Meritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor BahisleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir MiMeritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot Oyunları, Marsbahis Spor BahisleriMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve Kampanyalar, Mavibet Giriş AdresiMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahisleriMeritking Giriş: Meritking Giriş Adresi, Meritking Mobilden Giriş 2026Marsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir Mi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMarsbahis Giriş: Marsbahis Spor Bahisleri, Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Giriş Adresi, Mavibet Mobilden Giriş 2026Meritking Giriş: Meritking Canlı Destek Ve İletişimMarsbahis Giriş: Marsbahis Casino Ve Slot OyunlarıMavibet Giriş: Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Güvenilir MiMavibet Giriş: Mavibet Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Giriş AdresiMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Bonus Ve KampanyalarMavibet Giriş: Mavibet Spor Bahisleri, Mavibet Casino Ve Slot OyunlarıMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarMeritking Giriş: Meritking Güvenilir Mi, Meritking Bonus Ve KampanyalarMarsbahis Giriş: Marsbahis Giriş Adresi, Marsbahis Mobilden Giriş 2026Mavibet Giriş: Mavibet Spor BahislerikalitebetgrandpashabetholiganbetjojobetholiganbetholiganbetextrabetAntalya EscortAntalya Escort BayanAntalya Escort BayanMeritking Giriş: Meritking Spor Bahisleri, Meritking Casino Ve Slot OyunlarıMarsbahis Giriş: Marsbahis Para Yatırma Ve Çekme İşlemleriMavibet Giriş: Mavibet Güvenilir Mi, Mavibet Bonus Ve KampanyalarAntalya Escort BayanAntalya EscortAntalya EscortlarAntalya Escortceltabetceltabet girişbetsmovebetsmove girişholiganbetholiganbet girişmarsbahismarsbahis girişroketbetroketbet girişAlobetAlobet girişAlobetMeritkingMeritking girişMeritkingCasibomCasibom girişCasibomMaxwinMaxwin girişMaxwinromabetromabet girişbetplaybetplay girişbetkolikbetkolik girişCasibomCasibom girişCasibomJojobetJojobet girişJojobetBetsmoveBetsmove girişBetsmoveRestbetRestbet girişRestbetMavibetMavibet girişMavibetHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetMarsbahisMarsbahis girişMarsbahisMaxwinMaxwin girişMaxwinRomabetRomabet girişRomabetCeltabetCeltabet girişCeltabetBetplayBetplay girişBetplayBetkolikBetkolik girişBetkolikAlobetAlobet girişAlobetMeritkingMeritking girişMeritkingElitbahisElitbahis girişElitbahisHarbiwinHarbiwin girişHarbiwinCasinoroyalCasinoroyal girişCasinoroyalHilarionbetHilarionbet girişHilarionbetKalebetKalebet girişKalebetMaksibetMaksibet girişMaksibetMisliwinMisliwin girişMisliwinRekorbetRekorbet girişRekorbetSetrabetSetrabet girişSetrabetSüratbetSüratbet girişSüratbetTimebetTimebet girişTimebetKralbetKralbet girişKralbetHoliganbetHoliganbet girişHoliganbetWinxbetWinxbet girişWinxbetAvvabetAvvabet girişAvvabetTurboslotTurboslot girişTurboslotAlobetAlobet girişAlobetJokerbetJokerbet girişJokerbetTeosbetTeosbet girişTeosbetRomabetRomabet girişRomabetRoketbetRoketbet girişRoketbetGalabetGalabet girişGalabetKulisbetKulisbet girişKulisbetBahiscasinoBahiscasino girişBahiscasinoGrandbettingGrandbetting girişGrandbettingPashagamingPashagaming girişPashagamingAresbetAresbet girişAresbetMasterbettingMasterbetting girişMasterbettingBetraBetra girişBetraAvrupabetAvrupabet girişAvrupabetUltrabetUltrabet girişUltrabetSonbahisSonbahis girişSonbahisDedebetDedebet girişDedebetBetkanyonBetkanyon girişBetkanyonEgebetEgebet girişEgebetAmgbahisAmgbahis girişAmgbahisRoyalbetRoyalbet girişRoyalbetArtemisbetArtemisbet girişArtemisbetEnbetEnbet girişEnbetVegabetVegabet girişVegabetPolobetPolobet girişPolobetBetwildBetwild girişBetwildMaxwinMaxwin girişMaxwinTarafbetTarafbet girişTarafbetBetpuanBetpuan girişBetpuanBetplayBetplay girişBetplayLunabetLunabet girişLunabetBetgarantiBetgaranti girişBetgarantiVaycasinoVaycasino girişVaycasinoTambetTambet girişTambetPusulabetPusulabet girişPusulabetikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmovebetsmovebetsmove girişbetsmovebetsmovebetsmove girişbetsmoverealbahisrealbahis girişrealbahisrealbahisrealbahis girişrealbahisrealbahisrealbahis girişrealbahislivebahislivebahis girişlivebahislivebahislivebahis girişlivebahislivebahislivebahis girişlivebahissmartbahissmartbahis girişsmartbahissmartbahissmartbahis girişsmartbahissmartbahissmartbahis girişsmartbahisikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmoveikimisliikimisli girişikimislitophillbettophillbet giriştophillbetmislibetmislibet girişmislibetikimisliikimisli girişikimisliikimisliikimisli girişikimislibetsmovebetsmove girişbetsmovebahislionbahislion girişbahislionbahislionbahislion girişbahisliontophillbettophillbet giriştophillbetmislibetmislibet girişmislibet
Tuesday, September 8, 2026
গল্পফিচার নিউজশিল্প-সাহিত্য

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৯)

মুহসীন মোসাদ্দেক

(পূর্ব প্রকাশের পর)

মুহূর্তের জন্য সবাই মনে করেছিল, সুরুজের আমন্ত্রণে সত্যিই বুঝি ভূতেরা এসে হাজির হলো! কিন্তু পরমুহূর্তেই সে ভাবনা নাকচ হয়ে যায়। ভূতেরা নিশ্চয় টর্চ জ্বালিয়ে আসবে না!
লাবুরা সবাই পাশের একটা ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। একপাশের দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়ে। ভয়ে নাকি কেউ এ বাড়ির ধারেকাছেও ঘেঁষে না, তবে এত রাতে ভূতের বাড়িতে কারা আসছে!
সুরুজ ফিসফিস করে বলে, ‘ঘটনা কী? কারা আসতিছে?’
লাবুও ফিসফিস করে বলে, ‘অন্তত ভূতেরা নয়!’
সুরুজ বিরক্ত হয়ে বলে, ‘আরে! সেইটা তো বুঝছি। মানুষই আসতিছে! কিন্তু এত রাইতে ওদের কী কাম ভূতের বাড়িতে!’
রুবেল যোগ করে, ‘ভয়ে নাকি কেউ এই বাড়ির ধারেকাছেও ভেড়ে না, এই লোকগুলা এত রাইতে কী করবো এই বাড়িতে!’
‘হুম, সেটাই তো বিস্ময়! নিশ্চয় কোনো ঘটনা আছে। আমাদের মতো এমনি এমনি নিশ্চয় আসছে না! এবং সম্ভবত আজই প্রথম ওরা এখানে আসছে না। নিয়মিতই আসা-যাওয়া করে মনে হয়। সবাই চুপচাপ বসে থাক, কোনো শব্দ যেন না হয়। এখনই বোঝা যাবে ঘটনা কী।’
সবাই চুপচাপ বসে থাকে। এতক্ষণ উৎকণ্ঠা-উত্তেজনা ছিল একরকম, আর এখন সেটা আরেক রকম। ভূতের বাড়ি যে আসলেই আর ভূতের বাড়ি নেই—সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়!
ঠিক কয়জন আছে ওরা, বোঝা যায় না। তবে স্পষ্টভাবে একাধিক গলার আওয়াজ পাওয়া যায়। এবং সে আওয়াজ আরো স্পষ্ট হতে থাকে। লাবুরা যে ঘরে আছে ঠিক সে ঘরের পাশেই যেন ওরা আসে। ঘরটায় কোনো জানালা নেই। এমনিতেই খুব গরম পড়ছে কয়দিন, এই ঘরে আরো বেশি গরম। সবাই খুব দ্রুতই ঘেমে যেতে থাকে। তার সাথে উৎকট গন্ধটা তো আছেই। এর মধ্যে লোকগুলো ঠিক ঘরের পাশেই এসে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে চরম অস্বস্তিকর অবস্থা লাবুদের।
‘গেরামের মানুষগুলা কী রকম বেকুব! ভূতের বাড়ি বইলা এই বাড়ির ধারেকাছে ভিড়তে চায় না। আর দেখেন কী কারবার, এই বাড়িটাই কোটি কোটি টাকার খনি!’ বাইরে থেকে কোনো একজন বলে।
‘আমিও তো পরথমে বিশ্বাস করি নাই। আসতেই চাই নাই এইখানে। ওস্তাদের ভরসায় আইসা কয়দিন ঘুরতেই খনি বাহির হইয়া গেলো।’ অন্য একজন বলে।
কণ্ঠ দুইটা চেনা চেনা লাগে লাবুদের! কোথায় যেন শুনেছে এ কণ্ঠ দুটো, মনে করতে পারে না।
‘কিন্তু বসির ভাই, এইসব মূর্তি-টুর্তি নিয়া বৈদেশিরা কী করবো?’
এ কণ্ঠ চেনা লাগে না, আগের দুইজনের কেউ বলে নি একথা, তৃতীয় একজন বলে।
‘আরে পাগলা, বৈদেশে এইগুলার ম্যালা দাম! আমরা যা পাইতেছি তার চাইতেও কয়েকগুণ বেশি দাম!’
দ্বিতীয়তে যে কথা বলেছিল সে জবাব দেয়, সম্ভবত সে-ই বসির ভাই!
‘তাইলে আমরা আরো বেশি দামে বেচতেছি না ক্যান ভাই?’ এই কথাটা প্রথমজন বলে।
দ্বিতীয়জন, যে কিনা বসির ভাই হতে পারে, সে বলে, ‘এর চেয়ে বেশি দামে ওরা নিবো না! ওরাও ওদের চাইতে উপর লেবেলের কারো কাছে বেইচা দিবো। এইভাবে হাত বদল হইতে থাকবো আর দাম বাড়তে থাকবো। আমরা তো আর সরাসরি বৈদেশে যাইয়া বৈদেশি গো কাছে বেচতে পারবো না। সেইটা সম্ভব না। আমগো দেশে যেমন দাম আমগোরে সেই দামেই বেচতে হইবো।’
‘আইচ্ছা বসির ভাই, বৈদেশিরে এইখানে নিয়া আসা হইলো না ক্যান?’ তৃতীয়জন বলে।
‘তুই এই লাইনে নতুন তাই এইরকম উল্টাপাল্টা কথা বলতেছিস।’ দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর মতো শব্দ হয়, সম্ভবত সিগারেট ধরায় লোকটা, তারপর বলে, ‘শোন, বৈদেশিরে এই জায়গা চেনান যাইবো না। ওরা ম্যালা বুদ্ধিমান, ক্ষেমতাও বহুত। একবার জায়গাটা চিন্না ফেললে আমগোরে যেকোনো সময় টেক্কা দিবার পারে! তাই তারে এইখানে আনা হয় নাই। বুঝতে পারছোস মাসুম?’
কথাগুলো দ্বিতীয়জন বলে। এবার মোটামুটি নিশ্চত হওয়া যায় যে দ্বিতীয়জনের নামই বসির এবং সম্ভবত সে বয়সে বড়। আর প্রশ্নটা যেহেতু তৃতীয়জন করেছিল, সুতরাং তার নাম মাসুম।
‘জে ভাই, বুঝছি।’ মাসুম বলে।
সিগারেটের গন্ধ ঘরের ভেতরে আসে, লাবুদের অস্বস্তি আরো বাড়ে তাতে। লাবুরা অবশ্য এখনো বুঝতে পারে না, কীভাবে এই ভূতের বাড়ি কোটি কোটি টাকার খনি হলো। আর মূর্তি-টুর্তির ব্যাপারটাই বা কী?
একটু কী চিন্তা করে মাসুম আবার বলে, ‘কিন্তু বসির ভাই, সেইদিন আপনি আর কিবরিয়া যে বৈদেশিরে নিয়া আসছিলেন দেখাইতে!’
‘আরে বেকুব! সেইদিন নৌকায় কইরা বৈদেশিরে দেখাইতে আনছিলাম ঠিকই, কিন্তু এই গেরামে আনি নাই। এই গেরাম থেইকা পাঁচ মাইল দূরের একটা গেরামের ভাঙাচোরা একটা বাড়ি দেখাইছি।’ প্রথমজন বলে, তাহলে তার নাম কিবরিয়া।
‘তাইলে আইজ যে এই গেরামের নদীর ঘাটে ওস্তাদের লগে বইসা অপেক্ষা করতিছে!’ মাসুমের কৌতূহল দূর হয় না!
কিবরিয়া একটু উত্তেজিত ভঙ্গিতে বলে, ‘মাল তো সব এইখানে! এইখান থেইকা পাঁচ মাইল দূরে মাল টাইনা নিয়া যাবো! বৈদেশিরে তাই কইছি, ওই গেরামে লেনদেন নিরাপদ না। এই গেরামে মাল আইনা রাখছি। এইখান থেইকাই নিয়া যাওয়া লাগবো!’
‘ও। হেব্বি খেল তো!’ মাসুম সব বুঝে ফেলেছে এমন ভাব করে।
বসির ভাই ধমকে ওঠে, ‘তোরা বেশি বকবক করতেছিস! এইবার চুপ যা তো! মাল বাহির কইরা আন। বেশি দেরি করলে ওস্তাদ আবার খেইপা উঠবো!’
‘আরে! কুদ্দুস তো মনে হয় ঝিমাইতিছে!’ ধমকে ওঠে কিবরিয়া, ‘ওই কুদ্দুস, ওই! ঝিমাস ক্যান? উইঠা দাঁড়া!’
লাবুরা ভেবেছিল এইখানে তিনজনই আছে। কিন্তু চতুর্থ একটি নাম এবং কণ্ঠের উপস্থিতি পাওয়া গেলো, ‘ঝিমাইতিছি না তো! এমনিই চোখ বুইঞ্জা আছি!’
কিবরিয়া তাচ্ছিল্য করে বলে, ‘হ, তুমি তো এমনিই চোখ বুইঞ্জা থাকো! ঘুমাই তো খালি আমরা!’
মাসুম কিছুটা অনুনয় করে বললো, ‘আরেকখান কথা জানতে মন চাইতিছে বসির ভাই, কবো?’
‘কী কইবি, জলদি কইয়া ফেলা।’ বসির ভাইয়ের অনেক তাড়া মনে হয়।
‘কেমনে এই বাড়ির খনি বাহির করলেন সেইটা জানতে মন চাইতিছে আর কী।’
‘শোন মাসুম, তুই আমগো লগে নতুন। নতুন কাউরে এসব গোপন কথা কওয়া যায় না। বৈদেশিরেও আসল বিষয় জানান হয় নাই। তাও তোরে ছোট ভাই মনে কইরা কইতেছি। তয় কান খুইলা শুইনা রাখ, বাইরের কাউরো সামনে যদি কোনোদিন কিছু ফাঁস করছিস তাইলে কিন্তু খবর আছে! এই লাইন সম্পর্কে তুই জানোস না। কোনোদিন যদি এইরকম কিছু ঘটে তাইলে কিন্তু তোর লাশ পইড়া যাইবো!’
‘আপনে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন বসির ভাই, আমার পেট থেইকা কোনো কথাই বাহির হইবো না। পেটের উপর উইঠা লাফালাফি করলেও না!’
‘তাইলে শোন—এই বাড়ি যে দুইতলা দেখছোস, আসলে এইটা দুইতলা না। মাটির নিচের আরো তলা আছে। আমরা দুইতলা পর্যন্ত যাইতে পারছি। মনে হয় নিচে আরো এক-দুই তলা আছে। কিন্তু কোনো তলার সাথে কোনো তলার সম্পর্ক নাই। এই তলা থেইকা উপর তলার যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই, তেমনি নিচের দিকের তলাগুলাতেও একই কাহিনি। এইটার কোনো কারণ বাহির করতে পারি নাই। কিন্তু এই কারণেই সন্দেহ হয়, নিশ্চয় এইখানে কোনো ঘটনা আছে। তারপর পশ্চিম দিকের কোণার একটা ঘরের মেঝে খুঁইড়া দেখি নিচেও ঘর আছে। মই লাগাইয়া আমরা নিচে গেছি। ওই তলাতেও বিশেষ কিছু পাই নাই। আবার আরেকটা ঘর খুঁইড়া নিচে যাইয়া দেখি—একগাদা মূর্তি, পুঁতির মালা, সোনা-রূপার মোহর আরো ম্যালা কিছু। পুঁতির মালার এখন আর দাম নাই। সোনা-রূপার মোহরগুলা দিয়া এখনো কারবার শুরু করি নাই। ওস্তাদ খবর নিয়া জানছে, মূর্তিগুলার ম্যালা দাম। আপাতত তাই মূর্তি নিয়াই কাম চলতিছে। বহুত রিস্কের কাম! তারপরও বহুত মূর্তি বেইচা দিছি। আর কয়েক বছর ঠিকমতো কাম করবার পারলে আর দেখন লাগবো না! আমরা এক একজন বিরাট বড়লোক হইয়া যাবো! খুব বেশি লোক এইজন্য নিয়া যাইবো না। ভাগ-বাটোয়ারায় ঝামেলা হইবো। তোরাও কাউরে কইবি না। কইবি তো ভাগ কইম্মা যাইবো!’
‘আর কাউরে কই! কাম-কাইজ নাই!’ মাসুম বসির ভাইকে আশ্বস্ত করে। তারপর আবার বলে, ‘তা বসির ভাই, কে আগে এইটা বাহির করছে? আপনে না ওস্তাদ?’
‘ওস্তাদ বাহির করছে। সে এক বিরাট ইতিহাস। পাশের গেরামে ডাকতি করতে আইসা ওস্তাদ প্রায় ধরা পইড়া যাইতেছিল! তারপর তাড়া খাইয়া কোনোমতে এই বাড়িত আইসা ঢুকছিল। কেউ বুঝতে পারে নাই, কেউ সন্দেহও করে নাই। পায়ে গুলি লাগছিল। এইখানে দুইদিন পইড়া ছিল। তখনই বাড়িটা নিয়া সন্দেহ হইছে ওস্তাদের। তারপর আমারে নিয়া বাকি কাম সারছে।’
‘বাহ! বিপদ থেইকা একেবারে বিরাট খনির সন্ধান!’
‘যেহেতু এই বাড়িতে কেউ আসে না সেহেতু আমগো কাজ করতে কোনো অসুবিধাই হয় নাই! আমরা রাইতের বেলা ছাড়া এইখানে আসি না। তোরাও খবরদার দিনের বেলা নিজে নিজে আইবি না!’
সবাই মনে হয় সম্মতিসূচক ইশারা দেয়।
লাবুরা সব শোনে। এবং পুরো ঘটনা বুঝে ফেলে। এরা বিরাট চোরাকারবারি। পুরনো আমলের এই বাড়ির মতো খনি থেকে এরা মূর্তির সন্ধান পেয়ে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করছে মোটা অঙ্কের টাকায়! ভূতের বাড়ি আসলে এখন বিরাট একটা খনি!
অনেকক্ষণ থেকে লাবুরা একভাবে বসে আছে। এবং কান পেতে সব কথা শুনছে। পরিস্থিতি এমন যে ওদের মনে হয় ওরা এখন ভিন্ন একটা জগতে বাস করছে। চারপাশ অন্ধকার, উৎকট গন্ধ, প্রচণ্ড গরম, ঘেমে একাকার অবস্থা এবং ওপাশ থেকে ভেসে আসা চেনা-অচেনা কণ্ঠ, সেই কণ্ঠগুলো থেকে উদ্ঘাটিত হয় বিশাল এক রহস্যের—সবমিলিয়ে আসলেই ভিন্ন একটা জগৎ যেন!
লাবু মনে মনে ছক কষে ফেলে। এরা এখান থেকে বেরিয়ে গেলে লাবুরা দুইটা দলে ভাগ হয়ে যাবে। একদল এদের পিছু নেবে আর একদল বড় কাউকে নিয়ে পুলিশে খবর দেবে। যেভাবেই হোক এদের ধরতে হবে। দেশের মূল্যবান সম্পদ নিয়ে এরা খেলছে, এদের একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।
বসির ভাই তাগাদা দেয়, ‘বইসা থাকলি ক্যান! যা, তাড়াতাড়ি মালগুলা নিচ থেইকা নিয়া আয়।’
কাকে বলে নির্দিষ্ট করে ঠিক বোঝা যায় না। সম্ভবত কিবরিয়া, মাসুম এবং কুদ্দুসকে একসাথে বলে এবং ওরা উঠে দাঁড়ায়। আর ঠিক তখনই ঘটে গেলো ঘটনাটা!
লাবুরা অনেকক্ষণ থেকে একভাবে বসে একদিকে মনোযোগ দিয়ে রেখেছিল, এবং অনেকটা অন্যজগতে চলে গিয়েছিল! তাই হঠাৎ যখন একটা তেলাপোকা বা এইরকম কিছু টিপুর পায়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যায় তখন সে ভয় পেয়ে চমকে ওঠে এবং ছোটখাটো একটা চিৎকার দেয়। সেইসাথে তার হাত থেকে টর্চ লাইটটা পড়ে গিয়ে অন্ধকার নিস্তব্ধ ঘরটা থেকে বেশ বিকট একটা আওয়াজ উৎপন্ন হয়!
লাবুরা তো বটেই সম্ভবত ভয় পেয়ে থমকে যায় বাইরের চারজনও!

(চলবে)

পূর্ববর্তী পর্বসমূহ:

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৮)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ০৯)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১০)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১১)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১২)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৩)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৪)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৫)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৬)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৭)

ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস: লাবুদের দস্যিপনা (পর্ব ১৮)

লেখক পরিচিতি
মুহসীন মোসাদ্দেক
জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮; রাজশাহী, বাংলাদেশ। ২০১০ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ঘন অন্ধকারের খোঁজে’ এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘ঘি দেয়া গরম ভাত আর চিতল মাছের পেটি’। মাঝে ২০১৩ সালে কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘মগডাল বাহাদুর’ প্রকাশিত হয়। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর এমবিএ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষায়। বর্তমানে স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন। বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতি চললেও লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে দুরন্তপনার গল্পগুলো। লেখকের কৈশোর জীবন তুমুল দুরন্তপনায় কেটেছে এমনটা নয়, তবু বেশ রঙিন এক কৈশোর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। রঙিন সে জীবনে ফিরে যাবার সুযোগ না থাকায় খুব আফসোস হয়। এ আফসোস ঘোচাতেই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ফিরিয়ে নিয়ে যান কৈশোরে আর দুরন্তপনায় মেতে ওঠেন ইচ্ছেমতো। প্রত্যাশা কেবল এতটুকুই, কিছু উপযুক্ত পাঠক সঙ্গী হোক তার লেখার এ দুরন্ত জীবনে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
WordPress Workshop Image Hotspot and Tooltip for WPBakery Page Builder Image Hover Effects for Avada Builder Image Hover Elements for Elementor Image Magnify WordPress Plugin Image Map HotSpot with Lightbox WordPress Plugin Image Map Pro for WordPress | Interactive Image Map Builder Image Overlay Addon For Elementor Image Showcase for Cornerstone Image Slider Plugin For WordPress Image Toggle – Addon for WPBakery Page Builder