Sunday, July 5, 2026
গল্পফিচার নিউজশিল্প-সাহিত্য

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৪)

মুহসীন মোসাদ্দেক

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

বেড়াতে এসেও স্কুল…

যে সময়ে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট্ট নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা সেই সময়ে লাবুকে স্কুলে যেতে হচ্ছে। পুকুরের পাশ দিয়ে একটু এগুলে লাবুদের আমবাগান। আমবাগানের ভেতর দিয়ে স্কুলে যাবার শর্টকাট রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে রুবেল, সুরুজ, টিপু, মিন্টু আর ইলিয়াসের সাথে লাবু স্কুলে যাচ্ছে। বাকিরা যাচ্ছে ফুল স্কুল ড্রেসে, লাবু হাফ ড্রেসে। রুবেলদের স্কুল ড্রেস হলো—সাদা শার্ট আর নীল রঙের প্যান্ট। লাবুদের সাদা শার্টের সাথে খাকি প্যান্ট। আম্মু কখন কখন লাবুর স্কুল ড্রেস, বই-খাতা ব্যাগে ভরে নিয়েছে, সে টের পায় নি। লাবু অবশ্য তার স্কুল ড্রেসও পুরো পরে নি। খাকি প্যান্টটা পরতে তার কেন জানি মন চাইলো না। সাদা শার্টের সাথে সে একটা কালো প্যান্ট পরেছে। ছয়জনের মধ্যে তাকে তাই একটু খাপছাড়াই লাগছে। স্কুলের ছেলেমেয়েরা এটা নিয়ে আবার হাসাহাসি করে কিনা সেটা নিয়ে লাবু একটু চিন্তায় আছে।

লাবু এখনো রাগে গজরাচ্ছে। গজরাতে গজরাতে সে বললো, ‘জুয়েল ভাইকে যদি সাইজ না করেছি!’

সুরুজ বললো, ‘সাইজ করুম না মানে! দরকার লাগলে ছিল্ল্যা কাইট্টা সাইজ কইরা দিবো! আমগো লগে হিটলারি!’
মিন্টু বললো, ‘ঘুঘু দেখিছে, মামুরে এইবার ফাঁদ দেখাই দিবো।’

বাকিরাও সমর্থন যোগায়।

তারা হাঁটছে, কিন্তু স্কুলে যাবার ব্যাপারে তাদের মধ্যে তাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। একেবারে গুটি গুটি পায়ে তারা এগুচ্ছে। পথের মাঝে বিরতিও পড়ছে বারবার। টিপু যেমন একটা ফড়িংয়ের পেছনে অভিযান চালাতে গিয়ে কিছুটা সময় ব্যয় করলো। কথা নাই বার্তা নাই, সুরুজ গাছে চড়ে বসলো, তারপর সেখান থেকে ঝুল দিয়ে বললো, ‘একটু ব্যায়াম কইরা নিই!’ তার দেখাদেখি ইলিয়াস, মিন্টুও একটু ব্যায়াম করে নিলো!

এদের একেক জনের স্বভাব-আচরণ একেক রকম। লাবু এই দলের লিডার। ছাত্র হিসেবে যেমন ভালো, তেমন খুব বুদ্ধিমানও। তবে ক্লাসে সে এবার ফার্স্ট হতে পারে নি মাত্র দুই নম্বরের জন্য।

সেকেন্ডও হতে পারে নি, থার্ড হয়ে গেছে! সুরুজ জোকার টাইপের। সবকিছু নিয়েই সে ফাজলামি করে, সবার সাথেই। ক্লাসের স্যারদের সাথেও ফাজলামি করতে ভয় করে না। এমনকি নিজেকে নিয়ে ফাজলামি করতেও তার দ্বিধা নেই! এদের মধ্যে সে-ই সবচেয়ে দুর্বল ছাত্র। ক্লাসে তার রোল শেষের দিকে। মিন্টু ছাত্র হিসেবে ভালো, ক্লাসে তার রোল দুই। খুব ভালো গান গাইতে পারে মিন্টু। স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানে তাকে গান গাইতে হবেই। এমনকি তাদের অলস কোনো আড্ডায় তাকে গান গেয়ে জমিয়ে রাখতে হয়। টিপু কিছুটা বিজ্ঞানী টাইপের, কিছুটা আলাভোলা টাইপেরও। ছাত্র হিসেবেও মোটামুটি ভালো। সবসময়ই সে বৈজ্ঞানিক কিছু না কিছু নিয়ে ভাবে এবং প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। মাঝেমধ্যেই সে দু-একটি যন্ত্র বানিয়ে তাক লাগিয়ে দেয়। একবার বিভাগীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় তার বানানো যন্ত্র সেরা হয়েছিল। সে যে একটু আগে ফড়িংয়ের পিছে ছুটছিল, এর মধ্যে কোনো বৈজ্ঞানিক বিষয় থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়। রুবেলও ছাত্র ভালো। এবং ভদ্র একটা ছেলে। নেতৃত্ব খুব ভালো দিতে পারে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল খেলায় সে দলের ক্যাপ্টেন। লাবুর অবর্তমানে সে-ই তাই দলের লিডার। ইলিয়াস এদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রম। পড়াশোনায় মোটামুটি। খুব শান্ত-শিষ্ট ছেলে। কথা খুবই কম বলে। এতটাই কম যে মাঝেমধ্যে তাকে বোবা মনে করে ভুল হতে পারে!

চলতে চলতে লাবু বললো, ‘আচ্ছা, তোদের স্কুল সম্পর্কে আমকে একটু বল। তোদের স্যার-ম্যাডামরা কেমন? খুব রাগী না তো!’

আর কাউকে এ বিষয়ে আগ্রহী দেখা গেলো না, রুবেল লেকচার দেয়ার ভঙ্গিতে বলে, ‘হুম, ভালো কথা বলছিস, তোকে কিছু বিষয় জানায় রাখা দরকার। প্রথম কথা হইলো আমাদের স্কুলে কোনো ম্যাডাম নাই। রাগী স্যার তো আছেই, দুইজন উদ্ভট স্যারও আছে।’

‘উদ্ভট স্যার মানে!’ লাবু ভ্রু কুঁচকায়।
‘প্রথমেই বলি জানেমান স্যারের কথা—’
‘জানেমান স্যার!’ লাবু আবার ভ্রু কুঁচকায়।

‘স্যারের নাম আসলে জামান। আমরাই নাম দিছি জানেমান। স্যার হচ্ছে কবি। বাংলা ক্লাস নেয়। স্যার অনেকটা নাকি সুরে কথা কয়। তবে, আমগো মতো গ্রাম্য ভাষায় তেমন কথা কয় না, দুই-একবার হয়তো কয়, এছাড়া তগো মতোনই শহুরে ভাষায় কথা কয়। ক্লাসে আইসা স্যার আমাদের বই খুলে কবিতা পড়তে বইলা নিজে বইসা বইসা কবিতা লিখে। স্যারের কোনো কবিতা যখন পত্রিকায় ছাপা হয় তখন ক্লাসে বইসা পত্রিকার পাতা খুইলা গম্ভীর মুখে সেই পাতার দিকে চাইয়া থাকে। আর বিড়বিড় কইরা কবিতা পড়তে থাকে। আমরা কেউ যখন কই, স্যার আপনের কবিতা ছাপছে? স্যার আরো গম্ভীর হইয়া কয়, হুমম!’

‘ইন্টারেস্টিং তো!’

‘আসলেই ইন্টারেস্টিং। তয় ঝামেলাও আছে। স্যারের কাণ্ড-কারখানা দেইখা খুব হাসি পায়। কিন্তু, ক্লাসে হাসা যাইতো না! একবার হাইসা ফেললেই খবর আছে। ক্লাসের সামনে দাঁড়াইয়া বইয়ের সব কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। না পারলে বা আবৃত্তি পছন্দ না হলে ক্লাসের বাইরে বারান্দায় নিলডাউন কইরা রাখে!’
‘আজব তো!’

‘আরেকজন উদ্ভট স্যার হইলো আজান স্যার—’

‘আজান!’

‘স্যারের নাম আজাদ। ধর্ম ক্লাস নেয় বইলা আমরা নাম দিছি আজান।’

‘ও।’

‘সমস্যা হইলো ক্লাসে ঢুইকাই সামনে থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি বেঞ্চের বাইরের ধারে যারা বইসা থাকে তাদের পেটে স্যার খামচি মারে।’

‘খামচি মারে! স্যার খামচি মারে!’ লাবু এমনভাবে ভ্রু কুঁচকায় যেন ভ্রু দুইটাকে একসাথে জোড়া লাগিয়ে দেবে!
‘হুম। তাও আবার যেই সেই খামচি না, একেবারে জ্বলিয়ে দিবে আর লাল হয়ে যাবে জায়গাটা! স্যারের ক্লাসের আগে সবার মধ্যে রীতিমতো হট্টগোল লাইগা যায়, কেউ ধারে বসতে চায় না। শুধু ছেলেদের পেটে খামচালে হইতো, মেয়েদের পেটেও খামচায়! স্যারের ক্লাসের আগে অনেকেই তাই পালায় যায়! আর ক্লাসে স্যার কিছুই পড়ায় না। আমাদের রিডিং পড়তে দিয়ে স্যার টেবিলে মাথা রেখে ঝিমায়!’
‘খুব বাজে স্যার তো!’

‘এই দুই স্যারের কথা গেলো। অঙ্ক আর ইংরেজি স্যার খুব রাগী। পড়া না পারলে বেত দিয়ে পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুইলা ফেলায়! বিজ্ঞান স্যার আবার অনেক মজার। আমাদের সাথে অনেক বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে আলাপ করে, অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও করা হয় ক্লাসে। খুব ভালো লাগে সেসব। টিপুর সাথে স্যারের খুব ভালো জমে!’

‘বাহ, তাহলে তো ভালো।’

কথা বলতে বলতেই ওরা স্কুলে চলে আসে। স্কুলের নির্দিষ্ট কোনো বাউন্ডারি নেই। নির্দিষ্ট কোনো গেটও নেই। স্কুলের ছাদ টিনের। স্কুলের আকৃতি ইংরেজি ‘ইউ’-এর মতো। সামনে বিশাল ফাঁকা জায়গা, বড়সড়ো একটা ফুটবল মাঠের মতো। পেছনের দিকে ধান আর আখক্ষেত।

ক্লাসে গিয়ে ব্যাগ রাখতেই অ্যাসেম্বলির ঘণ্টা পড়লো। অ্যাসেম্বলিতে লাইনের শেষদিকে দাঁড়ালো লাবুরা। লাইনে দাঁড়ানোর পর এদিক-ওদিক চোখ দিতেই লাবু লক্ষ্য করলো আশেপাশ থেকে অনেকেই তাকে দেখছে, তার দিকে কেমন কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। কেউ কেউ একেবারে ড্যাবড্যাব করে দেখছে, কেউ কেউ মাথা ঘুরিয়ে একটু পর পর দেখছে, কেউ কেউ আবার দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। লাবুর খুব বিব্রত লাগে। কিন্তু এমন ভাব করে যে কাউকে সে পাত্তা দিচ্ছে না। আর দাঁত কিড়মিড় করে মনে মনে বলে, ‘জুয়েল ভাইকে যদি সাইজ না করেছি!’

অ্যাসেম্বলি শেষে ক্লাসে এসেও লাবু লক্ষ্য করে অনেকেই তাকে দেখছে। তার ভেতরে দেখার মতো এমন কী পাচ্ছে তারা লাবুর মাথায় আসে না। কেউ কেউ মুচকি মুচকি হাসছে আর পাশের জনকে চিমটি দিয়ে ফিসফিস করে কী যেন বলছে। ঠিক কী দেখে তাদের হাসি পাচ্ছে সেটাও লাবুর মাথায় আসে না। চিমটি দিয়ে ফিসফিস করে বলার মতো এমন কী আছে লাবুর মাথায় আসে না সেটাও। সে শুধু বিব্রত হয়ে মুখটা গম্ভীর করে চুপচাপ বসে থাকে।

ক্লাসে দুই সারি বেঞ্চ। এক সারিতে ছেলেরা আর এক সারিতে মেয়েরা বসে। প্রতি সারিতে পাঁচটা করে বেঞ্চ। লাবুরা তিন নম্বর বেঞ্চে অর্থাৎ মাঝের বেঞ্চে বসেছে। এক বেঞ্চে সর্বোচ্চ পাঁচজন বসা যায়। লাবুরা ছয়জনই এক বেঞ্চে বসেছে। একটু চাপাচাচি হলেও তারা আলাদা হতে চায় না। অবশ্য বাইরের ধারে বসা নিয়ে ইলিয়াস আর সুরুজের মধ্যে ছোটখাটো একটা ফাইট হয়ে গেলো! অ্যাসেম্বলিতে যাওয়ার আগে সুরুজ ধারে ব্যাগ রেখে গিয়েছিল। অ্যাসেম্বলি থেকে ফিরে ইলিয়াসের ব্যাগ ধারে সরিয়ে দিয়ে সুরুজ নিজে ভেতরে ঢুকে যায়। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে ফাইট। সুরুজের সাথে পেরে না ওঠায় ইলিয়াস রাগ করে পেছনের দিকের বেঞ্চে চলে যায়। কিন্তু সেখানকার ছেলেরাও বেঁকে বসে। এখন সেখানে বসতে হলে ধারেই বসতে হবে। বাধ্য হয়ে ইলিয়াস আবার লাবুদের বেঞ্চে ফিরে আসে। আজান স্যারের ক্লাস টিফিনের পর। ইলিয়াস ঘোষণা দিয়ে রেখেছে টিফিনের পর সে পালাবে।
বেঞ্চের ধারে ইলিয়াস, তারপরে সুরুজ। একটু পর পরই তাদের মধ্যে খামচাখামচি লেগে যাচ্ছে। সুরুজের পরে টিপু, তারপর রুবেল, এরপর লাবু এবং শেষে মিন্টু বসেছে। ক্লাসের সবাই কেমন কেমন করে না তাকালে লাবুর ইচ্ছে করছিল ইলিয়াস আর সুরুজের ঝামেলা মিটিয়ে দিতে সে-ই ধারে বসবে। আজান স্যারের খামচি কেমন লাগে সেটাও টেস্ট করা যেত!
লাবুদের স্কুলে নতুন কেউ এলে ক্লাসের সবাই তাকে ঘিরে ধরে আর নানা রকম প্রশ্ন করে, মজা করে। রুবেলদের ক্লাসে সেরকম কিছু ঘটছে না। লাবুর দিকে সবাই তাকাচ্ছে, দেখছে, ফিসফিস করছে—কিন্তু কেউ এসে কথা বলছে না।

প্রথমেই অঙ্ক ক্লাস। হালকা-পাতলা কম বয়সি একটা স্যার এলো। রুবেল বলেছে অঙ্ক স্যার রাগী। কিন্তু লাবুর বিশ্বাস হয় না এইরকম একটা বাচ্চা বাচ্চা টাইপের স্যার কেমন করে রাগী হয়! স্যারটাকে অবশ্য স্যার স্যারও লাগে না, বড় ভাই বড় ভাই মনে হয়! নাকের নিচে পাতলা গোঁফ, চোখে চশমা, ফুলহাতা শার্টের হাতা গোটানো, রঙচটা জিন্স প্যান্ট—একনজরে স্যারকে দেখে নিলো লাবু। বাচ্চা বাচ্চা হলেও স্যারের মুখে অবশ্য গম্ভীর একটা ভাব আছে। এই ভাবটাই হয়তোবা তার রাগী চরিত্রের আভাস দেয়!
স্যার রোল কল শুরু করে। এক, দুই পেরিয়ে তিনে আসতেই ঝামেলাটা পাকে। ওপাশে একটা মেয়ের সাথে এপাশে ফট করে দাঁড়িয়ে ‘ইয়েস স্যার—’ বলে দেয় লাবু! মুহূর্তের জন্য পুরো ক্লাস থমকে যায়। তারপর ছেলেমেয়েদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে, মেয়েটা হাসে খিলখিল করে। লাবু লজ্জা পেয়ে যায়। প্রতিদিনের অভ্যাসে লাবু ভুলটা করে ফেলে, লাবুরও যে ক্লাস রোল তিন!

স্যার মুখ হা করে থাকে কয়েক মুহূর্ত, তারপর লাবুর দিকে তাকিয়ে কৌতুক করে বলে, ‘তোমার নাম কি শেফালি খাতুন?’

ক্লাসে আবার হাসির রোল ওঠে, শেফালি হাসে সবচেয়ে জোরে।

লাবু মুখ কাচুমাচু করে বলে, ‘না, স্যার। ভুল হয়ে গেছে।’

‘তাহলে বসে পড়ো, নিজের রোল এলে আওয়াজ দিও।’

লাবু কেবল বসতেই স্যার আবার বলে, ‘অ্যাই, দাঁড়াও তো।’

লাবু দাঁড়ায়। স্যার লাবুকে ভালো করে একটু দেখে, তারপর বলে, ‘তোমারে তো আগে দেখি নাই! হঠাৎ কই থেইকা উদয় হইলা তুমি!’

রুবেল দাঁড়িয়ে বলে, ‘স্যার, ওই আমার চাচাতো ভাই—লাবু। শহরে থাকে। বেড়াইতে আসছে। এই কয়দিন এইখানে ক্লাস করবো। আব্বা হেডস্যাররে বইলা রাখছে।’

‘ও—’ স্যার নাকের ডগা থেকে চশমাটা উপরের দিকে একটু ঠেলে দিয়ে বলে, ‘তাইলে ঠিক আছে, বসো।’

লাবু-রুবেল বসে পড়ে। ছেলেমেয়েদের মধ্যে এখনো চাপা হাসির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শেফালি ঘাড় ঘুরিয়ে লাবুর দিকে তাকাচ্ছে আর হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসছে। রাগে লাবুর দাঁত কিড়মিড় করে। যে সময়ে তার মাঠে-ঘাটে-নদীতে ছুটে বেড়ানোর কথা সেই সময়ে তাকে একের পর এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

জুয়েল ভাইয়ার কপালে মনে হয় ভালোই দুঃখ আছে!

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বসমূহ:

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৩)

লেখক পরিচিতি
মুহসীন মোসাদ্দেক
জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী, বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন। বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি চললেও লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা কেবল এতটুকুই, কিছু উপযুক্ত পাঠক সঙ্গী হোক তার লেখার এ দুরন্ত জীবনে।

1 Comment

Leave a Reply

error: Content is protected !!
WordPress Workshop WooCommerce Customer History WooCommerce Customer History Plugin WooCommerce Customer/Order/Coupon CSV Import Suite WooCommerce Customer / Order / Coupon Export WooCommerce Customer/Order XML Export Suite WooCommerce Customer Relationship Management (CRM) WooCommerce Customer Specific Pricing Plugin WooCommerce Customer Verification WooCommerce Customers Manager WooCommerce Customize My Account Page Plugin