নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ:
বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি জলের তলায়। কুয়ে নদীর উপচে পড়া জলে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের সুন্দরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সোনাভারুই গ্রামের কৃষকরা। গত চার দিন ধরে নদীর জল না নামায় সদ্য রোপণ করা ধানের চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মাথায় হাত পড়েছে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কুয়ে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ চাষের জমিতে হু হু করে জল ঢুকে পড়ে। চার দিন অতিক্রান্ত হলেও সেই জল এখনও নামেনি। এর জেরে সদ্য লাগানো ধানের চারা সম্পূর্ণভাবে জলের নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আর মাত্র কয়েকদিন জল জমে থাকলেই ধানের গাছগুলি সম্পূর্ণ পচে যাবে এবং চলতি মরশুমের সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এলাকার এক কৃষক বলেন, “চার দিন ধরে পুরো জমি জলের তলায়। অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। এখন কুয়ে নদীর জলে সব শেষ হয়ে গেল। ধান যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে বাঁচব কী করে, সংসারই বা চালাব কীভাবে— সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গেছে।”
আরেক কৃষকের ক্ষোভ, “প্রতি বছর বর্ষার সময় কুয়ে নদীর জল বাড়লেই এই দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু নদীর জল নিষ্কাশন ও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ প্রশাসনের তরফে চোখে পড়ে না। ফলে বছরের পর বছর কৃষকদের এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শুধু ধান চাষই নয়, নদীর জল বৃদ্ধির কারণে এলাকার সমস্ত কৃষি কাজই কার্যত থমকে গেছে। অনেক চাষি ইতিমধ্যেই বীজ, সার, কীটনাশক কেনা এবং শ্রমিক বাবদ হাজার হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে সম্পূর্ণ জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় সেই সমস্ত বিনিয়োগ জলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা।
দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা না করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য অবিলম্বে সরকারি সাহায্য এবং উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সোনাভারুই গ্রামের মানুষ।
কৃষকদের একটাই আকুতি, কৃষিই তাঁদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এই ধানের ওপর নির্ভর করেই সারা বছর পেটের ভাত জোগাড় হয় তাঁদের। কিন্তু কুয়ে নদীর মরিয়া গ্রাসে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের আশায় দিন গুনছেন সোনাভারুইয়ের বাসিন্দারা।