কলকাতা: নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নার্স রুপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার ও বিভিন্ন মহল।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে: অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধের প্রয়োগের ফলেই রুপালির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অক্সিজেনের অভাবে তাঁর চোখের সাদা অংশ, নখ ও জিভের একাংশ নীলচে হয়ে গিয়েছিল এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই মৃত্যু হয়। তবে এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে, মৃতার দুই কনুইয়ে ছুঁচ ফোটার চিহ্ন মেলায় এবং ঘটনাস্থল থেকে ফেন্টানিল ও মিডাজোলামের মতো অচৈতন্য করার ইঞ্জেকশনের ভায়াল উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও গভীর হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে একটি ৮ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের অ্যান্টি নেটাল ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজ (১২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত) খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত দুই পুলিশ কনস্টেবল এবং সেই শিফটের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বয়ানও নেওয়া হচ্ছে। ভায়াল কোথা থেকে এল এবং তার জন্য কোনো রেজিস্টার মেনটেইন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশাসন এখনো কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে এনআরএসে ময়নাতদন্ত না করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে তা করানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।