sonbahis girişsonbahissonbahis güncelgameofbetvdcasinomatbetgrandpashabetgrandpashabetエクスネスgiftcardmall/mygiftultrabeteditörbetenjoybetromabetteosbettambetroyalbetsonbahisvipslotmedusabahiseditörbet girişqueenbetqueenbet girişbetzulabetzula girişteosbetteosbet girişromabetromabet girişromabetromabet girişholiganbetromabetromabet girişteosbetteosbet girişbetzulabetzula girişqueenbetqueenbet girişeditörbeteditörbet girişceltabetceltabet girişsonbahissonbahis girişroyalbetroyalbet girişbetciobetcio girişalobetalobetalobet girişultrabetultrabet girişsonbahissonbahis girişromabetromabet girişroyalbetroyalbet girişceltabetceltabet girişeditörbeteditörbet girişqueenbetqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişholiganbetenjoybetenjoybet girişqueenbetqueenbet girişalobetalobet girişteosbetteosbet girişalobetalobet girişultrabetultrabet girişsonbahissonbahis girişromabetromabet girişroyalbetroyalbet girişceltabetceltabet girişeditörbeteditörbet girişqueenbetqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişholiganbetholiganbetqueenbetqueenbet girişsonbahissonbahis girişultrabetultrabet girişalobetalobet girişalobetalobet girişromabetromabet girişsonbahissonbahis girişroyalbetroyalbet girişceltabet girişceltabet girişeditörbeteditörbet girişqueenbet girişqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişultrabetultrabet girişalobetroyalbahisroyalbahisceltabetceltabeteditörbeteditörbet girişqueenbetqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişultrabetultrabet girişroyalbetroyalbet girişsonbahissonbahis girişalobetalobet girişromabet girişromabetsonbahissonbahis girişroyalbetroyalbet girişceltabetceltabet girişeditörbeteditörbet girişqueenbetqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişultrabetultrabet girişmeritkingmeritking girişalobetalobet girişromabetromabet girişsonbahissonbahis girişroyalbetroyalbet girişceltabetceltabet girişeditörbeteditörbet girişqueenbetqueenbet girişenjoybetenjoybet girişteosbetteosbet girişultrabetultrabet girişalobetromabetromabetromabet girişkingroyalkingroyalkingroyal girişkingroyalimajbetimajbet girişbetciobetcio girişsheratonkingsheratonkingrestbetrestbet girişinterbahisinterbahis girişmatbetmatbet girişbetnanobetnano girişelitcasinoelitcasino girişelitcasinoelitcasino girişsonbahissonbahis girişsonbahissonbahis girişkalebetkalebet girişkalebetkalebet girişartemisbetartemisbet girişartemisbetartemisbet girişartemisbetartemisbet girişartemisbetartemisbet girişbetnisbetnis girişbetnisbetnis girişprensbetprensbet girişprensbetprensbet girişholiganbet girişholiganbet girişholiganbet girişholiganbetholiganbet girişvaycasinovaycasino girişvaycasinovaycasino girişkralbetkralbet girişalobetalobet girişalobetalobet girişbetkolikbetkolik girişbetkolikbetkolik girişmeritkingmeritking girişelitcasinoromabetelitcasino girişromabet girişkingroyalelitcasinokingroyal girişholiganbetelitcasino girişholiganbet girişprensbetimajbetprensbet girişimaj girişprensbetbetciobetcio girişprensbet girişsheratonkingbetnissheratonking girişrestbetbetnis girişrestbet girişinterbahisbetnis girişinterbahis girişalobetmatbetmatbet girişalobet girişbetnanoalobetbetnano girişalobet girişsonbahissonbahissonbahis girişsonbahissonbahis girişkalebetkalebet girişkalebetkalebet girişbetkolikbetkolik girişbetkolikbetkolik girişvaycasinovaycasinovaycasino girişvaycasinovaycasino girişqueenbetqueenbetbetgoobetgootimebettimebetrekorbetrekorbetultrabetultrabetrestbetrestbetperabetperabetmasterbettingmasterbettingjokerbetjokerbettophilbettophilbetnetbahisnetbahisnorabahisnorabahisatmbahisatmbahisbetparibubetpaributeosbetteosbetamgbahisamgbahis
Friday, May 22, 2026
গল্পফিচার নিউজশিল্প-সাহিত্য

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১২)

মুহসীন মোসাদ্দেক

 

(পূর্ব প্রকাশের পর)

কয়েক মিনিট বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয় খেলা। বাইরের ছেলেটার সাথে ক্লাস এইটের ক্যাপ্টেন ব্যাট করতে নামে। বল করতে আসে সজিব। বাইরের ছেলেটা স্ট্রাইকে। সজিব খুব জোরে জোরে বল করে। প্রথম দুই বলে ব্যাটসম্যান ডিফেন্স করলো। তারপরের বলে এলো সিঙ্গেল। এইটের ক্যাপ্টেন প্রথম বলে ডিফেন্স করে পরের বলে সিঙ্গেল নেয়। শেষ বলটাতেও কোনো রান আসে না।

দ্বিতীয় ওভার করতে আসে সুরুজ। এই ওভারে একটা ডট বলের পর পাঁচটা সিঙ্গেল আসে। ব্যাটসম্যানদের রান তোলার ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়া দেখা যায় না। কেউ-ই তুলে মারে না। ধীরেসুস্থে টুকটুক করে খেলতে থাকে।

সজিব-সুরুজের পরের দুই ওভার থেকেও বেশি রান আসে না। সুরুজের বলে বাইরের ছেলেটা একটা চার মারে। এর বাইরে আর বড় কোনো শট খেলে না ব্যাটসম্যানরা। চার ওভার শেষে রান দাঁড়ায় ২০, উইকেট পড়ে নি। পঞ্চম ওভারে ইলিয়াসের হাতে বল দেয় রুবেল। প্রথম বলটাই সে করে গুগলি, এইটের ক্যাপ্টেন ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেও ব্যাট আর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল ঢুকে যায়, একেবারে মিডল স্ট্যাম্প বোল্ড। অনেকক্ষণ পর ম্যাচে যেন প্রাণ ফিরে আসে।

কিন্তু এরপরেই বদলে যায় চিত্র।

হালকা-পাতলা একটা ছেলে নামে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকে। ইলিয়াসের পরের পাঁচ বলে রান আসে পনেরো। যার একটা ছয় আর দুটো চার। একটা বল বেশি টার্ন করে ওয়াইড হয়, বাকি দুটো বল ডট।

নতুন ব্যাটসম্যানের সাথে তাল মিলিয়ে শট খেলতে শুরু করে বাইরের ছেলেটাও। ইলিয়াসের পর বল করতে আসে লাবু। প্রথম দুই বলেই ছক্কা খেয়ে বসে। শেষ বলের চারসহ এই ওভারেই উঠে যায় বিশ রান। ৬ ওভার শেষে রান দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৫।

ইলিয়াসের পরের ওভার থেকে আসে আরো আট রান। ম্যাচের পাল্লা ক্লাস এইটের দিকে ভারী হতে থাকে। লাবুকে না দিয়ে অষ্টম ওভারে রুবেল বল তুলে দেয় মিলনের হাতে। সুরুজ-মিন্টু বাধা দেয়, ম্যাচের এই অবস্থায় মিলনকে বল দিলে ম্যাচ আর হয়তো বাঁচানো যাবে না, মিলন এমন কোনো বোলার নয়। রুবেলকেই বল করতে বলে সুরুজ-মিন্টু। তবু রুবেল তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান হিসেবে ম্যাচের চিত্র আবার বদলে দেয় মিলন। এক বলের ব্যবধানে আউট করে দেয় দুই ব্যাটসম্যানকেই। এর মধ্যে মোটাসোটা ছেলেটা নামে। সে একটা ছয়ও মেরে বসে। দুই উইকেট পড়লেও এই ওভার থেকেও নয় রান উঠে যায়। ৮ ওভারে রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭২, রানরেট ৯। বাকি সাত ওভারে লাগবে আরো ৬৩ রান, রানরেট ৯। অর্থাৎ এভাবে রান তুলতে পারলেই ক্লাস এইট জিতে যাবে। কিন্তু ম্যাচের এখন প্রতি বলেই রঙ বদলাচ্ছে। বেশ জমে গেছে ম্যাচ।

এবার রুবেল নিজেই বোলিংয়ে আসে। আর এসেই আউট করে দেয় মোটাসোটা ছেলেটাকে। আবার ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেয় লেগ সাইডে। সুরুজ ক্যাচটা লুফে নিয়েই নাচানাচি শুরু করে, বিরাট একটা যুদ্ধ জয় করে ফেলেছে এমন ভাব। রুবেল এই ওভারে মাত্র দুই রান দেয়। ম্যাচের পাল্লা এবার ক্লাস সেভেনের দিকে ভারী হয়ে যায়।

ওভার বাকি আর ছয়। রান লাগবে ৬১, উইকেট হাতে আছে ছয়টা। সুরুজ, সজিব আর ইলিয়াসের এক ওভার করে বাকি আছে, লাবু আর রুবেল এখনো দুই ওভার করে করতে পারবে। মিলনকে না দিয়ে রুবেল আবার ফিরে আসে তার মূল বোলারদের কাছে। লাবুর হাতে বল তুলে দেয়া হয়। প্রথম ওভারে বিশ রান দিলেও লাবুই দলের অন্যতম বোলার। শেষ ওভারটা তারই করার কথা। লাবু অবশ্য এই ওভারে ভালোভাবেই ফিরে আসে। ব্যাটসম্যান বেশ আক্রমণাত্মক ব্যাট চালালেও লাবু দেয় মাত্র পাঁচ রান। পাঁচটাই সিঙ্গেল। ম্যাচ আরো কঠিন হয়ে যায় ক্লাস এইটের জন্য।

এবার বোলিংয়ে আসে ইলিয়াস। রুবেলের ধারণা ছিল এই ওভারেই ম্যাচ জয়ের আরো কাছে চলে যাবে তারা। কিন্তু হলো উল্টো। ম্যাচটা আবার জমে গেলো। যে ইলিয়াসের গুগলি আর লেগ স্পিন খেলতে সবাই হিমশিম খায় সে ইলিয়াসেরই নাকানিচুবানি খাওয়ার মতো অবস্থা। পর পর তিন ছয়, এক চার, একটা দুই আর সিঙ্গেল—এক ওভারেই পঁচিশ!

শেষ চার ওভারে দরকার এখন ৩১। রুবেল দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়—কাকে বল দেবে? লাবু শেষ ওভার করবে যদি তার আগেই খেলা শেষ হয়ে না যায়। রুবেলকে এক ওভার করতে হবে, সে এখন করবে নাকি পড়ে করবে সেটা বুঝতে পারে না। রুবেল, সুরুজ, লাবু, সজিব একসাথে পরামর্শ করে। তারপর বল তুলে দেয়া হয় সজিবের হাতে। প্রথম চার বলে দুইটা চারসহ এগারো রান দিয়ে বুক কাঁপিয়ে দিলেও শেষ দুই বলে উইকেট তুলে নিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে থেকে যায় ইলিয়াসের এক ওভারে পঁচিশ আর এই ওভারে দুইটা চারসহ এগারো রানই তুলে নেয়া লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যানটা।

হাতে চার উইকেট নিয়ে শেষ তিন ওভারে যখন আর মাত্র ২০ রান দরকার তখন রুবেল নিজেই বল হাতে তুলে নেয়। শেষ দুই ওভারের প্রথমটা সুরুজ আর শেষটা করবে লাবু। কোনোরকমে এই ওভারটা চেক দিতে হবে, তা নাহলে এই ওভারই হয়তো ম্যাচটাকে ক্লাস এইটের হাতে তুলে দিবে।

স্ট্রাইকে লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যানটা। রুবেল বিশেষ কোনো কারিকুরি করার চেষ্টা করে না, খুব একটা গতিও দেয় না, শুধু জায়গা মতো বলটা ফেলে।

ব্যাটসম্যান ডিফেন্স করে। কোনো তাড়াহুড়োও অবশ্য দেখা যায় না ব্যাটসম্যানের। ম্যাচটা এখন ওদের দিকেই হেলে আছে। একটু শান্তই থাকে ব্যাটসম্যান। পরের বলও একইভাবে করে রুবেল। এবার অবশ্য অফ স্ট্যাম্পের একটু বাইরে করে। অফসাইডে ঠেলে দিয়েই এক রান নিয়ে নেয় ব্যাটসম্যানরা। যে ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকে যায়, রুবেল ভালো করেই জানে সে খুব একটা ভলো খেলতে পারে না, ক্লাস এইট দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউ-ই ভালো খেলতে পারে না। কেবল এই লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যানটাই ভয়।

পরের বলটাও একইভাবে করে রুবেল। ব্যাটসম্যান মিস করে। পরের বলে লেগ সাইডে খোঁচা দিয়েই দ্রুত রান নিতে চায়, কিন্তু লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যানটা সাড়া দেয় না, রান আউট হয়ে যায় স্ট্রাইক প্রান্তের ব্যাটসম্যান। নতুন যে নামে তাকেও পরের দুটো খাইয়ে দেয় রুবেল। আবার ম্যাচের রঙ পাল্টে যায়।

লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যানটা স্ট্রাইকে। বল করতে আসে সুরুজ। রুবেলের মতো কৌশলেই বল করে সে। প্রথম বলে কোনো রান হয় না। কিন্তু পরের বলে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে স্ট্রেইট ছক্কা মেরে দেয়। ম্যাচে এখন চরম উত্তেজনা। এই উত্তেজনায় পরের বলটা ওয়াইড দিয়ে দেয় সুরুজ। পরের বলেই অবশ্য ফিরে আসে সুরুজ। এক রান নেয়া যেত, কিন্তু ব্যাটসম্যান নেয় না। নিজেই স্ট্রাইক ধরে রাখে। পরের বল আবার ব্যাটে-বলে হয় না। পরের বলেই চার হয়ে যায়। হয়ে যায় লম্বা ব্যাটসম্যানটার ফিফটি। শেষ বলে বেশ ঝুঁকি নিয়ে সিঙ্গেল নেয় দুই ব্যাটসম্যান। অল্পের জন্য রান আউট হয় না। শেষ ওভারে স্ট্রাইক ধরে রাখে লম্বা-কালো মতো ব্যাটসম্যান।

শেষ ওভারে রান লাগবে সাত, স্ট্রাইকে লম্বা ব্যাটসম্যানটাই। লাবু মোটেও ভয় পায় না। শেষ ওভার তাকে করতে হবে—মানসিকভাবে সে প্রস্তুতই ছিল। লম্বা ব্যাটসম্যানটা যেভাবে খেলছে তাতে দুই বলেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারে। তার ওপরই এখন দলের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে। কিন্তু লাবু সেসব ভাবে না। স্বাভাবিকভাবেই বল করতে আসে।

বেশ জোরের সাথে ইয়র্কার দেয় লাবু। একসাথে দুইটা স্ট্যাম্প গড়াগড়ি খেতে থাকে। লাবুরা যখন উল্লাস করছে তখন লক্ষ্য করে ক্লাস এইটের আম্পায়ার নো বল ডেকেছে। লাবুর পা নাকি দাগের বাইরে ছিল। মোটেও বিশ্বাস হয় না লাবুর। তার পা বরং দাগের দুই-চার আঙুল ভেতরে থাকবে, কোনোভাবেই দাগের বাইরে পা থাকার কথা নয়। লাবুরা সিদ্ধান্ত মেনে নেয় না। গণ্ডগোল পেকে যায়। চেঁচামেচি, কথাকাটাকাটি শুরু হয়। তুমুল হট্টগোল চলতে থাকে। এক পর্যায়ে হাতাহাতি লেগে যায়। এবং তারপর হাতের কাছে ব্যাট-স্ট্যাম্প যে যা পেয়েছে তাই নিয়ে একদল আরেকদলকে তাড়া করতে থাকে। যে যার মতো যেদিক সেদিক ছুটতে থাকে। এর মধ্যে সুরুজ বাগে পেয়ে যায় মোটাসোটা ছেলেটাকে। মোটাসোটা ছেলেটা ব্যাট-স্ট্যাম্প কিছুই হাতের কাছে পায় নি। সে নিরস্ত্র! আর সুরুজ একটা স্ট্যাম্প নিয়ে তাড়া করতে থাকে মোটাসোটা ছেলেটাকে। মোটাসোটা ছেলেটা প্রাণপণ ছুটতে থাকে। মোটাসোটা শরীর নিয়ে ছুটতে ছুটতে ছেলেটা হাঁপিয়ে ওঠে। সুরুজ চাইলেই তাকে ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু সে তা করে না, ধরে ফেললেই তো সব শেষ। সে ছেলেটাকে তাড়িয়েই বেড়ায়। ছেলেটার হাঁসফাঁস শুরু হয়ে যায়। সুরুজ তবুও ছাড়ে না, তাড়াতেই থাকে। তাড়াতে তাড়াতে একটা ফসলের ক্ষেতের কাছে চলে আসে। ছেলেটা হাঁসফাঁস করতে করতে মুখ থুবড়ে পড়ে ফসলের ক্ষেতে। তারপর কাদা মাখামাখি করে একেবারে একাকার অবস্থা! ভূতের মতো মুখ নিয়ে সে উঠে বসে, হাঁসফাঁস করতে থাকে। মুখ-শরীর থেকে কাদা সরানোর শক্তিও সে পায় না।

সুরুজ সামনে দাঁড়িয়ে স্ট্যাম্পটা ঘোরাতে ঘোরাতে বলে, ‘কি, আর লাগবি?’
ছেলেটা কথা বলতে পারে না, হাঁসফাঁস করে।

সুরুজ ধমকে বলে, ‘শোন, আইজ তোরে ছাইড়া দিলাম। কিন্তু আর কোনোদিন যদি লাগতে আসিস এক্কেরে সাইজ কইরা দিবো। আর স্কুল মাঠের যেইখানে আমরা খেলতাম সেইখানেই খেলবো। তার ধারেকাছে যেন তোদের না দেখি।’
ছেলেটা কোনো জবাব দিতে পারে না। সুরুজ বেশ জোরে ধমকে ওঠে, ‘কি, মনে থাকবো?’

ছেলেটা মাথা নাড়ে, তার মনে থাকবে।
সুরুজ চলে আসে। আমবাগানে আসতেই দেখে অন্যরাও এখানে। সুরুজের খোঁজ না পেয়ে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল—সুরুজ মার খেয়ে আবার কোথাও পড়ে নেই তো! সরুজ বিষয়টা খুলে বললো। শুনে সবার সে কী হাসি!

লাবুরা সাতজন ছাড়া বাকিরা সবাই চলে গেছে নিজ নিজ বাড়িতে। আবুর নাক ফেটে গেছে। সবুর আর মিলন হাতে ব্যথা পেয়েছে। টিপু দৌড়ে পালাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে হাত-পা ছিলে ফেলেছে। মিন্টুর পা মচকে গেছে। বাকিরা সবাই ঠিক আছে। তবে, শেফালি খুব ভয় পেয়ে গেছে। সে ভেবেছিল যে খুনোখুনি হয়ে যাবে! শেষ পর্যন্ত বড় কিছু ঘটে নি বলে রক্ষা।

লাবুরা অবশ্য শুধু মার খেয়ে ফিরে আসে নি। কিছু দিয়েও এসেছে। ক্লাস এইটের বেশ কজন ল্যাংড়াতে ল্যাংড়াতে ফিরে গেছে। আর মোটাসোটা ছেলেটাকে তো সুরুজ কাদাপানিতে চুবিয়ে ছেড়েছেই!
সন্ধ্যা হয়ে আসছে। সবাই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেলো।

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বসমূহ:

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৮)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৯)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১০)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১১)

লেখক পরিচিতি
মুহসীন মোসাদ্দেক
জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী, বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন। বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি চললেও লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা কেবল এতটুকুই, কিছু উপযুক্ত পাঠক সঙ্গী হোক তার লেখার এ দুরন্ত জীবনে।

2 Comments

Leave a Reply

error: Content is protected !!
WordPress Workshop Darik – Fashion WooCommerce Elementor Template Kit Darion – Furniture Store WordPress Theme Darkr – WordPress Admin Light & Dark Darmali – Construction Template Kit Darna – Building & Construction WordPress Theme Darona – COVID-19 Social Awareness Elementor Template Kit Darpan – News Magazine WordPress Theme Darren – Photography & WooCommerce Compatible WordPress Theme Dash – Creative Business Theme DashCode – React, Vuejs, NextJs, Laravel, HTML,Tailwind Dashboard Template