট করেছিলেন হামজা। ব্যাঙ্কগুলির কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকিয়ে টাকা বার করে নিতেন তিনি।

ইন্টারপোল, আমেরিকার ফেডেরাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হ্যাকারদের তালিকায় নাম ছিল। সেই তালিকায় প্রথম ১০ জনের মধ্যে ঠাঁই পেয়েছিলেন হামজা। হামজার জন্ম ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালে। আলজিরিয়ার তিজি ওজুতে। ‘বিএক্স১’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন তিনি। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ছিলেন হামজা। শোনা যায়, পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। পাঁচটি ভাষা গড়গড়িয়ে বলতে পারতেন হামজা। ছিলেন প্রযুক্তিতে দক্ষ। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দুনিয়ার যে কোনও ব্যাঙ্ক থেকে টাকা লোপাট করতে সমর্থ ছিলেন।

এহেন হামজা বহু মানুষের কাছে ছিলেন ‘গরিবের রবিনহুড’। শোনা যায়, ব্যাঙ্ক থেকে যে টাকা লুট করতেন হামজা, তা বিভিন্ন প্যালেস্তিনীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দান করতেন। যদিও তাঁর বিচারের নথিতে সে রকম দানধ্যানের উল্লেখ নেই। টাকা হাতিয়ে হামজা কী করতেন, সেখানে বলা হয়নি। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি হামজা মালয়েশিয়া থেকে মিশর যাচ্ছিলেন স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে। ব্যাঙ্কক বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ধরে তাইল্যান্ডের পুলিশ। শোনা যায়, গ্রেফতারের পরেও শান্ত ছিলেন হামজা। হাসতে হাসতে হাতকড়া পরেছিলেন। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দুনিয়ায়। তার পরেই দুনিয়ার কাছে তিনি পরিচিত হয়েছিলেন ‘স্মাইলিং হ্যাকার’ নামে। তিনি ধরা পড়লেও তাঁর স্ত্রী আর মেয়ে বিমান ধরে চলে গিয়েছিলেন মিশর।

২০১৩ সালের মে মাসে তাইল্যান্ড থেকে হামজাকে প্রত্যর্পণ করে আনা হয়েছিল আমেরিকায়। আটলান্টায় তাঁর বিচার শুরু হয়। ২০১৫ সালের ২৫ জুন তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। ৩০ বছর জেল এবং এক কোটি ৪০ লক্ষ ডলার জরিমানা করা হয় তাঁর। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১১১ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা। যদিও রটে যায়, হামজাকে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকার আদালত। নেটমাধ্যমে সেই নিয়ে হইচই পড়ে যায়। তবে মৃত্যুদণ্ড হয়নি হামজার। এখনও আমেরিকার জেলেই রয়েছেন তিনি।

 

Leave a Reply

error: Content is protected !!