দৈনিক সমাচার, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস চর্চায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের ত্যাগের কথা স্মরণ না করলে আমাদের স্বাধীনতার পূর্ণতা আসে না। এমনই এক অবিসংবাদিত বীর বিপ্লবী শের আলী—যিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ মূলধারার ইতিহাসে আজও তিনি একরকম উপেক্ষিত।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের অপরাধে শের আলীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই সাজা ভোগ করতেই তাঁকে পাঠানো হয়েছিল আন্দামানের কুখ্যাত সেলুলার জেলে (কালাপানি)।
লর্ড মেয়োর ওপর ঐতিহাসিক আক্রমণ
সেলুলার জেলের বন্দিদশায় থাকাকালীন একদিন খবর এল, ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় কুখ্যাত লর্ড মেয়ো জেল পরিদর্শনে আসছেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এই অত্যাচারী প্রতিনিধির ওপর ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল শের আলীর অন্তরে। সুযোগ বুঝে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় রক্ষীদের পরাস্ত করে তিনি চাকু হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লর্ড মেয়োর ওপর। শের আলীর চাকুর আঘাতেই আন্দামানের জেলেই তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় লর্ড মেয়োর।
ফাঁসির কাষ্ঠে শহীদি মৃত্যু
এই ঘটনার পর শের আলীর ওপর শুরু হয় দ্বিতীয় দফা বিচার। ব্রিটিশ আদালত অনুমিতভাবেই তাঁকে ফাঁসির রায় দেয়। বিচার চলাকালীন বা ফাঁসির মঞ্চে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি এই বীর বিপ্লবী। হাসিমুখে, বীরের মতো ফাঁসির কাষ্ঠে তিনি আলিঙ্গন করেন শহীদি মৃত্যুকে।
কিন্তু কী এক অদ্ভুত বিস্ময়ে, লর্ড মেয়োর মতো ব্রিটিশ বড়লাটকে খতম করা এই বীর বিপ্লবীর স্থান ভারতের মূলধারার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আজও যথাযথভাবে হলো না। জাতির এই মহান নায়কের অবদানকে স্মরণ করা বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব।