গল্পফিচার নিউজশিল্প-সাহিত্য

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৯)

মুহসীন মোসাদ্দেক

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

ক্রিকেট নিয়ে হুলুস্থুল…

গ্রামে ভালো লাগার ব্যাপারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠা। চেনা-অচেনা পাখিদের কিচিরমিচিরের সাথে এসময় প্রাণ জুড়িয়ে দেয় অন্যরকম শীতল বাতাস। সারাদিন যতই বাতাস বয়ে যাক, এরকম বাতাস গায়ে মাখতে হলে সাতসকালেই উঠতে হবে। সারাদিন আর এ বাতাসের ছোঁয়া মিলবে না।

লাবু সবসময়ই সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠে। গ্রামে এলে তো কথাই নেই। সকালে উঠে সে হাতে নিমের দাঁতন কিংবা কয়লা নিয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে। গ্রামে এলে তার ব্রাশ করতে ভালো লাগে না। নিমের দাঁতন কিংবা কয়লার কাছে ব্রাশ-পেস্টকে তার বড্ড বেমানান লাগে!

সকালে লাবু যখন পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে তখন পুকুরের মাছগুলো খাবি খেতে ব্যস্ত থাকে। পুরো পুকুরে সারি সারি মাছের মুখ দেখা যায়। একটু শব্দ করলেই কিংবা নড়াচড়া করলেই মাছগুলো ঝপাৎ করে ডুব দেয়। কয়েক মুহূর্তের ভেতরেই আবার ভেসে ওঠে। কখনো পুরো পুকুরের মাছগুলো একসাথে ডুব দেয়, কখনো নির্দিষ্ট কিছু অংশের। কখনো কখনো লাবু নিজেই হাত দিয়ে কিংবা মুখ দিয়ে শব্দ করে যাতে মাছেরা ডুব দেয়। লাবুর খুব ভালো লাগে মাছেদের এমন খেলা।
এসময় লাবু একা থাকে না। সবাই-ই থাকে। ঘুম থেকে উঠেই সবাই পুকুর পাড়ে চলে আসে। কেউ একটু আগে আসে, কেউ একটু পরে। কিন্তু আসেই। এখানে বসে সারাদিন কী কী করবে তার প্ল্যান করে। এবার অবশ্য বিশেষ কিছু প্ল্যান করতে হবে না, দিনের প্রায় পুরোটাই তো কাটাতে হবে স্কুলে!

আজ সকালে উঠে লাবু অবশ্য প্রথমেই পুকুর পাড়ে গেলো না। রুবেলকে ডেকে তুলে জুয়েল ভাইয়ার ঘরে গেলো তার কী অবস্থা দেখতে। জুয়েল ভাই ঘুম থেকে ওঠে নি। হারুন ভাইও ওঠে নি। লাবু জুয়েল ভাইয়ার কপালে হাত দিয়ে দেখে, জ্বর নেই। ওরা আর সেখানে থাকার প্রয়োজন মনে করে না। বেরিয়ে এসে দাঁতন হাতে পুকুর পাড়ে বসে।

নিমের দাঁতন দিয়ে দাঁত ঘষতে ঘষতে লাবু খাবি খেতে ব্যস্ত মাছগুলোকে একটু জ্বালাতন করে। এসময় টিপু আসে। সেও দাঁতন দিয়ে দাঁত ঘষছে। বসেই সে বললো, ‘ফড়িংকপ্টারের একটা সুন্দর ডিজাইন কইরা ফেলছি। দুই-একদিনের মইধ্যেই বানায় ফেলবো।’

‘ফড়িংকপ্টার!’ লাবু বিস্মিত।

‘ওই যে ফড়িং দিয়া হেলিকপ্টার বানাবো কইছিলাম না? ওইটার নাম দিছি ফড়িংকপ্টার।’

‘ও।’

লাবু ফড়িংকপ্টার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখায় না।

ইলিয়াস আর সুরুজও এসে যায় দাঁত মাজতে মাজতে। ওরা দুজন মাজে কয়লা দিয়ে।

সুরুজ পিচিক করে কালো থুতু ফেলে বলে, ‘লাস্টে কী হইলো বাড়িতে? জুয়েল ভাই কিছু বুঝতে পারছে?’

লাবু-রুবেল হেসে ওঠে। রুবেল বলে, ‘ভাইজানের তো যায় যায় অবস্থা!’

‘মানে কী?’ টিপু বলে।

‘ভয়ে তার গায়ে জ্বর চইলা আসছে। এখন অবশ্য জ্বর নাই, কিন্তু এখনো বিছানাতেই পইড়া আছে।’

‘ওইটুকুতেই এই অবস্থা! তাও তো আসল ভয় দেখাইতে পারিই নাই!’ সুরুজ কিছুটা আফসোসের সুরে বলে।

‘তার মানে আমাগো ভয় দেখানোতে কাজে দিছে?’ ঝট করে সবাই পিছে তাকায়। কখন কখন যেন শেফালি পিছে এসে দাঁড়িয়েছে!

লাবুকে একটু উচ্ছ্বসিত দেখায়, বলে, ‘আরে, শেফালি! তুমিও এসে গেছো!’
‘হুম।’ শেফালি লাবুর পাশে বসে। সে-ও নিমের দাঁতন ঘষছে দাঁতে।

‘তুমি কেমন করে জানলে যে আমরা সকালে এখানে বসি? এটা তো তোমাকে বলা হয় নি।’

শেফালি সুরুজের দিকে আড়চোখে একবার তাকায়, সুরুজ সাথে সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়। শেফালিও চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে, ‘সুরুজরে দেখলাম আমাগো গাছ থেইকা পেয়ারা পাইড়া এইদিকে দৌড় দিলো। তাই ভাবলাম তোমরাও হয়তো এইখানে থাকবা। আমিও চইলা আসলাম।’

সবাই লক্ষ্য করলো সুরুজের একপাশের পকেট একটু ফুলে আছে। কেউ এতক্ষণ খেয়াল করে নি!

‘বাহ, তোমার তো অনেক বুদ্ধি!’ লাবু বেশ উচ্ছ্বসিত হয়েই বলে।

‘হুম, অনেক বুদ্ধিই তো! আমিই না জুয়েল ভাইরে ভয় দেখানোর বুদ্ধিটা দিলাম!’

সুরুজ প্রতিবাদ করে ওঠে, ‘বুদ্ধিটা তোর একার ছিল না। আমিই প্রথমে জুয়েল ভাইরে ভূতের বাড়িতে ফালায় রাইখা ভয় দেখানোর কথা কইছিলাম। তারপর না তুই ওই কথা কইলি!’

রুবেল যোগ করে, ‘তেঁতুল গাছের কথাটা তো আমিই কইছিলাম।’

যে ইলিয়াস কথাই বলে না, সে ইলিয়াসও ভাব নিয়ে বলে, ‘আমি টাইম মতো ঢিল ফেলছিলাম বইলাই না জুয়েল ভাই ভয় পাইলো! আমার ঢিল পড়ার পরই তো জুয়েল ভাই ভয় পাইয়া দৌড় দিলো!’

লাবু ব্যস্ত হয়ে বলে, ‘আহা, তোরা কী শুরু করলি? সরাসরি ভয় দেখানোর বুদ্ধিটা তো আসলে শেফালির মাথা থেকেই এসেছে। এটা তো অস্বীকার করার কিছু নেই। তারপর সবাই মিলে প্ল্যান করেছি এবং সবাই মিলেই কাজটা করেছি। এখানে কে বেশি কে কম এইটা নিয়ে অযথা ঝগড়া করে কোনো লাভ নাই। আর এইটা নিয়ে বেশি কথা বলারও দরকার নাই। কখন কে শুনে ফেলে ঠিক আছে! বাসার কেউ শুনে ফেললে উল্টো আমাদেরই খবর হয়ে যাবে। সুতরাং, এ বিষয়ের এখানেই সমাপ্তি।’

কেউ আর কথা বাড়ায় না। লিডারের ঘোষণা বলে কথা!

শেফালি অভিযোগের সুরে বলে, ‘কিন্তু সুরুজ আইজও আমাগো গাছের পেয়ারা পাড়লো ক্যান?’

সুরুজ কালো কালো দাঁত বের করে বলে, ‘সেইটা তো আমি রোজই পাড়ি! এতদিন ধরা পড়ি নাই, কাইল থেইকা ধরা পড়তেছি। এইটুকই পার্থক্য।’

সবাই হেসে ফেলে। হেসে ফেলে শেফালিও।

এতক্ষণে এসে হাজির হয় মিন্টু। চোখ ডলতে ডলতে সে আসে। তার হাতে দাঁত মাজার কিছু নেই। খালি হাতেই এসে সে বসে পড়ে।

সুরুজ ঠাট্টা করে বলে, ‘কিরে, সারা রাইত চুরি কইরা বেড়াইছোস নাকি!’

‘রাইতে ভালোমতো ঘুমাইতে পারি নাই।’ মিন্টু হাই তোলে।

‘ক্যান পারোস নাই?’ টিপু বলে।
‘ভয় লাগতেছিল!’

‘ভয়! তোরে আবার কিসের ভয়ে ধরছিল!’ রুবেল চোখ বড় বড় করে বলে।

‘কাইল জুয়েল ভাইরে ভয় দেখাইতে গিয়া নিজেই ভয় পাইয়া গেছিলাম!’ মিন্টু একটু লজ্জা লজ্জা ভাব করে বলে।

সবাই একসাথে আবার হেসে ওঠে।
সুরুজের কাছে অতিরিক্ত কয়লা ছিল। মিন্টু তা ছিনিয়ে নিয়ে দাঁত মেজে নিলো। পুকুরের পানিতেই সবাই হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। সবাই জুয়েল ভাইকে দেখতে যেতে চাইছিল, লাবু নিষেধ করলো, বাড়ির কেউ এখনো জানে না জুয়েল ভাইয়ের হঠাৎ এমন অবস্থার কারণ। দলবেঁধে দেখতে গেলে সন্দেহ হতে পারে। হাত-মুখ ধুয়ে সবাই তাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলো।

লাবু-রুবেল বাড়িতে এসে দেখে জুয়েল ভাই কুয়োতলায় হাত-মুখ ধুচ্ছে। জুয়েল ভাইয়ার কাছে গিয়ে লাবু বললো, ‘এখন কী অবস্থা জুয়েল ভাই?’

‘এইতো ভালো।’ জুয়েল ভাইয়ার কথায় ক্লান্তির ছাপ।

‘আচ্ছা জুয়েল ভাই, তোমার হঠাৎ কী হলো, বলো তো? কাল সন্ধ্যায় দেখলাম দৌড়াতে দৌড়াতে আসলে। কী যেন বলতে গিয়েও বললে না। তার কিছুক্ষণ পরেই তোমার এই অবস্থা। আসলে হয়েছিলটা কী?’

জুয়েল ভাই জবাব দেয় না। বারান্দায় গিয়ে বসে হাত-মুখ মোছে।

বড় আম্মু বলে, ‘দৌড়াইতে দৌড়াইতে আসছিল মানে! কী হইছিলরে জুয়েল?’
‘ভয়ঙ্কর ব্যাপার!’ জুয়েল ভাই ভয়ঙ্কর স্বরে বলে।

‘কী ভয়ঙ্কর ব্যাপার!’ বড় আম্মু কাছে আসে।

লাবু-রুবেল খুব সিরিয়াস ভাব করে থাকে জুয়েল ভাইয়ের ভয়ঙ্কর ব্যাপারের কাহিনি শোনার জন্য।

‘তেঁতুল গাছের সমস্যার কথা তো আগেই কইছিলাম। কাইল ওই গাছের ভূত-পেত্নিরা আমারে ভয় দেখাইছে!’

জুয়েল ভাইয়া সাধারণত শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে, কিন্তু এখন তার ভাষাটা গুলিয়ে গেছে।

‘তেঁতুল গাছের ভূত-পেত্নিরা তোরে ভয় দেখাইছে!’ বড় আম্মু চোখ বড় বড় করে বলে। লাবু-রুবেলের মুখ হাসি হাসি হয়ে ওঠে, কিন্তু মুহূর্তেই চেপে যায়, মুখে সিরিয়াস ভাব ফুটিয়ে তোলে।

‘শুধু ভয়-ই দেখায় নাই, কইছে—আমি নাকি বাইড়া গেছি, আমার খবর আছে!’
‘ভূত-পেত্নিরা তোর সাথে কথাও কইছে!’ আবারো চোখ বড় বড় করে বলে বড় আম্মু।

লাবু বলে, ‘খুব ভয়ঙ্কর ব্যাপার তো!’ মুখে সিরিয়াস ভাব ফুটিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে লাবু।

জুয়েল ভাই উৎসাহী হয়ে বলে, ‘তাইলে আর বলছি কি!’

বড় আম্মু বিষয়টাকে উড়িয়ে দেয়, ‘ওইগুলা কিছু না, সব তোর মনের ভুল।’
‘মনের ভুল! আমি নিজ কানে শুনলাম আর তুমি বলছো এইটা মনের ভুল!’

জুয়েল ভাই একটু উত্তেজিত হয়ে যায়।
লাবুর আম্মু বলে, ‘বিষয়টা হয়তো মনের ভুল নয়, হয়তো বাস্তবেই ঘটেছে। কিন্তু সেটা ভূত-প্রেত নাও হতে পারে!’
‘তাহলে কী হতে পারে?’

‘হয়তো কেউ কিংবা কেউ কেউ শয়তানি করে এইটা করতে পারে।’ আম্মু লাবু-রুবেলের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসে। লাবু-রুবেলের মুখ আর হাসি হাসি হয় না, সিরিয়াস ভাবও করতে পারে না, সেখানে আতঙ্কের ছাপ পড়ে!

জুয়েল ভাই উড়িয়ে দিয়ে বলে, ‘আমার সাথে আবার কে শয়তানি করতে যাবে!’
বড় আব্বু এতক্ষণ কিছু বলে নি, এই পর্যায়ে একটু আফসোস করে বলে, ‘সত্যিকার ভূত-প্রেত হোক আর কেউ শয়তানি করে করুক, তাই বলে এটুকুতেই তোমার গায়ে জ্বর চাইলা আসবে! এত বড় হইছো, এখনো যদি এইরকম একটা বিষয়ে ভয় পাইয়া জ্বর বাঁধায় বসে থাকো তাইলে তো সেইটা খুব চিন্তার বিষয়!’

‘জ্বর তো আমার ভয় পেয়ে আসে নাই! আমার ওপর ভূত-প্রেত ভর করছিল মনে হয়!’

বড় আব্বু ধমকে ওঠে, ‘এইটা একটা কথা হইলো! তোমার মতো কলেজে পড়া শিক্ষিত পোলা যদি এই কথা কয় তাইলে মাইনা নিয়া যায় না। এখন আর বকবক করা লাগবো না, ঘরে গিয়া বিশ্রাম নাও। আইজ তোমার কোথাও যাওয়ার দরকার নাই।’

জুয়েল ভাই আর কথা বাড়ায় না, নিজের ঘরে চলে যায়। লাবু-রুবেলও ঘরে চলে যায়। লাবু আপাতত হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সে ধরেই নিয়েছিল এখন পুরো বিষয়টা সবার কাছে পরিষ্কার করে দেবে আম্মু। সবার সামনে গত সন্ধ্যায় জুয়েল ভাইয়ার দৌড়ে আসার বিষয়টা উপস্থাপন করে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনতে বসেছিল লাবু। তার ওই অবস্থায় অতি উৎসাহী হওয়াটা বোকামি হয়েছিল। এমন হতে পারতো, লাবু সবার সামনে বিষয়টা উপস্থাপন না করলে হয়তো জুয়েল ভাই আসল ঘটনাটা কারো কাছে প্রকাশ করতোই না। সবাই ধরে নিতো অতিরিক্ত পরিশ্রমেই তার এই অবস্থা। কিন্তু আরেকটু হলেই হয়তো আম্মু সবাইকে বিষয়টা প্রকাশ করে দিতো। আপাতত এটাকে থেকে বাঁচা গেলো, কিন্তু নির্ভার হবার উপায় নেই, আম্মু বিষয়টা ধরে ফেলেছে, লাবু-রুবেলের আতঙ্কের ছাপপড়া মুখ তা প্রমাণও করে দিয়েছে—এত সহজে বিষয়টা মিটে যাবে না, কোনো না কোনো দিক দিয়ে এর জের টানতে হতে পারে!

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বসমূহ:

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৮)

লেখক পরিচিতি
মুহসীন মোসাদ্দেক
জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী, বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন। বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি চললেও লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা কেবল এতটুকুই, কিছু উপযুক্ত পাঠক সঙ্গী হোক তার লেখার এ দুরন্ত জীবনে।

2 Comments

Leave a Reply

error: Content is protected !!