রাজ্য

সময় সীমিত, গ্রামবাসীর নথি সংশোধনে নাওয়া খাওয়া ভুলেছেন সারওয়ার-আমিনুলরা

ছবি : নিজস্ব

সামাউল্লাহ মল্লিক, দৈনিক সমাচার, তমলুক : ভোটার তালিকা সংশোধন বা ইলেক্টর্স ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর, চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্বাচক তথ্য যাচাই কর্মসূচি নিয়ে আমজনতার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। কমিশনের এই উদ্যোগে এনআরসি এবং ডি-ভোটারের (সন্দেহজনক ভোটার) জুজু দেখছেন অনেকে। ফলে তথ্য যাচাইয়ের ভিড় দেখা যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাফেতে।

এহেন পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামবাসীর নথি সংশোধনে এগিয়ে এলেন তমলুকের উত্তর সোনামুই গ্রামের কিছু মানুষ। রাজনৈতিক দল ‛ওয়েলফেয়ার পার্টি’র পক্ষ থেকে সারওয়ার হাসান, আমিনুল ইসলাম, শাহ আলম, মানোয়ার খান সহ ৮-১০ জন যুবক কমিশনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এলাকার মানুষদের তথ্য যাচাই/সংশোধন করে দিচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁরা রেশন কার্ড সংশোধনের ফর্ম ফিলাপও করছেন বিনামূল্যে। জানা গিয়েছে পার্টির এই ক্যাম্প চলবে কমিশনের নির্ধারিত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

রাজ্যজুড়ে গড়ে ওঠা ক্যাফেগুলি যখন ইভিপি’র নামে মানুষের গলা কাটতে ব্যস্ত, তখন সারওয়ার-আমিনুলরা যৎসামান্য পারিশ্রমিকে রাতদিন এক করে গ্রামবাসীর জন্য কাজ করে চলেছেন। উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর সোনামুই বুথে জয় পেয়েছিল ওয়েলফেয়ার পার্টি। পার্টির রাজ্য সম্পাদক সারওয়ার হাসান নিজেও উত্তর সোনামুই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর কথায়, ‛ভোটে জিতে মানুষকে ভুলে যাওয়ার লোক নেই আমাদের পার্টিতে।’

সারওয়ার হাসান বলেন, ‛গ্রামবাসীর কাজ করে আমরা কোনও পারিশ্রমিক নিচ্ছিনা। তাঁরা খুশি হয়ে আমাদের ৩০-৪০ টাকা করে দিচ্ছেন। টাকা দিতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। আমাদের অফিসের প্রিন্টিং খরচ, ইলেকট্রিক খরচের জন্য এই সামান্য টাকা নেওয়া হচ্ছে।’ এদিকে পার্টির এহেন কর্মকাণ্ডে এলাকাজুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন সারওয়ার, আমিনুল, মানোয়ার, শাহ আলম, সানোয়ার, হাবিবুল্লাহ, আয়াতুল্লাহ, আমেদুল্লাহ, নজরুলদের কাছে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!